লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোদায় পারিবারিক বিরোধে নারীকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

বোদায় পারিবারিক বিরোধে নারীকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

দেবর ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ, তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ

পঞ্চগড়প্রতিনিধি: মোঃ শোহানুর রহমান শাহিন

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মোছা. নারগিস আক্তার নামে এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দেবর মো. মুস্তাফিজুর রহমান মুক্তা ও দেবরের স্ত্রী মোছা. সাহিনার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বোদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর রহমান মুক্তা ও তাঁর স্ত্রী মোছা. সাহিনা বোদা উপজেলার বেংহাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব ধনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মুস্তাফিজুর রহমান পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা যায়, নারগিস আক্তারের স্বামী মো. জাকির হোসেন জীবিকার প্রয়োজনে রাজশাহীতে অবস্থান করেন। স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে দেবর ও তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নারগিসের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারগিস আক্তারের বসতবাড়িতে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন অভিযুক্তরা। এর প্রতিবাদ করলে তাঁরা নারগিসকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁর পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় নারগিসের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী মো. জাকির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, “আমার স্ত্রী ও সন্তান দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের হাতে নিগৃহীত হচ্ছে। এ বর্বর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
অভিযুক্তদের বাবা মো. খয়রুল আলমও তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “মুস্তাফিজুর আমাকে বাবা হিসেবে গ্রাহ্য করে না। সে ও তার স্ত্রী আমার সামনেই বড় ভাবি এবং ছোট ছেলের স্ত্রী ও সন্তানদের মারধর করে। প্রায় তিন বছর আগে ছোট ছেলের স্ত্রীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে ছোট ছেলের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তাঁর বাবার বাড়িতে থাকেন। বাবা হিসেবে আমি অসহায়। সে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও তোয়াক্কা করে না।”
স্থানীয় প্রতিবেশী মো. আনোয়ারুল ইসলামও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, সরকারি চাকরির প্রভাব দেখিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী প্রায়ই স্বজনদের ওপর অত্যাচার করেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গেও অসদাচরণ করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. মুস্তাফিজুর রহমান মুক্তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা বোদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদ ইসলাম বলেন, “অভিযোগের তদন্ত চলছে।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী ৭ জানুয়ারি শুরু অমর একুশে বইমেলা ২০২৭

বোদায় পারিবারিক বিরোধে নারীকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বোদায় পারিবারিক বিরোধে নারীকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

দেবর ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ, তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ

পঞ্চগড়প্রতিনিধি: মোঃ শোহানুর রহমান শাহিন

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মোছা. নারগিস আক্তার নামে এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দেবর মো. মুস্তাফিজুর রহমান মুক্তা ও দেবরের স্ত্রী মোছা. সাহিনার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বোদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর রহমান মুক্তা ও তাঁর স্ত্রী মোছা. সাহিনা বোদা উপজেলার বেংহাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব ধনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মুস্তাফিজুর রহমান পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা যায়, নারগিস আক্তারের স্বামী মো. জাকির হোসেন জীবিকার প্রয়োজনে রাজশাহীতে অবস্থান করেন। স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে দেবর ও তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নারগিসের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারগিস আক্তারের বসতবাড়িতে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন অভিযুক্তরা। এর প্রতিবাদ করলে তাঁরা নারগিসকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁর পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় নারগিসের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী মো. জাকির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, “আমার স্ত্রী ও সন্তান দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের হাতে নিগৃহীত হচ্ছে। এ বর্বর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
অভিযুক্তদের বাবা মো. খয়রুল আলমও তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “মুস্তাফিজুর আমাকে বাবা হিসেবে গ্রাহ্য করে না। সে ও তার স্ত্রী আমার সামনেই বড় ভাবি এবং ছোট ছেলের স্ত্রী ও সন্তানদের মারধর করে। প্রায় তিন বছর আগে ছোট ছেলের স্ত্রীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে ছোট ছেলের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তাঁর বাবার বাড়িতে থাকেন। বাবা হিসেবে আমি অসহায়। সে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও তোয়াক্কা করে না।”
স্থানীয় প্রতিবেশী মো. আনোয়ারুল ইসলামও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, সরকারি চাকরির প্রভাব দেখিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী প্রায়ই স্বজনদের ওপর অত্যাচার করেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গেও অসদাচরণ করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. মুস্তাফিজুর রহমান মুক্তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা বোদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদ ইসলাম বলেন, “অভিযোগের তদন্ত চলছে।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।