লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস: জন্মনিয়ন্ত্রণে পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি এগিয়ে

২০২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর (2026) বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির ব্যবহারে নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণের এক অসম চিত্র উঠে এসেছে। দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রধান দায়িত্বটি এখনো মূলত নারীদের কাঁধেই রয়ে গেছে। আধুনিক সাতটি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মধ্যে নারীরা পাঁচটি পদ্ধতি ব্যবহার করছেন, যার বিপরীতে পুরুষদের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি পদ্ধতি—কনডম ও ভ্যাসেকটমি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে পুরুষদের কনডম ব্যবহারের হার মাত্র ৭ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রায় ৬৩ শতাংশ নারী জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। চিকিৎসকরা জানান, নারীদের ব্যবহৃত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলোর কোনোটিই সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত নয়, যার কারণে তারা শারীরিক ও মানসিক নানা সংকটে ভোগেন। এর বিপরীতে পুরুষদের জন্য তৈরি কনডমের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি অত্যন্ত সহজলভ্য ও সহজে ব্যবহারযোগ্য। চিকিৎসকদের মতে, জন্মনিয়ন্ত্রণ একটি যৌথ দায়িত্ব, যা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই হতে পারে না।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস। এ বছর দিবসটির মূল বার্তা হলো—‘গর্ভনিরোধের ক্ষেত্রে বাধা নয়, প্রয়োজন ইনফরমড চয়েজ এবং সহজলভ্যতা’। অর্থাৎ প্রতিটি নারী ও পুরুষ যেন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ও উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে। উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশে এই দিবসটি নিয়মিত পালিত ও প্রচারিত হয়ে আসছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে প্রচারিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলোর মধ্যে দুটি বাদে বাকি সবগুলোই নারীদের জন্য তৈরি। আধুনিক সাতটি পদ্ধতির মধ্যে নারীদের জন্য রয়েছে খাবার বড়ি বা পিল, ইনজেকশন, কপারটি আইইউডি, চামড়ার নিচে বসানো ক্যাপসুল বা ইমপ্ল্যান্ট এবং সিজারারি বা টিউব লিগেশন। এদিকে দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মোট চাহিদার মাত্র ৩৭ শতাংশ সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয়। বাকি ৬০ শতাংশ বেসরকারি খাত এবং ৩ শতাংশ এনজিওগুলো সরবরাহ করে থাকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫-৪৯ বছর বয়সের ৬৩.৩ শতাংশ বিবাহিত নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। বিবাহিত নারীদের মধ্যে6২.৩ শতাংশ আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন এবং মাত্র ১ শতাংশ নারী সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। বয়স ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০-২৪ এবং ৩০-৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ৬৭.৩ শতাংশ। এর মধ্যে ৩০-৩৪ বছর বয়সের নারীদের ক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার সর্বোচ্চ ৬৮.২ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ নারী গর্ভনিরোধের প্রয়োজন অনুভব করলেও তাদের মধ্যে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ নারী এখনো কোনো নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ পান না। এর ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভাবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ প্রসব এবং মাতৃমৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস মূলত এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে কাজ করে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মুনিরা ফেরদৌসী জানান, কনডম প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। একই সঙ্গে এটি যেকোনো ধরনের প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ ও যৌনবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। অথচ পুরুষদের মধ্যে কনডম ব্যবহারের আগ্রহ অত্যন্ত কম। তিনি আরও বলেন, কার্যকর পরিবার পরিকল্পনা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে গর্ভপাতের হার কমায় এবং কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের প্রজনন স্বাস্থ্যের যত্ন নিয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়গঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এমপি আয়নুল হকের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস: জন্মনিয়ন্ত্রণে পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি এগিয়ে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৪:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর (2026) বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির ব্যবহারে নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণের এক অসম চিত্র উঠে এসেছে। দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রধান দায়িত্বটি এখনো মূলত নারীদের কাঁধেই রয়ে গেছে। আধুনিক সাতটি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মধ্যে নারীরা পাঁচটি পদ্ধতি ব্যবহার করছেন, যার বিপরীতে পুরুষদের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি পদ্ধতি—কনডম ও ভ্যাসেকটমি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে পুরুষদের কনডম ব্যবহারের হার মাত্র ৭ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রায় ৬৩ শতাংশ নারী জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। চিকিৎসকরা জানান, নারীদের ব্যবহৃত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলোর কোনোটিই সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত নয়, যার কারণে তারা শারীরিক ও মানসিক নানা সংকটে ভোগেন। এর বিপরীতে পুরুষদের জন্য তৈরি কনডমের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি অত্যন্ত সহজলভ্য ও সহজে ব্যবহারযোগ্য। চিকিৎসকদের মতে, জন্মনিয়ন্ত্রণ একটি যৌথ দায়িত্ব, যা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই হতে পারে না।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস। এ বছর দিবসটির মূল বার্তা হলো—‘গর্ভনিরোধের ক্ষেত্রে বাধা নয়, প্রয়োজন ইনফরমড চয়েজ এবং সহজলভ্যতা’। অর্থাৎ প্রতিটি নারী ও পুরুষ যেন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ও উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে। উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশে এই দিবসটি নিয়মিত পালিত ও প্রচারিত হয়ে আসছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে প্রচারিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলোর মধ্যে দুটি বাদে বাকি সবগুলোই নারীদের জন্য তৈরি। আধুনিক সাতটি পদ্ধতির মধ্যে নারীদের জন্য রয়েছে খাবার বড়ি বা পিল, ইনজেকশন, কপারটি আইইউডি, চামড়ার নিচে বসানো ক্যাপসুল বা ইমপ্ল্যান্ট এবং সিজারারি বা টিউব লিগেশন। এদিকে দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মোট চাহিদার মাত্র ৩৭ শতাংশ সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয়। বাকি ৬০ শতাংশ বেসরকারি খাত এবং ৩ শতাংশ এনজিওগুলো সরবরাহ করে থাকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫-৪৯ বছর বয়সের ৬৩.৩ শতাংশ বিবাহিত নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। বিবাহিত নারীদের মধ্যে6২.৩ শতাংশ আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন এবং মাত্র ১ শতাংশ নারী সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। বয়স ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০-২৪ এবং ৩০-৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ৬৭.৩ শতাংশ। এর মধ্যে ৩০-৩৪ বছর বয়সের নারীদের ক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার সর্বোচ্চ ৬৮.২ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ নারী গর্ভনিরোধের প্রয়োজন অনুভব করলেও তাদের মধ্যে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ নারী এখনো কোনো নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ পান না। এর ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভাবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ প্রসব এবং মাতৃমৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস মূলত এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে কাজ করে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মুনিরা ফেরদৌসী জানান, কনডম প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। একই সঙ্গে এটি যেকোনো ধরনের প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ ও যৌনবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। অথচ পুরুষদের মধ্যে কনডম ব্যবহারের আগ্রহ অত্যন্ত কম। তিনি আরও বলেন, কার্যকর পরিবার পরিকল্পনা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে গর্ভপাতের হার কমায় এবং কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের প্রজনন স্বাস্থ্যের যত্ন নিয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে।