লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৮ জুলাইয়ের শাটডাউন: দেশজুড়ে সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৩১

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল পুরো দেশ। এই দিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও তৎকালীন তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনের সহিংসতায় সাংবাদিকসহ অন্তত ৩১ জন নিহত এবং প্রায় দেড় হাজার মানুষ আহত হন।

শাটডাউন কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন, যার ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলনটি ব্যাপক আকার ধারণ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজধানী ঢাকার উত্তরা, মিরপুর, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, বাড্ডা, নীলক্ষেত ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনভর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একই সাথে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সহিংসতার এক পর্যায়ে রামপুরায় অবস্থিত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হলে এর সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া টোল প্লাজা, পুলিশ বক্স, বিভিন্ন থানা এবং সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে। ঢাকায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং রাত ৯টার পর থেকে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া রেল যোগাযোগও দীর্ঘ সময় ব্যাহত ছিল।

তৎকালীন সরকার এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুললেও আন্দোলনের সমন্বয়করা দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বলপ্রয়োগের কারণেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সরকার শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই গায়েবানা জানাজা ও পুনরায় শাটডাউন কর্মসূচি পালনের ডাক দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল, যা পরে ধারাবাহিক কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে নতুন মোড় নেয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে তিন বছরে ৯৬৯৭ কোটি টাকার অনিয়ম

১৮ জুলাইয়ের শাটডাউন: দেশজুড়ে সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৩১

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল পুরো দেশ। এই দিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও তৎকালীন তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনের সহিংসতায় সাংবাদিকসহ অন্তত ৩১ জন নিহত এবং প্রায় দেড় হাজার মানুষ আহত হন।

শাটডাউন কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন, যার ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলনটি ব্যাপক আকার ধারণ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজধানী ঢাকার উত্তরা, মিরপুর, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, বাড্ডা, নীলক্ষেত ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনভর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একই সাথে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সহিংসতার এক পর্যায়ে রামপুরায় অবস্থিত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হলে এর সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া টোল প্লাজা, পুলিশ বক্স, বিভিন্ন থানা এবং সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে। ঢাকায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং রাত ৯টার পর থেকে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া রেল যোগাযোগও দীর্ঘ সময় ব্যাহত ছিল।

তৎকালীন সরকার এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুললেও আন্দোলনের সমন্বয়করা দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বলপ্রয়োগের কারণেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সরকার শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই গায়েবানা জানাজা ও পুনরায় শাটডাউন কর্মসূচি পালনের ডাক দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল, যা পরে ধারাবাহিক কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে নতুন মোড় নেয়।