লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকটের সঙ্গে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পেট্রোবাংলার

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের জেরে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন ও গৃহস্থালির রান্না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং, যা দিনে আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। এই চরম ভোগান্তির মধ্যেই বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে গ্যাসের দাম বড় অঙ্কে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পেট্রোবাংলা। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, আপাতত দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তা সরকারের নেই।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এটি পুরোপুরি চালু করতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এর আগেই টার্মিনালের অক্ষত বয়লারটি চালু করার চেষ্টা চলছে, যা সফল হলে দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এনে দেশীয় ও বিদেশি প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। আজ বা কালকের মধ্যে এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া থেকে বিশেষ আইএসও ট্যাংকারে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আলোচনা চললেও তা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় তাৎক্ষণিক সুফল মিলছে না।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার আগে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমানে এলএনজি থেকে সরবরাহ ১০৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমে মাত্র ৪৬ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ ২১১ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে, যা সামগ্রিক সংকটকে তীব্র করে তুলেছে। এর ফলে পেট্রোবাংলা ও ঢাকার গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাস গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। তিতাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকায় গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ থাকবে।

গ্যাসের এই তীব্র সংকটে ঢাকার মোহাম্মদপুর, আদাবর, নবোদয় হাউজিং ও তাজমহল রোডের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই দিন-রাত অপেক্ষা করেও রান্নার জন্য চুলায় গ্যাস পাচ্ছেন না। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা জেসমিন আকতার জানান, দিনে না পেয়ে রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি গ্যাস পাননি। নবোদয় হাউজিং এলাকায় দুই সপ্তাহ ধরে এবং তাজমহল রোডে পাঁচ দিন ধরে চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সুমাইয়া খান ও সালমা আকতার। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ভালুকার শিল্পকারখানাগুলো গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন সচল রাখতে পারছে না। অনেক কারখানা ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে, আবার কেউ কেউ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। বিকল্প হিসেবে অনেকে ডিজেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন।

গ্যাস সরবরাহ ২০ কোটি ঘনফুটের বেশি কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, গত বুধবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে এবং গতকাল বৃহস্পতিবার দিনেও ২ হাজার ৩৩০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে ও গ্রামাঞ্চলে এই ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। গ্যাস সংকটের কারণে মানুষ বিদ্যুৎ-চালিত চুলার দিকে ঝুঁকছে, যা বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে বেশি খরচের তেলচালিত কেন্দ্র চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই সংকটের মধ্যেই বিদ্যুৎ খাতে ৬৭ শতাংশ এবং পরিবহনের সিএনজিতে ৫১ শতাংশ গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য নীতিগত অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে পেট্রোবাংলা। এছাড়া ছয়টি বিতরণ সংস্থার চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তা সরকারের নেই। মানুষ গ্যাস-সংকটে আছে। হঠাৎ করে একটি টার্মিনালে কারিগরি দুর্ঘটনায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকার মানুষকে স্বস্তি দিতে গ্যাস সরবরাহ দ্রুত বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প উৎসের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দাম বাড়ানোর কোনো চিঠির কথা তিনি জানেন না বলেও উল্লেখ করেন।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে টানা চার মাস দ্বিগুণ দামে এলএনজি কিনতে গিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাদের ১৭ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। সরকার ১৪ হাজার ০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিলেও এখনও ৩ হাজার ২৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম প্রতি ইউনিট ২১ ডলারের বেশি, যা যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ে গড়ে ১১ ডলার ছিল। এর আগে ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলে গড়ে ৮২ শতাংশ এবং শিল্পে সর্বোচ্চ ১৭৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছিল, যদিও সরবরাহ বাড়েনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও শিল্পে গ্যাসের দাম ৩৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম পেট্রোবাংলার দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাবকে গণবিরোধী আচরণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, মানুষ বছরের পর বছর ভোগান্তির মধ্যে আছেন। গ্যাস দিতে না পারার কারণে উল্টো গ্রাহকদের গ্যাস বিলে ছাড় দেওয়া উচিত সরকারের।

এর মধ্যে সরকার থেকে ভর্তুকি দিয়েছে ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে বিয়ের বহরে অটোরিকশাচালকদের হামলা, পুলিশসহ আহত ১৫

গ্যাস সংকটের সঙ্গে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পেট্রোবাংলার

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের জেরে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন ও গৃহস্থালির রান্না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং, যা দিনে আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। এই চরম ভোগান্তির মধ্যেই বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে গ্যাসের দাম বড় অঙ্কে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পেট্রোবাংলা। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, আপাতত দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তা সরকারের নেই।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এটি পুরোপুরি চালু করতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এর আগেই টার্মিনালের অক্ষত বয়লারটি চালু করার চেষ্টা চলছে, যা সফল হলে দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এনে দেশীয় ও বিদেশি প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। আজ বা কালকের মধ্যে এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া থেকে বিশেষ আইএসও ট্যাংকারে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আলোচনা চললেও তা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় তাৎক্ষণিক সুফল মিলছে না।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার আগে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমানে এলএনজি থেকে সরবরাহ ১০৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমে মাত্র ৪৬ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ ২১১ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে, যা সামগ্রিক সংকটকে তীব্র করে তুলেছে। এর ফলে পেট্রোবাংলা ও ঢাকার গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাস গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। তিতাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকায় গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ থাকবে।

গ্যাসের এই তীব্র সংকটে ঢাকার মোহাম্মদপুর, আদাবর, নবোদয় হাউজিং ও তাজমহল রোডের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই দিন-রাত অপেক্ষা করেও রান্নার জন্য চুলায় গ্যাস পাচ্ছেন না। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা জেসমিন আকতার জানান, দিনে না পেয়ে রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি গ্যাস পাননি। নবোদয় হাউজিং এলাকায় দুই সপ্তাহ ধরে এবং তাজমহল রোডে পাঁচ দিন ধরে চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সুমাইয়া খান ও সালমা আকতার। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ভালুকার শিল্পকারখানাগুলো গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন সচল রাখতে পারছে না। অনেক কারখানা ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে, আবার কেউ কেউ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। বিকল্প হিসেবে অনেকে ডিজেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন।

গ্যাস সরবরাহ ২০ কোটি ঘনফুটের বেশি কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, গত বুধবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে এবং গতকাল বৃহস্পতিবার দিনেও ২ হাজার ৩৩০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে ও গ্রামাঞ্চলে এই ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। গ্যাস সংকটের কারণে মানুষ বিদ্যুৎ-চালিত চুলার দিকে ঝুঁকছে, যা বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে বেশি খরচের তেলচালিত কেন্দ্র চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই সংকটের মধ্যেই বিদ্যুৎ খাতে ৬৭ শতাংশ এবং পরিবহনের সিএনজিতে ৫১ শতাংশ গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য নীতিগত অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে পেট্রোবাংলা। এছাড়া ছয়টি বিতরণ সংস্থার চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তা সরকারের নেই। মানুষ গ্যাস-সংকটে আছে। হঠাৎ করে একটি টার্মিনালে কারিগরি দুর্ঘটনায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকার মানুষকে স্বস্তি দিতে গ্যাস সরবরাহ দ্রুত বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প উৎসের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দাম বাড়ানোর কোনো চিঠির কথা তিনি জানেন না বলেও উল্লেখ করেন।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে টানা চার মাস দ্বিগুণ দামে এলএনজি কিনতে গিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাদের ১৭ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। সরকার ১৪ হাজার ০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিলেও এখনও ৩ হাজার ২৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম প্রতি ইউনিট ২১ ডলারের বেশি, যা যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ে গড়ে ১১ ডলার ছিল। এর আগে ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলে গড়ে ৮২ শতাংশ এবং শিল্পে সর্বোচ্চ ১৭৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছিল, যদিও সরবরাহ বাড়েনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও শিল্পে গ্যাসের দাম ৩৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম পেট্রোবাংলার দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাবকে গণবিরোধী আচরণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, মানুষ বছরের পর বছর ভোগান্তির মধ্যে আছেন। গ্যাস দিতে না পারার কারণে উল্টো গ্রাহকদের গ্যাস বিলে ছাড় দেওয়া উচিত সরকারের।

এর মধ্যে সরকার থেকে ভর্তুকি দিয়েছে ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।