লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিলের ক্ষোভ, ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ মিটার রিডার

পাবনার ঈশ্বরদীতে তীব্র লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায়ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক মিটার রিডারকে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি আলহাজ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

অবরুদ্ধ হওয়া ওই মিটার রিডারের নাম আইনুল হোসেন। তিনি পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর দাশুড়িয়া জোনাল অফিসে কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে ওই এলাকায় মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং চলছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর ওপর আবার রিডিং না দেখেই অতিরিক্ত ও ভুল বিদ্যুৎ বিল তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে, যার ফলে গ্রাহকদের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা চলে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক আকমল প্রামাণিক নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে আছি। কখন বিদ্যুৎ আসে, কখন যায় তার কোনো ঠিক নেই। এর মধ্যে আবার ভুল রিডিংয়ের কারণে অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বারবার অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।"

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুপভান খাতুন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকা সত্ত্বেও মিটার রিডিং নিতে আসেন আইনুল হোসেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় গ্রাহকরা তাকে আটকে রাখেন এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন। পরে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর এলাকাবাসী তাকে ছেড়ে দেন।

অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে মিটার রিডার আইনুল হোসেন বলেন, "অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তবে এটি শুধু এই গ্রামের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় সমস্যা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আপাতত বিল লেখা বন্ধ রেখে চলে যাচ্ছি।"

স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিলের এই সমস্যা দ্রুত তদন্ত করে সমাধান করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে। তারা অবিলম্বে ভুল মিটার রিডিংয়ের রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত কারণ বের করার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণে বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কৌশল

ঈশ্বরদীতে লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিলের ক্ষোভ, ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ মিটার রিডার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে তীব্র লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায়ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক মিটার রিডারকে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি আলহাজ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

অবরুদ্ধ হওয়া ওই মিটার রিডারের নাম আইনুল হোসেন। তিনি পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর দাশুড়িয়া জোনাল অফিসে কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে ওই এলাকায় মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং চলছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর ওপর আবার রিডিং না দেখেই অতিরিক্ত ও ভুল বিদ্যুৎ বিল তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে, যার ফলে গ্রাহকদের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা চলে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক আকমল প্রামাণিক নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে আছি। কখন বিদ্যুৎ আসে, কখন যায় তার কোনো ঠিক নেই। এর মধ্যে আবার ভুল রিডিংয়ের কারণে অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বারবার অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।"

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুপভান খাতুন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকা সত্ত্বেও মিটার রিডিং নিতে আসেন আইনুল হোসেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় গ্রাহকরা তাকে আটকে রাখেন এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন। পরে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর এলাকাবাসী তাকে ছেড়ে দেন।

অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে মিটার রিডার আইনুল হোসেন বলেন, "অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তবে এটি শুধু এই গ্রামের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় সমস্যা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আপাতত বিল লেখা বন্ধ রেখে চলে যাচ্ছি।"

স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিলের এই সমস্যা দ্রুত তদন্ত করে সমাধান করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে। তারা অবিলম্বে ভুল মিটার রিডিংয়ের রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত কারণ বের করার দাবি জানিয়েছেন।