লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নির্বাচনের আগে সহিংসতায় ৪০ জনের প্রাণহানি

পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আসন্ন আইনসভা নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং ৬ জন পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। রাওয়ালাকোট এলাকায় সহিংসতার সময় শিক্ষা বিভাগের কর্মী নাকাশ জারদাদ নিজের মহিষের খামারে থাকা অবস্থায় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে নিহত হন। তাঁর চাচা আলতাফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খামারের চারপাশের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জারদাদ বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না, এমন সময় গোলাগুলির মধ্যে তিনি প্রাণ হারান।

অধিকারকর্মী গোষ্ঠীগুলোর জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য স্থানীয় আইনসভায় বরাদ্দ ১২টি আসন বাতিলের দাবিতে লংমার্চ ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে। যদিও জেএএসির দাবি, তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

এই অঞ্চলে আইনসভার ৫৩টি আসনের মধ্যে ৩৩টি সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়। আটটি আসন নারী ও অন্যদের জন্য সংরক্ষিত। ১৯৭০-এর দশকে ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে আসা শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন বরাদ্দের নিয়মটি চালু করা হয়েছিল, যাতে বিরোধ মিটে গেলে তাঁরা নিজ দেশে ফিরতে পারেন এবং শাসনব্যবস্থায় কথা বলার সুযোগ পান। কিন্তু বর্তমানে যাঁদের জন্য আসনগুলো সংরক্ষিত, তাঁদের অনেকেই পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে থাকেন না, যার ফলে স্থানীয়দের প্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২১ সালের সর্বশেষ আইনসভা নির্বাচনে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। যদিও ২০২২ সালে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে দলটি ক্ষমতাচ্যুত হয়। এর পর থেকে এই অঞ্চলে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে চারজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে। এবারের নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে আগে থেকে বলা বেশ কঠিন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচন তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে, যার প্রথম ধাপ শুরু হবে ২৭ জুলাই।

মুজাফফরাবাদসহ পুরো এলাকায় এখন থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রার্থীরা হয়রানির ভয়ে সীমিত পরিসরে প্রচার চালাচ্ছেন। পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রার্থী নরিন আরিফ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা সরদার মুখতার খান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ও অস্থিরতার কারণে তাঁরা জনসভার বদলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কাশ্মীরবিষয়ক মন্ত্রী আমির মুকাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচনকে ‘একমাত্র সমাধান’ বলে মনে করলেও, মুজাফফরাবাদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান জাহিদ আমিনের মতে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক এই প্রাণহানির ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং জেএএসিকে নিষিদ্ধ করার সমালোচনা করেছেন। ভারত এই সহিংসতার জন্য পাকিস্তানের কাঠামোগত শোষণকে দায়ী করেছে, যা ইসলামাবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সমালোচনা করে সাধারণ মানুষকে শাস্তি না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং একটি ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মানদণ্ড নিয়ে উদ্বেগ এইচআরডব্লিউর

পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নির্বাচনের আগে সহিংসতায় ৪০ জনের প্রাণহানি

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:২০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আসন্ন আইনসভা নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং ৬ জন পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। রাওয়ালাকোট এলাকায় সহিংসতার সময় শিক্ষা বিভাগের কর্মী নাকাশ জারদাদ নিজের মহিষের খামারে থাকা অবস্থায় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে নিহত হন। তাঁর চাচা আলতাফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খামারের চারপাশের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জারদাদ বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না, এমন সময় গোলাগুলির মধ্যে তিনি প্রাণ হারান।

অধিকারকর্মী গোষ্ঠীগুলোর জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য স্থানীয় আইনসভায় বরাদ্দ ১২টি আসন বাতিলের দাবিতে লংমার্চ ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে। যদিও জেএএসির দাবি, তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

এই অঞ্চলে আইনসভার ৫৩টি আসনের মধ্যে ৩৩টি সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়। আটটি আসন নারী ও অন্যদের জন্য সংরক্ষিত। ১৯৭০-এর দশকে ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে আসা শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন বরাদ্দের নিয়মটি চালু করা হয়েছিল, যাতে বিরোধ মিটে গেলে তাঁরা নিজ দেশে ফিরতে পারেন এবং শাসনব্যবস্থায় কথা বলার সুযোগ পান। কিন্তু বর্তমানে যাঁদের জন্য আসনগুলো সংরক্ষিত, তাঁদের অনেকেই পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে থাকেন না, যার ফলে স্থানীয়দের প্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২১ সালের সর্বশেষ আইনসভা নির্বাচনে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। যদিও ২০২২ সালে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে দলটি ক্ষমতাচ্যুত হয়। এর পর থেকে এই অঞ্চলে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে চারজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে। এবারের নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে আগে থেকে বলা বেশ কঠিন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচন তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে, যার প্রথম ধাপ শুরু হবে ২৭ জুলাই।

মুজাফফরাবাদসহ পুরো এলাকায় এখন থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রার্থীরা হয়রানির ভয়ে সীমিত পরিসরে প্রচার চালাচ্ছেন। পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রার্থী নরিন আরিফ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা সরদার মুখতার খান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ও অস্থিরতার কারণে তাঁরা জনসভার বদলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কাশ্মীরবিষয়ক মন্ত্রী আমির মুকাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচনকে ‘একমাত্র সমাধান’ বলে মনে করলেও, মুজাফফরাবাদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান জাহিদ আমিনের মতে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক এই প্রাণহানির ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং জেএএসিকে নিষিদ্ধ করার সমালোচনা করেছেন। ভারত এই সহিংসতার জন্য পাকিস্তানের কাঠামোগত শোষণকে দায়ী করেছে, যা ইসলামাবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সমালোচনা করে সাধারণ মানুষকে শাস্তি না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং একটি ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।