লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদোকে প্রাণনাশের হুমকি, ফাঁস এফবিআইয়ের গোপন নথি

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এর পেছনের থমথমে পরিস্থিতির কথা এতদিন আড়ালেই ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্র (আইপিসিসি) বিশ্বকাপজুড়ে প্রতিদিন যে গোপন নিরাপত্তা প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, তার একাংশ প্রকাশ করেছে স্পেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেনসা ইবেরিকার অপরাধবিষয়ক চ্যানেল। এই নথি থেকে জানা যায়, টুর্নামেন্ট চলাকালে অনেক তারকা ফুটবলার, কোচ ও রেফারি প্রাণনাশের হুমকি ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছিলেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছিলেন সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে। আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের দিন টেক্সাসের ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে দাবি করেন, তিনি ও তাঁর দুই সঙ্গী ‘হাতে বানানো বোমা ও এআর-১৫ সেমিঅটোমেটিক রাইফেল’ নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই কথিত সন্ত্রাসীর মূল লক্ষ্য ছিলেন মেসি। এছাড়া মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুমকি দেন যে, তিনি আটলান্টা স্টেডিয়ামে নিজের শরীরে চারটি বোমা বেঁধে মেসিকে উড়িয়ে দেবেন। ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের তিনটি ডাস্টবিনে ‘তিনটি বোমা’ রাখা আছে—এমন সংবাদের পর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে পুরো স্টেডিয়ামে ব্যাপক তল্লাশি চালাতে হয়।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও টুর্নামেন্টজুড়ে লাগাতার হয়রানির আতঙ্কে ভুগতে হয়েছে। গত ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি রোনালদোর থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর খোঁজখবর নিচ্ছেন। ১৬ জুন হিউস্টনে পর্তুগাল দল যে হোটেলে উঠেছিল, সেখান থেকে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। কানাডার টরন্টোতেও এক অনুরাগী রোনালদোর লিফটে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া মায়ামিতে রোনালদোকে ঘিরে ধরার চেষ্টা এবং পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে এক দর্শক জার্সি পরে সোজা মাঠে নেমে পড়ার ঘটনাও ঘটে।

মাঠের পারফরম্যান্স বা ভুলের কারণেও খেলোয়াড়দের প্রাণনাশের হুমকি পেতে হয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ার পর প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করা হয় এবং ৫ ও ৬ জুলাই তাঁর প্রতিকৃতি পোড়ানো হয়। আতলেতিকো মাদ্রিদের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সরলথ সহজ গোল মিস করার পর তিনি ও তাঁর স্ত্রী হত্যার হুমকি পান। পেনাল্টি মিস করার পর কলম্বিয়ার জামিনটন ক্যাম্পাজ সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেননি। এছাড়া স্পেন ও ফ্রান্সের ম্যাচে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করায় ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়েও মারাত্মক হুমকি পান। দক্ষিণ কোরিয়া দল প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর কোচ হং মাইওং-বো ও পুরো দলকে কড়া পুলিশ প্রহরায় বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে হয়েছিল।

রেফারিদের নিরাপত্তা নিয়েও ছিল চরম উদ্বেগ। আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ম্যাচের পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ারের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়, যার অধিকাংশই ছিল মিসরীয় নাগরিকদের কাছ থেকে। ভিএআর দায়িত্বে থাকা ফরাসি রেফারি উইলি দেলাজোদকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে ফ্রান্সে এই দুই রেফারির বাড়ি ও স্বজনদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা পুলিশি পাহারা বসাতে হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রদর্শনীতে মুজিব থাকলেও নেই জিয়া: জামায়াত আমিরের ব্যাখ্যা ও রিজভীর প্রশ্ন

বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদোকে প্রাণনাশের হুমকি, ফাঁস এফবিআইয়ের গোপন নথি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এর পেছনের থমথমে পরিস্থিতির কথা এতদিন আড়ালেই ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্র (আইপিসিসি) বিশ্বকাপজুড়ে প্রতিদিন যে গোপন নিরাপত্তা প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, তার একাংশ প্রকাশ করেছে স্পেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেনসা ইবেরিকার অপরাধবিষয়ক চ্যানেল। এই নথি থেকে জানা যায়, টুর্নামেন্ট চলাকালে অনেক তারকা ফুটবলার, কোচ ও রেফারি প্রাণনাশের হুমকি ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছিলেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছিলেন সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে। আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের দিন টেক্সাসের ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে দাবি করেন, তিনি ও তাঁর দুই সঙ্গী ‘হাতে বানানো বোমা ও এআর-১৫ সেমিঅটোমেটিক রাইফেল’ নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই কথিত সন্ত্রাসীর মূল লক্ষ্য ছিলেন মেসি। এছাড়া মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুমকি দেন যে, তিনি আটলান্টা স্টেডিয়ামে নিজের শরীরে চারটি বোমা বেঁধে মেসিকে উড়িয়ে দেবেন। ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের তিনটি ডাস্টবিনে ‘তিনটি বোমা’ রাখা আছে—এমন সংবাদের পর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে পুরো স্টেডিয়ামে ব্যাপক তল্লাশি চালাতে হয়।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও টুর্নামেন্টজুড়ে লাগাতার হয়রানির আতঙ্কে ভুগতে হয়েছে। গত ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি রোনালদোর থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর খোঁজখবর নিচ্ছেন। ১৬ জুন হিউস্টনে পর্তুগাল দল যে হোটেলে উঠেছিল, সেখান থেকে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। কানাডার টরন্টোতেও এক অনুরাগী রোনালদোর লিফটে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া মায়ামিতে রোনালদোকে ঘিরে ধরার চেষ্টা এবং পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে এক দর্শক জার্সি পরে সোজা মাঠে নেমে পড়ার ঘটনাও ঘটে।

মাঠের পারফরম্যান্স বা ভুলের কারণেও খেলোয়াড়দের প্রাণনাশের হুমকি পেতে হয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ার পর প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করা হয় এবং ৫ ও ৬ জুলাই তাঁর প্রতিকৃতি পোড়ানো হয়। আতলেতিকো মাদ্রিদের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সরলথ সহজ গোল মিস করার পর তিনি ও তাঁর স্ত্রী হত্যার হুমকি পান। পেনাল্টি মিস করার পর কলম্বিয়ার জামিনটন ক্যাম্পাজ সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেননি। এছাড়া স্পেন ও ফ্রান্সের ম্যাচে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করায় ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়েও মারাত্মক হুমকি পান। দক্ষিণ কোরিয়া দল প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর কোচ হং মাইওং-বো ও পুরো দলকে কড়া পুলিশ প্রহরায় বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে হয়েছিল।

রেফারিদের নিরাপত্তা নিয়েও ছিল চরম উদ্বেগ। আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ম্যাচের পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ারের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়, যার অধিকাংশই ছিল মিসরীয় নাগরিকদের কাছ থেকে। ভিএআর দায়িত্বে থাকা ফরাসি রেফারি উইলি দেলাজোদকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে ফ্রান্সে এই দুই রেফারির বাড়ি ও স্বজনদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা পুলিশি পাহারা বসাতে হয়েছিল।