লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আকাশ থেকে যেন ঝরছে আগুন! তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত ঢাকার আশপাশ

আকাশ থেকে যেন ঝরছে আগুন! তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত ঢাকার আশপাশ

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার :

দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো ঢাকার চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জেঁকে বসেছে তীব্র দাবদাহ। সকাল গড়াতেই মাথার ওপর চড়তে থাকা সূর্য আর তপ্ত রোদে জনজীবন একেবারে ওষ্ঠাগত। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছে সর্বস্তরের মানুষ।

বিশেষ করে ঢাকার উপকণ্ঠ দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, সাভার ও ধামরাই এলাকায় গরমের তীব্রতা চরমে পৌঁছেছে।

বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ, দেখা দিচ্ছে পানিশূন্যতা

তীব্র গরম ও রোদের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে দুপুরে রাস্তাঘাটে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুর ও ভ্যানচালকদের কষ্ট এখন চরমে।

মাঠে কর্মরত কয়েকজন দিনমজুর ও রিকশাচালকের সাথে কথা বলে জানা যায়:

  • তীব্র গরমের কারণে তারা বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না।

  • একটু পরিশ্রম করলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ছে এবং দেখা দিচ্ছে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা

  • ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই রাস্তার পাশে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন কিংবা ক্ষণিকের স্বস্তির আশায় ঠান্ডা শরবতের দোকানে ভিড় করছেন।

“রোদের যে তেজ, মনে হচ্ছে আকাশ থেকে আগুন ঝরছে। আধা ঘণ্টা রিকশা চালালেই শরীর আর চলে না। বুক শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়।”

— সাভারের এক ভুক্তভোগী রিকশাচালক।

ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, ফাঁকা হচ্ছে রাস্তাঘাট

তীব্র এই গরমের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। দুপুরের দিকে রোদের তীব্রতা ও তাপমাত্রা এতই বেশি থাকে যে, রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকটাই কমে যাচ্ছে।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে দুপুরের দিকে স্থানীয় বাজার ও সড়কগুলোতে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে আসছে, যা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই চরম বিপাকে ফেলেছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ: হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

এদিকে গরমের তীব্রতা বাড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এমন তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি এড়াতে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।

চিকিৎসকদের প্রধান পরামর্শসমূহ:

১. জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করা।

২. শরীর ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা।

৩. চর্বিজাতীয় ও বাসি খাবার পরিহার করে রসালো ফলমূল খাওয়া।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে ৪ অভিবাসীর মৃত্যু

আকাশ থেকে যেন ঝরছে আগুন! তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত ঢাকার আশপাশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

আকাশ থেকে যেন ঝরছে আগুন! তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত ঢাকার আশপাশ

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার :

দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো ঢাকার চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জেঁকে বসেছে তীব্র দাবদাহ। সকাল গড়াতেই মাথার ওপর চড়তে থাকা সূর্য আর তপ্ত রোদে জনজীবন একেবারে ওষ্ঠাগত। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছে সর্বস্তরের মানুষ।

বিশেষ করে ঢাকার উপকণ্ঠ দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, সাভার ও ধামরাই এলাকায় গরমের তীব্রতা চরমে পৌঁছেছে।

বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ, দেখা দিচ্ছে পানিশূন্যতা

তীব্র গরম ও রোদের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে দুপুরে রাস্তাঘাটে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুর ও ভ্যানচালকদের কষ্ট এখন চরমে।

মাঠে কর্মরত কয়েকজন দিনমজুর ও রিকশাচালকের সাথে কথা বলে জানা যায়:

  • তীব্র গরমের কারণে তারা বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না।

  • একটু পরিশ্রম করলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ছে এবং দেখা দিচ্ছে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা

  • ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই রাস্তার পাশে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন কিংবা ক্ষণিকের স্বস্তির আশায় ঠান্ডা শরবতের দোকানে ভিড় করছেন।

“রোদের যে তেজ, মনে হচ্ছে আকাশ থেকে আগুন ঝরছে। আধা ঘণ্টা রিকশা চালালেই শরীর আর চলে না। বুক শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়।”

— সাভারের এক ভুক্তভোগী রিকশাচালক।

ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, ফাঁকা হচ্ছে রাস্তাঘাট

তীব্র এই গরমের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। দুপুরের দিকে রোদের তীব্রতা ও তাপমাত্রা এতই বেশি থাকে যে, রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকটাই কমে যাচ্ছে।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে দুপুরের দিকে স্থানীয় বাজার ও সড়কগুলোতে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে আসছে, যা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই চরম বিপাকে ফেলেছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ: হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

এদিকে গরমের তীব্রতা বাড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এমন তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি এড়াতে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।

চিকিৎসকদের প্রধান পরামর্শসমূহ:

১. জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করা।

২. শরীর ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা।

৩. চর্বিজাতীয় ও বাসি খাবার পরিহার করে রসালো ফলমূল খাওয়া।