লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন হুমকির মুখে যুক্তরাজ্য ছাড়ল মার্কিন বোমারু বিমান

অজ্ঞাত একটি নতুন নিরাপত্তা হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যে মোতায়েন থাকা সব দূরপাল্লার মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে অবস্থানরত বিমানগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সাধারণত নিরাপত্তাঝুঁকি দেখা দিলে মার্কিন বাহিনী বোমারু বিমানগুলো ওই অঞ্চলের অন্য কোনো ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়, তবে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক বলে ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন। তবে ঠিক কী ধরনের হুমকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এই ঘটনাটিকে 'বাস্তব হুমকি' হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি মার্কিন গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এর আগে এখান থেকে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান পরিচালনা করা হচ্ছিল, যা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। এদিকে, এই বিমান সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটল যখন ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ঘিরে একটি কথিত ষড়যন্ত্রের তদন্ত চলছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পুলিশ সন্ত্রাসবাদ ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল, যারা লন্ডন এলাকার বাসিন্দা। পরবর্তীতে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তাদের ব্যবহৃত তিনটি ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি, তবে তারা এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছেন। এই পাঁচজনকে দ্রুত জামিনে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তদন্তের পরবর্তী ধাপে, গত বৃহস্পতিবার কথিত এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার 'জোরালো ইঙ্গিত' রয়েছে, তবে তদন্ত এখনো চলমান। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে, এই ষড়যন্ত্রে কোনো বিদেশি পক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, যদিও তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি। তবে তেহরান এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ঘটনাপ্রবাহ এবং বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জায়নবাদকে বর্ণবাদ ঘোষণা করল ব্রিটেনের গ্রিন পার্টি

নতুন হুমকির মুখে যুক্তরাজ্য ছাড়ল মার্কিন বোমারু বিমান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

অজ্ঞাত একটি নতুন নিরাপত্তা হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যে মোতায়েন থাকা সব দূরপাল্লার মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে অবস্থানরত বিমানগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সাধারণত নিরাপত্তাঝুঁকি দেখা দিলে মার্কিন বাহিনী বোমারু বিমানগুলো ওই অঞ্চলের অন্য কোনো ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়, তবে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক বলে ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন। তবে ঠিক কী ধরনের হুমকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এই ঘটনাটিকে 'বাস্তব হুমকি' হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি মার্কিন গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এর আগে এখান থেকে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান পরিচালনা করা হচ্ছিল, যা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। এদিকে, এই বিমান সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটল যখন ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ঘিরে একটি কথিত ষড়যন্ত্রের তদন্ত চলছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পুলিশ সন্ত্রাসবাদ ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল, যারা লন্ডন এলাকার বাসিন্দা। পরবর্তীতে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তাদের ব্যবহৃত তিনটি ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি, তবে তারা এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছেন। এই পাঁচজনকে দ্রুত জামিনে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তদন্তের পরবর্তী ধাপে, গত বৃহস্পতিবার কথিত এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার 'জোরালো ইঙ্গিত' রয়েছে, তবে তদন্ত এখনো চলমান। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে, এই ষড়যন্ত্রে কোনো বিদেশি পক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, যদিও তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি। তবে তেহরান এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ঘটনাপ্রবাহ এবং বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।