লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেলায় বিএনপি নেতাকে সাময়িক অব্যাহতি

মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের তালিকায় নাম তুলতে টাকা দাবির অভিযোগ সত্যতা মেলায় বিএনপি নেতাকে সাময়িক অব্যাহতি

বিশেষ প্রতিনিধি: কবির মোঃ সামসুল আলম ফাইটার।

মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দাবির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পঞ্চগড়ে বিএনপির এক নেতাকে দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল খালেককে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি দিয়েছে পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের মোলানীপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও সানি ইমাম মো. হাসনুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানতে পেরে তিনি মসজিদ কমিটির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। কমিটির পক্ষ থেকেও তালিকায় তাঁর নাম পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়।

তবে হাসনুর রশিদের অভিযোগ, মসজিদের দুই মুসল্লি মো. আব্দুল খালেক ও মো. আইবুল হক তাঁর নাম তালিকাভুক্তির জন্য প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ১০ হাজার টাকা দিলেই নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান তাঁরা। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁর নাম তালিকাভুক্ত করা হবে না বলেও জানানো হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আনুমানিক রাত ১টা ৯ মিনিটে আব্দুল খালেকের ছেলে সাজ্জাদুর রহমান আকাশসহ কয়েকজন হাসনুর রশিদের বাড়িতে গিয়ে মসজিদের চাবি ফেরত চান। পরে হাসনুর জানতে পারেন, তাঁর নাম বাদ দিয়ে অন্য তিনজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ৭ আগস্ট পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন হাসনুর রশিদ। অভিযোগে তিনি নিজেকে দীর্ঘদিনের বিএনপি পরিবারের সদস্য এবং দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত দাবি করে ঘটনার তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।
অভিযোগ পাওয়ার পর পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ সরেজমিনে তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে সাময়িক অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা বিএনপি।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বাবু স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাময়িক অব্যাহতি পাওয়া বিএনপি নেতা আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, তাঁর কাছে ইমাম-মুয়াজ্জিনের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আগের মুয়াজ্জিন হাসনুর রশিদের পারিবারিক একটি ঘটনা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বাদ পড়েন। তাকে নিয়োগ না দেওয়ায় তিনি মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর অধ্যাপক আজম খান

মেলায় বিএনপি নেতাকে সাময়িক অব্যাহতি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের তালিকায় নাম তুলতে টাকা দাবির অভিযোগ সত্যতা মেলায় বিএনপি নেতাকে সাময়িক অব্যাহতি

বিশেষ প্রতিনিধি: কবির মোঃ সামসুল আলম ফাইটার।

মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দাবির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পঞ্চগড়ে বিএনপির এক নেতাকে দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল খালেককে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি দিয়েছে পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের মোলানীপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও সানি ইমাম মো. হাসনুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানতে পেরে তিনি মসজিদ কমিটির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। কমিটির পক্ষ থেকেও তালিকায় তাঁর নাম পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়।

তবে হাসনুর রশিদের অভিযোগ, মসজিদের দুই মুসল্লি মো. আব্দুল খালেক ও মো. আইবুল হক তাঁর নাম তালিকাভুক্তির জন্য প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ১০ হাজার টাকা দিলেই নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান তাঁরা। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁর নাম তালিকাভুক্ত করা হবে না বলেও জানানো হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আনুমানিক রাত ১টা ৯ মিনিটে আব্দুল খালেকের ছেলে সাজ্জাদুর রহমান আকাশসহ কয়েকজন হাসনুর রশিদের বাড়িতে গিয়ে মসজিদের চাবি ফেরত চান। পরে হাসনুর জানতে পারেন, তাঁর নাম বাদ দিয়ে অন্য তিনজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ৭ আগস্ট পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন হাসনুর রশিদ। অভিযোগে তিনি নিজেকে দীর্ঘদিনের বিএনপি পরিবারের সদস্য এবং দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত দাবি করে ঘটনার তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।
অভিযোগ পাওয়ার পর পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ সরেজমিনে তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে সাময়িক অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা বিএনপি।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বাবু স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাময়িক অব্যাহতি পাওয়া বিএনপি নেতা আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, তাঁর কাছে ইমাম-মুয়াজ্জিনের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আগের মুয়াজ্জিন হাসনুর রশিদের পারিবারিক একটি ঘটনা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বাদ পড়েন। তাকে নিয়োগ না দেওয়ায় তিনি মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়।