লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৮ নং চর এলাহী ইউনিয়নে আয়নাঘর’ বানিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন: আতঙ্কে এলাকাবাসী

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৮ নং চর এলাহী ইউনিয়নে আয়নাঘর’ বানিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন: আতঙ্কে এলাকাবাসী

​নিজস্ব প্রতিবেদক,
দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিন। কোম্পানীগঞ্জ:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৮নং চরএলাহী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নিমতলী এলাকায় এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক ঘটনার তথ্য ফাঁস হয়েছে।
স্থানীয় জলদস্যুর প্রভাব খাটিয়ে মাদলুক মেস্তুরী ও তার পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতে ‘আয়নাঘর’ তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে শত শত নিরীহ মানুষদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায়, শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে যারা:

অভিযোগ রয়েছে, মাদলুক মেস্তুরী ও তার ছেলে মইনউদ্দিন, তার ছোট ছেলে তৌহিদ এবং মইনউদ্দিনের ছেলে আকাশ ও নীরব
এই পুরো অপকর্মের মূল হোতা।
তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে।

​নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র:

সম্প্রতি একটি মানিব্যাগ হারানোকে কেন্দ্র করে এলাকার ৮ জন নিরীহ ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়,
এই চক্রটি।
তাদের নিজস্ব টর্চার সেলে আটকে রেখে চালানো হয় অবর্ণনীয় নির্যাতন।

ভুক্তভোগীদের ওপর বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, হাতের নখ তুলে ফেলা এবং কানে সিসা ঢেলে দেওয়ার মতো নৃশংস কাজ করা হয়েছে বলে চাক্ষুস অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরবর্তীতে ফেনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন সেখানে বড় কর্তব্যরত ডাক্তার ঢাকায় রেফারেন্স করাতে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​প্রবাসীর সর্বস্ব লুন্ঠন ও পৈশাচিকতা:

ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্য জেলায় বাড়ি হওয়া এক প্রবাসী জানান,
তার জমি কেনার জন্য রাখা ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে তাকে অপহরন করে তার হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। অপরাধ দামা চাপা দেওয়ার জন্য। এবং
এমন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন ওই প্রবাসী।
বর্তমানে তার দেওয়া একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

​আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন:

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরও এই গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে সক্রিয় থেকে লুটপাট ও জিম্মি বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
যদিও কোম্পানিগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানিয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​স্থানীয়দের দাবি, এই অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচার করা না হলে ভবিষ্যতে তারা আরও বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটাতে দ্বিধা করবে না।
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল এই এলাকাকে অপরাধমুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে প্রবেশের মুখে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিল পুলিশ

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৮ নং চর এলাহী ইউনিয়নে আয়নাঘর’ বানিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন: আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০০:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৮ নং চর এলাহী ইউনিয়নে আয়নাঘর’ বানিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন: আতঙ্কে এলাকাবাসী

​নিজস্ব প্রতিবেদক,
দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিন। কোম্পানীগঞ্জ:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৮নং চরএলাহী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নিমতলী এলাকায় এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক ঘটনার তথ্য ফাঁস হয়েছে।
স্থানীয় জলদস্যুর প্রভাব খাটিয়ে মাদলুক মেস্তুরী ও তার পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতে ‘আয়নাঘর’ তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে শত শত নিরীহ মানুষদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায়, শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে যারা:

অভিযোগ রয়েছে, মাদলুক মেস্তুরী ও তার ছেলে মইনউদ্দিন, তার ছোট ছেলে তৌহিদ এবং মইনউদ্দিনের ছেলে আকাশ ও নীরব
এই পুরো অপকর্মের মূল হোতা।
তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে।

​নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র:

সম্প্রতি একটি মানিব্যাগ হারানোকে কেন্দ্র করে এলাকার ৮ জন নিরীহ ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়,
এই চক্রটি।
তাদের নিজস্ব টর্চার সেলে আটকে রেখে চালানো হয় অবর্ণনীয় নির্যাতন।

ভুক্তভোগীদের ওপর বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, হাতের নখ তুলে ফেলা এবং কানে সিসা ঢেলে দেওয়ার মতো নৃশংস কাজ করা হয়েছে বলে চাক্ষুস অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরবর্তীতে ফেনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন সেখানে বড় কর্তব্যরত ডাক্তার ঢাকায় রেফারেন্স করাতে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​প্রবাসীর সর্বস্ব লুন্ঠন ও পৈশাচিকতা:

ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্য জেলায় বাড়ি হওয়া এক প্রবাসী জানান,
তার জমি কেনার জন্য রাখা ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে তাকে অপহরন করে তার হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। অপরাধ দামা চাপা দেওয়ার জন্য। এবং
এমন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন ওই প্রবাসী।
বর্তমানে তার দেওয়া একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

​আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন:

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরও এই গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে সক্রিয় থেকে লুটপাট ও জিম্মি বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
যদিও কোম্পানিগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানিয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​স্থানীয়দের দাবি, এই অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচার করা না হলে ভবিষ্যতে তারা আরও বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটাতে দ্বিধা করবে না।
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল এই এলাকাকে অপরাধমুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।