লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ধারা বাতিলের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে আইনটি সংসদে পাস হওয়ার সময় এই ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শর্ত মেনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় সরকার ধারাটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ১৮(ক) ধারায় সুযোগ রাখা হয়েছিল যে, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যারা শেয়ারধারী ছিলেন, তারা চাইলে সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এই সুযোগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখত।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা অনিয়মে দুর্বল হয়ে পড়া পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের ২৫ মে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যা গত ১০ এপ্রিল বিএনপি সরকার আইনে পরিণত করে। আইনটি সংসদে পাসের আগে ১৮(ক) ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল।

ধারাটি বাতিলের বিষয়ে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আবেদন না পাওয়ায় ধারাটি বাতিল করার সরকারের এই ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, লুটপাটকারী বিতর্কিত পরিচালকদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়াটা কোনোভাবেই যৌক্তিক ছিল না। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির ধারাটি বাতিলের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিতর্কিত মালিকদের ফেরানোর উদ্যোগ সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।

উল্লেখ্য, একীভূত হতে যাওয়া এই পাঁচটি ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ৭৯ শতাংশ। এর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৯৮ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৬, গ্লোবাল ইসলামীর ৯৫, সোশ্যাল ইসলামীর ৬২ এবং এক্সিম ব্যাংকের ৪৮ শতাংশ। এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই সংশোধনী এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর অধ্যাপক আজম খান

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ধারা বাতিলের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে আইনটি সংসদে পাস হওয়ার সময় এই ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শর্ত মেনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় সরকার ধারাটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ১৮(ক) ধারায় সুযোগ রাখা হয়েছিল যে, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যারা শেয়ারধারী ছিলেন, তারা চাইলে সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এই সুযোগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখত।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা অনিয়মে দুর্বল হয়ে পড়া পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের ২৫ মে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যা গত ১০ এপ্রিল বিএনপি সরকার আইনে পরিণত করে। আইনটি সংসদে পাসের আগে ১৮(ক) ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল।

ধারাটি বাতিলের বিষয়ে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আবেদন না পাওয়ায় ধারাটি বাতিল করার সরকারের এই ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, লুটপাটকারী বিতর্কিত পরিচালকদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়াটা কোনোভাবেই যৌক্তিক ছিল না। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির ধারাটি বাতিলের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিতর্কিত মালিকদের ফেরানোর উদ্যোগ সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।

উল্লেখ্য, একীভূত হতে যাওয়া এই পাঁচটি ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ৭৯ শতাংশ। এর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৯৮ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৬, গ্লোবাল ইসলামীর ৯৫, সোশ্যাল ইসলামীর ৬২ এবং এক্সিম ব্যাংকের ৪৮ শতাংশ। এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই সংশোধনী এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।