লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের তিন ‘দুর্বৃত্ত’ রাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ভূমিকা

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ৩০০ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটলেও আধুনিক বিশ্বে এর রেখে যাওয়া ক্ষত ও প্রভাব এখনো স্পষ্ট। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে এই সাম্রাজ্যের পতন ঘটলেও এর গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া তিনটি রাষ্ট্র—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব রাজনীতিতে ধ্বংসাত্মক প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। ঔপনিবেশিক শাসনপদ্ধতি ও জাতিগত শ্রেণিবিন্যাসকে ধারণ করে এই রাষ্ট্রগুলো বর্তমানে নিজস্ব ধাঁচে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য বজায় রাখছে, যেখানে যুক্তরাজ্য তাদের এক অনুগত সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিদায়লগ্নে দুটি বড় বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনের ফলে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এবং ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। অন্যদিকে, আরবদের ভূখণ্ডে জাতিসংঘের প্রধান শক্তিগুলোর সমর্থনে ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার ফলে ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি নিজেদের মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হন। এই ঔপনিবেশিক ধারাকে বহন করে গড়ে ওঠা তিন রাষ্ট্র আজ ভিন্ন সমাজব্যবস্থা নিয়েও একসূত্রে গাঁথা। দাস-শ্রমের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্র আজ এক শিল্প-সমৃদ্ধ বিশ্বশক্তি; ইসরাইল বসতি স্থাপনকারীদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছে প্রযুক্তি ও সামরিক পরাশক্তি; আর একসময়ের জেলেপল্লির সমষ্টি সংযুক্ত আরব আমিরাত আজ পরিণত হয়েছে অতিধনীদের স্বর্গরাজ্য ও আঞ্চলিক সামরিক শক্তিতে। এই রাষ্ট্রগুলোর সহিংস সীমানা বিস্তার ও আদিবাসীদের ওপর নিপীড়ন অতীতে বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকার শাসনব্যবস্থার কথাই মনে করিয়ে দেয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থলাভিষিক্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্র প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। কোরিয়া, ইন্দোচীন, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একইভাবে ১৯৪৮ সালে সহিংস জন্মের পর থেকেই ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর নিরন্তর নিপীড়ন ও আরব প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংঘাত বজায় রেখেছে, যার ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সাল থেকে গাজা উপত্যকায় চলছে ভয়াবহ গণহত্যা। অন্যদিকে, ১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের নেতৃত্বে এক নতুন আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করছে। লিবিয়া, সুদান ও সোমালিয়ায় বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে অর্থায়নের মাধ্যমে দেশটি অস্থিতিশীলতা ছড়াচ্ছে। উপসাগরীয় বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, আমিরাতের এই কর্মকাণ্ড যেন ব্রিটিশদের কুখ্যাত ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র আধুনিক সংস্করণ।

সুদানের দারফুরে আরএসএফ (RSF) নামক আধাসামরিক বাহিনীর মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গ সুদানিদের ওপর চালানো নৃশংসতায় আমিরাতের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তার কারণে দেশটির বিরুদ্ধে এখন গণহত্যার অভিযোগ উঠছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হিউম্যানিটেরিয়ান রিসার্চ ল্যাব’-এর প্রতিষ্ঠাতা নাথানিয়েল রেমন্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর দারফুরের রাজধানী আল-ফাশের দখলের আগে আরএসএফের সম্ভাব্য হামলা ও অবরোধ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। রেমন্ড আমিরাত ও আরএসএফের মধ্যকার যোগসূত্রের অকাট্য প্রমাণ দিয়ে যুক্তরাজ্যকে চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানালেও ব্রিটিশ কর্মকর্তারা মিত্র আমিরাতের চাপের অজুহাতে তা নাকচ করে দেন। এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে আরএসএফ সেখানে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের ওপর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। বেসামরিক মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখাকেই বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

সুদানে যুক্তরাজ্যের এই ব্যর্থতার পাশাপাশি ইসরাইলকে সরাসরি অস্ত্র বিক্রি, কূটনৈতিক সুরক্ষা ও মদত দেওয়ার ঘটনাও বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতি এখন মূলত এই ‘দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রগুলোর’ স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের তথাকথিত ‘বিশেষ সম্পর্ক’ এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করছে, কিউবাকে অবরুদ্ধ রাখছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আঘাত করছে। সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতা ও অকার্যকর জোটের কারণে যুক্তরাজ্যের এই লজ্জাজনক অবস্থান দেশটির লাখ লাখ ভোটারকে বীতশ্রদ্ধ করে তুলেছে।

ক্ষমতায় যেই আসুক না কেন, যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে সাম্রাজ্যবাদী কাঠামো ধরে রাখার এক আসক্তি রয়ে গেছে। প্রকাশ্য উপনিবেশ না থাকলেও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ও জিব্রালটারের মতো ওভারসিজ টেরিটোরিগুলোতে এখনো ব্রিটিশ সার্বভৌমত্ব বজায় রয়েছে। নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইতিমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবৈধ সামরিক তৎপরতার জন্য দিয়েগো গার্সিয়া ও আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ ব্যবহার করে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার এই ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের তিন ‘দুর্বৃত্ত’ রাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ভূমিকা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ৩০০ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটলেও আধুনিক বিশ্বে এর রেখে যাওয়া ক্ষত ও প্রভাব এখনো স্পষ্ট। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে এই সাম্রাজ্যের পতন ঘটলেও এর গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া তিনটি রাষ্ট্র—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব রাজনীতিতে ধ্বংসাত্মক প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। ঔপনিবেশিক শাসনপদ্ধতি ও জাতিগত শ্রেণিবিন্যাসকে ধারণ করে এই রাষ্ট্রগুলো বর্তমানে নিজস্ব ধাঁচে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য বজায় রাখছে, যেখানে যুক্তরাজ্য তাদের এক অনুগত সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিদায়লগ্নে দুটি বড় বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনের ফলে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এবং ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। অন্যদিকে, আরবদের ভূখণ্ডে জাতিসংঘের প্রধান শক্তিগুলোর সমর্থনে ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার ফলে ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি নিজেদের মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হন। এই ঔপনিবেশিক ধারাকে বহন করে গড়ে ওঠা তিন রাষ্ট্র আজ ভিন্ন সমাজব্যবস্থা নিয়েও একসূত্রে গাঁথা। দাস-শ্রমের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্র আজ এক শিল্প-সমৃদ্ধ বিশ্বশক্তি; ইসরাইল বসতি স্থাপনকারীদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছে প্রযুক্তি ও সামরিক পরাশক্তি; আর একসময়ের জেলেপল্লির সমষ্টি সংযুক্ত আরব আমিরাত আজ পরিণত হয়েছে অতিধনীদের স্বর্গরাজ্য ও আঞ্চলিক সামরিক শক্তিতে। এই রাষ্ট্রগুলোর সহিংস সীমানা বিস্তার ও আদিবাসীদের ওপর নিপীড়ন অতীতে বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকার শাসনব্যবস্থার কথাই মনে করিয়ে দেয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থলাভিষিক্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্র প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। কোরিয়া, ইন্দোচীন, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একইভাবে ১৯৪৮ সালে সহিংস জন্মের পর থেকেই ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর নিরন্তর নিপীড়ন ও আরব প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংঘাত বজায় রেখেছে, যার ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সাল থেকে গাজা উপত্যকায় চলছে ভয়াবহ গণহত্যা। অন্যদিকে, ১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের নেতৃত্বে এক নতুন আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করছে। লিবিয়া, সুদান ও সোমালিয়ায় বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে অর্থায়নের মাধ্যমে দেশটি অস্থিতিশীলতা ছড়াচ্ছে। উপসাগরীয় বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, আমিরাতের এই কর্মকাণ্ড যেন ব্রিটিশদের কুখ্যাত ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র আধুনিক সংস্করণ।

সুদানের দারফুরে আরএসএফ (RSF) নামক আধাসামরিক বাহিনীর মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গ সুদানিদের ওপর চালানো নৃশংসতায় আমিরাতের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তার কারণে দেশটির বিরুদ্ধে এখন গণহত্যার অভিযোগ উঠছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হিউম্যানিটেরিয়ান রিসার্চ ল্যাব’-এর প্রতিষ্ঠাতা নাথানিয়েল রেমন্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর দারফুরের রাজধানী আল-ফাশের দখলের আগে আরএসএফের সম্ভাব্য হামলা ও অবরোধ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। রেমন্ড আমিরাত ও আরএসএফের মধ্যকার যোগসূত্রের অকাট্য প্রমাণ দিয়ে যুক্তরাজ্যকে চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানালেও ব্রিটিশ কর্মকর্তারা মিত্র আমিরাতের চাপের অজুহাতে তা নাকচ করে দেন। এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে আরএসএফ সেখানে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের ওপর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। বেসামরিক মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখাকেই বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

সুদানে যুক্তরাজ্যের এই ব্যর্থতার পাশাপাশি ইসরাইলকে সরাসরি অস্ত্র বিক্রি, কূটনৈতিক সুরক্ষা ও মদত দেওয়ার ঘটনাও বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতি এখন মূলত এই ‘দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রগুলোর’ স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের তথাকথিত ‘বিশেষ সম্পর্ক’ এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করছে, কিউবাকে অবরুদ্ধ রাখছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আঘাত করছে। সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতা ও অকার্যকর জোটের কারণে যুক্তরাজ্যের এই লজ্জাজনক অবস্থান দেশটির লাখ লাখ ভোটারকে বীতশ্রদ্ধ করে তুলেছে।

ক্ষমতায় যেই আসুক না কেন, যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে সাম্রাজ্যবাদী কাঠামো ধরে রাখার এক আসক্তি রয়ে গেছে। প্রকাশ্য উপনিবেশ না থাকলেও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ও জিব্রালটারের মতো ওভারসিজ টেরিটোরিগুলোতে এখনো ব্রিটিশ সার্বভৌমত্ব বজায় রয়েছে। নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইতিমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবৈধ সামরিক তৎপরতার জন্য দিয়েগো গার্সিয়া ও আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ ব্যবহার করে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার এই ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।