লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রাম আদালতের ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে ঢাকায় প্রশিক্ষণ শুরু

গ্রাম আদালতের ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে ঢাকায় প্রশিক্ষণ শুরু

মোঃ রনি হাবিব
বিশেষ প্রতিনিধি সাভার (ঢাকা)

গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতিশীলতা বাড়াতে ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (VCMIS) বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে ২৫তম ও ২৬তম ব্যাচের এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়। প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত।

‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের মামলা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, হালনাগাদ ও প্রতিবেদন তৈরিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও তথ্যনির্ভর করা।

প্রশিক্ষণের ২৫তম ও ২৬তম ব্যাচের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-২ শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপির ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এবং এমআইএস অ্যান্ড ডিজিটালাইজেশন অ্যাসোসিয়েট মো. শাহেদ মেহেদী।

প্রশিক্ষণে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান ও গজারিয়া উপজেলা এবং গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ ও কালিয়াকৈর উপজেলার কো-অর্ডিনেটররা অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সমন্বয় ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রশিক্ষণে গ্রাম আদালতের মামলা-সংক্রান্ত তথ্য এন্ট্রি, নতুন মামলা নিবন্ধন, তথ্য হালনাগাদ, মামলার অগ্রগতি ও নিষ্পত্তির তথ্য সংরক্ষণ, তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণ এবং VCMIS-এর মাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কৌশল এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের তথ্য ব্যবস্থাপনায় পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে মামলা দায়ের থেকে শুরু করে শুনানি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিষ্পত্তি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ের তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে। ফলে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালতের অগ্রগতি মূল্যায়ন, কার্যক্রমের পরিবীক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর হবে।

ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনার এ উদ্যোগ গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে ও সহজে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।

প্রশিক্ষণে আয়োজক প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের ঢাকা জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. আল-ফারুক গাজী এবং প্রোগ্রাম অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার আসাদ হাসান চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলে যাচ্ছে সম্পত্তির বাজারমূল্য নির্ধারণ কমিটি, বাড়তে পারে জনভোগান্তি

গ্রাম আদালতের ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে ঢাকায় প্রশিক্ষণ শুরু

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

গ্রাম আদালতের ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে ঢাকায় প্রশিক্ষণ শুরু

মোঃ রনি হাবিব
বিশেষ প্রতিনিধি সাভার (ঢাকা)

গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতিশীলতা বাড়াতে ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (VCMIS) বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে ২৫তম ও ২৬তম ব্যাচের এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়। প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত।

‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের মামলা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, হালনাগাদ ও প্রতিবেদন তৈরিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও তথ্যনির্ভর করা।

প্রশিক্ষণের ২৫তম ও ২৬তম ব্যাচের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-২ শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপির ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এবং এমআইএস অ্যান্ড ডিজিটালাইজেশন অ্যাসোসিয়েট মো. শাহেদ মেহেদী।

প্রশিক্ষণে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান ও গজারিয়া উপজেলা এবং গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ ও কালিয়াকৈর উপজেলার কো-অর্ডিনেটররা অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সমন্বয় ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রশিক্ষণে গ্রাম আদালতের মামলা-সংক্রান্ত তথ্য এন্ট্রি, নতুন মামলা নিবন্ধন, তথ্য হালনাগাদ, মামলার অগ্রগতি ও নিষ্পত্তির তথ্য সংরক্ষণ, তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণ এবং VCMIS-এর মাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কৌশল এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের তথ্য ব্যবস্থাপনায় পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে মামলা দায়ের থেকে শুরু করে শুনানি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিষ্পত্তি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ের তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে। ফলে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালতের অগ্রগতি মূল্যায়ন, কার্যক্রমের পরিবীক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর হবে।

ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনার এ উদ্যোগ গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে ও সহজে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।

প্রশিক্ষণে আয়োজক প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের ঢাকা জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. আল-ফারুক গাজী এবং প্রোগ্রাম অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার আসাদ হাসান চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।