লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্ঘটনায় পঙ্গু, চিকিৎসার টাকা নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীর পালানো

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের ছানা মিয়া (৪২) এক বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় হাঁটার ক্ষমতা হারিয়েছেন। ২০২২ সালে বিদ্যুতের পোল থেকে পড়ে তাঁর মেরুদণ্ডে আঘাত লাগে, ফলে দুই পা অচল হয়ে যায়। এরপর থেকে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে হচ্ছে তাঁকে। কর্মক্ষম ইলেকট্রিক মিস্ত্রি থেকে অসহায় হয়ে পড়লেও উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।

চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিনের কষ্টে জমানো অর্থের পাশাপাশি নিজের দুটি গরু বিক্রি করে প্রায় ৩ লাখ টাকা জমিয়েছিলেন ছানা মিয়া। ভারতে উন্নত চিকিৎসার আশায় প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। সংসারের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে স্ত্রীকে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কারও তৈরি করে দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

কিন্তু সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ হলে ঘটে যায় বিপর্যয়। ছানা মিয়ার অভিযোগ, গত ১৫ আগস্ট সকালে তাঁকে হুইলচেয়ারে অসহায় অবস্থায় ঘরে একা রেখে স্ত্রী মেরিনা বেগম অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে যান। এ সময় চিকিৎসার জন্য জমানো ৩ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, নতুন জামাকাপড় এবং জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্ত্রী চলে যাওয়ার পর ৮ বছরের সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ছানা মিয়া। শারীরিক অক্ষমতার কারণে নিজে চলাফেরা ও কাজ করতে না পারায় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও মেরিনা বেগমের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে কোনো উপায় না পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ছানা মিয়া।

ছানা মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই অনেক কষ্টে জীবন চালিয়ে আসছেন তিনি। চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় যে অর্থ জমিয়েছিলেন, তা হারিয়ে এখন তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। স্ত্রী ও তাঁর সঙ্গে চলে যাওয়া সম্পদের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু প্রতিকার চান তিনি।

একদিকে শারীরিক অক্ষমতা, অন্যদিকে চিকিৎসার শেষ সম্বল হারানোর অভিযোগ—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছেন ছানা মিয়া। তাঁর প্রত্যাশা, ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাঁর ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার সুযোগ তৈরি হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্ঘটনায় পঙ্গু, চিকিৎসার টাকা নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীর পালানো

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের ছানা মিয়া (৪২) এক বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় হাঁটার ক্ষমতা হারিয়েছেন। ২০২২ সালে বিদ্যুতের পোল থেকে পড়ে তাঁর মেরুদণ্ডে আঘাত লাগে, ফলে দুই পা অচল হয়ে যায়। এরপর থেকে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে হচ্ছে তাঁকে। কর্মক্ষম ইলেকট্রিক মিস্ত্রি থেকে অসহায় হয়ে পড়লেও উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।

চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিনের কষ্টে জমানো অর্থের পাশাপাশি নিজের দুটি গরু বিক্রি করে প্রায় ৩ লাখ টাকা জমিয়েছিলেন ছানা মিয়া। ভারতে উন্নত চিকিৎসার আশায় প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। সংসারের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে স্ত্রীকে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কারও তৈরি করে দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

কিন্তু সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ হলে ঘটে যায় বিপর্যয়। ছানা মিয়ার অভিযোগ, গত ১৫ আগস্ট সকালে তাঁকে হুইলচেয়ারে অসহায় অবস্থায় ঘরে একা রেখে স্ত্রী মেরিনা বেগম অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে যান। এ সময় চিকিৎসার জন্য জমানো ৩ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, নতুন জামাকাপড় এবং জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্ত্রী চলে যাওয়ার পর ৮ বছরের সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ছানা মিয়া। শারীরিক অক্ষমতার কারণে নিজে চলাফেরা ও কাজ করতে না পারায় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও মেরিনা বেগমের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে কোনো উপায় না পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ছানা মিয়া।

ছানা মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই অনেক কষ্টে জীবন চালিয়ে আসছেন তিনি। চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় যে অর্থ জমিয়েছিলেন, তা হারিয়ে এখন তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। স্ত্রী ও তাঁর সঙ্গে চলে যাওয়া সম্পদের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু প্রতিকার চান তিনি।

একদিকে শারীরিক অক্ষমতা, অন্যদিকে চিকিৎসার শেষ সম্বল হারানোর অভিযোগ—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছেন ছানা মিয়া। তাঁর প্রত্যাশা, ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাঁর ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার সুযোগ তৈরি হবে।