লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসক সংকটে ধুঁকছে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল, সেবা পেতে রোগীদের চরম ভোগান্তি

অনলাইন ডেক্স নিউজ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

উত্তরের দরিদ্র জেলা কুড়িগ্রামের একমাত্র ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে চরম চিকিৎসক সংকটে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। প্রায় ২৩ লাখ মানুষের চিকিৎসার ভরসা এই হাসপাতালটিতে বর্তমানে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ২৩ জন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী। গ্রীষ্ম মৌসুমে এই সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে এত রোগীর সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
২০১৭ সালে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনো পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হয়নি। ১২২ জন চিকিৎসকের স্থলে কর্মরত মাত্র ২৩ জন। সিনিয়র কনসালট্যান্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা পড়ে আছে।
এদিকে রোগীদের অভিযোগ, তারা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। ওয়ার্ডগুলো অপরিষ্কার, বাথরুম ব্যবহারের অযোগ্য এবং নার্সদের সেবা পাওয়া কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে দিনে একবারই ডাক্তার দেখেন বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা।
বহির্বিভাগে টিকিট কাটতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। গ্রাম থেকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দ্রুত চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হাসপাতালের ইকো মেশিন প্রায় এক বছর ধরে বিকল। ফলে হৃদরোগীদের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত জনবল নিয়েই তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগ এবং আইসিইউ সুবিধা চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল যেন নিজেই এক অসুস্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যেখানে চিকিৎসা নিতে এসে আরও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি-এনসিপি সংঘাত: দেড় বছরে ১৮ সংঘর্ষে উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ

চিকিৎসক সংকটে ধুঁকছে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল, সেবা পেতে রোগীদের চরম ভোগান্তি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

অনলাইন ডেক্স নিউজ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

উত্তরের দরিদ্র জেলা কুড়িগ্রামের একমাত্র ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে চরম চিকিৎসক সংকটে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। প্রায় ২৩ লাখ মানুষের চিকিৎসার ভরসা এই হাসপাতালটিতে বর্তমানে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ২৩ জন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী। গ্রীষ্ম মৌসুমে এই সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে এত রোগীর সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
২০১৭ সালে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনো পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হয়নি। ১২২ জন চিকিৎসকের স্থলে কর্মরত মাত্র ২৩ জন। সিনিয়র কনসালট্যান্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা পড়ে আছে।
এদিকে রোগীদের অভিযোগ, তারা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। ওয়ার্ডগুলো অপরিষ্কার, বাথরুম ব্যবহারের অযোগ্য এবং নার্সদের সেবা পাওয়া কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে দিনে একবারই ডাক্তার দেখেন বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা।
বহির্বিভাগে টিকিট কাটতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। গ্রাম থেকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দ্রুত চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হাসপাতালের ইকো মেশিন প্রায় এক বছর ধরে বিকল। ফলে হৃদরোগীদের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত জনবল নিয়েই তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগ এবং আইসিইউ সুবিধা চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল যেন নিজেই এক অসুস্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যেখানে চিকিৎসা নিতে এসে আরও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।