লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮ মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার, বাড়ছে উদ্বেগ

কুমিল্লায় নিখোঁজ হওয়ার পর ১৩ বছর বয়সী শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু অপ্রতিম নয়, চলতি বছর নিখোঁজ হওয়া আরও অনেক শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় কিংবা নদী থেকে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের প্রথম আট মাসে ৩৬ জন নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধার ছাড়াও চলতি বছর শিশুদের ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু এবং স্বজনদের সঙ্গে নিহত হওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এসব হত্যাকাণ্ডের অনেকগুলোতে পরিচিত ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। যেমন, ১০ সেপ্টেম্বর জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক শিশু বিদ্যালয়ে গিয়ে আর ফেরেনি। ১২ সেপ্টেম্বর তার সহপাঠীর বাড়ির মেঝেতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সহপাঠীর বাবাই শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন এবং এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইভাবে পাবনা সদরে ৯ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়া ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর ডোবা থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায়ও ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে আসক জানিয়েছে, গত আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) শিশু নিখোঁজ, হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮ জন, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯ জন, ধর্ষণের পর হত্যা (দুই ছেলেশিশুসহ) ২৬ জন, ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা ৪ জন, গুলিতে ৩ জন, গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ফলে মৃত্যু ২ জন, উত্ত্যক্তকারীর হাতে হত্যা ২ জন এবং অপহরণের পর হত্যা করা হয় ১ জনকে। এছাড়া আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনা ঘটেছে।

শিশুদের পাশাপাশি বড়দের হত্যাকাণ্ডের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশে ২ হাজার ৩৬২টি হত্যা মামলা হয়েছে, যার গড় মাসিক হার ২৯৫টি। সম্প্রতি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাত শিশুর নিহত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ ১২ বছর বয়সী আয়ুশকে খুন এবং সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে একই পরিবারের তিন শিশুকে হত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর লাশ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর তাঁর এক বছরের সন্তানের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজের ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তর ৩ সেপ্টেম্বর জানায়, বছরের প্রথম সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হলেও এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা মোট নিখোঁজের ৮৭ শতাংশেরও বেশি। বর্তমানে ২ হাজার ৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

শিশুদের প্রতি এই নির্মমতা ও নৃশংসতাকে সমাজের জন্য খুবই উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফাতেমা রেজিনা ইকবাল। তিনি বলেন, খেলার মাঠ, বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যাওয়া কিংবা পরিবারের সঙ্গে থাকা—কোথাও যেন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নেই। অপরাধীদের বিকৃত মানসিকতা, প্রতিশোধ কিংবা পারিবারিক বিরোধের কারণে শিশুরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ইউনিসেফও এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দায়মুক্তির অবসান এবং শিশুবান্ধব বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের চোটে ঢাকা টেস্টে নেই মুশফিক, সিলেট নিয়ে আশাবাদী বিসিবি

৮ মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার, বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লায় নিখোঁজ হওয়ার পর ১৩ বছর বয়সী শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু অপ্রতিম নয়, চলতি বছর নিখোঁজ হওয়া আরও অনেক শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় কিংবা নদী থেকে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের প্রথম আট মাসে ৩৬ জন নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধার ছাড়াও চলতি বছর শিশুদের ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু এবং স্বজনদের সঙ্গে নিহত হওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এসব হত্যাকাণ্ডের অনেকগুলোতে পরিচিত ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। যেমন, ১০ সেপ্টেম্বর জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক শিশু বিদ্যালয়ে গিয়ে আর ফেরেনি। ১২ সেপ্টেম্বর তার সহপাঠীর বাড়ির মেঝেতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সহপাঠীর বাবাই শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন এবং এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইভাবে পাবনা সদরে ৯ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়া ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর ডোবা থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায়ও ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে আসক জানিয়েছে, গত আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) শিশু নিখোঁজ, হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮ জন, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯ জন, ধর্ষণের পর হত্যা (দুই ছেলেশিশুসহ) ২৬ জন, ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা ৪ জন, গুলিতে ৩ জন, গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ফলে মৃত্যু ২ জন, উত্ত্যক্তকারীর হাতে হত্যা ২ জন এবং অপহরণের পর হত্যা করা হয় ১ জনকে। এছাড়া আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনা ঘটেছে।

শিশুদের পাশাপাশি বড়দের হত্যাকাণ্ডের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশে ২ হাজার ৩৬২টি হত্যা মামলা হয়েছে, যার গড় মাসিক হার ২৯৫টি। সম্প্রতি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাত শিশুর নিহত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ ১২ বছর বয়সী আয়ুশকে খুন এবং সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে একই পরিবারের তিন শিশুকে হত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর লাশ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর তাঁর এক বছরের সন্তানের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজের ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তর ৩ সেপ্টেম্বর জানায়, বছরের প্রথম সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হলেও এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা মোট নিখোঁজের ৮৭ শতাংশেরও বেশি। বর্তমানে ২ হাজার ৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

শিশুদের প্রতি এই নির্মমতা ও নৃশংসতাকে সমাজের জন্য খুবই উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফাতেমা রেজিনা ইকবাল। তিনি বলেন, খেলার মাঠ, বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যাওয়া কিংবা পরিবারের সঙ্গে থাকা—কোথাও যেন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নেই। অপরাধীদের বিকৃত মানসিকতা, প্রতিশোধ কিংবা পারিবারিক বিরোধের কারণে শিশুরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ইউনিসেফও এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দায়মুক্তির অবসান এবং শিশুবান্ধব বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।