লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর আগেই নিজের শোকবার্তা লিখে গেলেন সাবেক সেনাসদস্য মাইকেল

সাধারণত প্রিয়জন বা বন্ধুদের হাতেই মানুষের শেষ বিদায়ের বার্তা লেখা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের অলিম্পিয়ায় বসবাসকারী ৫১ বছর বয়সী সাবেক সেনাসদস্য মাইকেল ডি সিমোন ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগেই তিনি নিজের শোকবার্তা নিজেই লিখে রেখে গেছেন। গত ২১ আগস্ট হৃদ্‌যন্ত্রজনিত সমস্যায় মারা যাওয়ার পর সেই শোকবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে বছরের শুরুতে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

ডি সিমোনের লেখা শোকবার্তাটি হাস্যরস, আবেগ এবং জীবনদর্শনে পরিপূর্ণ। তিনি শুরুতেই লিখেছিলেন, মাইকেল ডি সিমোন দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে তিনি আর জীবিত নেই। নিজের মৃত্যু নিয়ে রসিকতা করে তিনি লিখেছিলেন, এটি তার পরিকল্পনা ছিল না। তিনি আরও কিছু সময় বেঁচে থাকার আশা করেছিলেন, কিন্তু শরীর ও মনের মতবিরোধে শেষ পর্যন্ত শরীরের যুক্তিই জয়ী হয়েছে। এমনকি শেষ মুহূর্ত নিয়েও তিনি মজা করে লিখেছেন, পৃথিবীতে যেভাবে খাবার খেতে খেতে এসেছিলেন, ঠিক সেভাবেই পিজ্জা খেতে খেতে পৃথিবী ছেড়েছেন।

নিজের বয়স নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ডি সিমোন লিখেছেন, ৫১ বছর বয়স মানুষের জন্য কম মনে হলেও কুকুরের জন্য এটি বেশ ভালো বয়স। অনেক কুকুরকে তিনি টিকে গেছেন—এমন তুলনা টেনে তিনি কিছুটা শান্তি বোধ করেছেন। এছাড়া নিজের ভ্রমণপিপাসু জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অ্যান্টার্কটিকা বাদে বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশ তিনি ঘুরে দেখেছেন। নিজের এই ভ্রমণকে ১২ শতকের কোনো অভিজাত ব্যক্তির সাথে তুলনা করে রসিকতা করেছেন তিনি।

শোকবার্তার সবচেয়ে আবেগপূর্ণ অংশে তিনি তার স্ত্রী ডেইজি এবং দুই মেয়ে জোহানা ও ডানির প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। হাইস্কুল থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীতে থাকা এবং পরে নানু-নানি হওয়ার দীর্ঘ পথচলায় স্ত্রীকে তিনি ‘প্রিয়তমা’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। তিনি লিখেছেন, তারা কখনো একে অপরের প্রতি সেই ভালোবাসা হারাননি। দুই মেয়ের জন্য তার ভালোবাসা সৃষ্টির চেয়েও বড় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে প্রিয়জনদের ছেড়ে চলে যাওয়ার বেদনাও তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

নিজের মৃত্যুসংবাদ নিজেকেই দিতে হওয়া নিয়ে শেষদিকে কিছুটা রসিকতা করে তিনি জানান, এই খবর পাওয়া বা দেওয়া কোনোটিই সুখকর নয়। দ্য সেন্ট্রালিয়া ক্রনিকল শোকবার্তাটি প্রকাশের পর এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই এটিকে জীবনের অন্যতম সেরা ও ব্যতিক্রমী শোকবার্তা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, তাঁকে কখনো না চিনলেও এই লেখা পড়ে মনে হয়েছে যেন মানুষটি সম্পর্কে অনেকটাই জানা হয়ে গেছে। শুক্রবার ওয়াশিংটনের সেন্ট্রালিয়ায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। মাইকেল ডি সিমোনের এই শেষ বার্তাটি এখন তার জীবন, রসবোধ এবং ভালোবাসার অনন্য স্মারক হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতা রোধে পুলিশের প্রতি নির্দেশ

মৃত্যুর আগেই নিজের শোকবার্তা লিখে গেলেন সাবেক সেনাসদস্য মাইকেল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

সাধারণত প্রিয়জন বা বন্ধুদের হাতেই মানুষের শেষ বিদায়ের বার্তা লেখা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের অলিম্পিয়ায় বসবাসকারী ৫১ বছর বয়সী সাবেক সেনাসদস্য মাইকেল ডি সিমোন ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগেই তিনি নিজের শোকবার্তা নিজেই লিখে রেখে গেছেন। গত ২১ আগস্ট হৃদ্‌যন্ত্রজনিত সমস্যায় মারা যাওয়ার পর সেই শোকবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে বছরের শুরুতে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

ডি সিমোনের লেখা শোকবার্তাটি হাস্যরস, আবেগ এবং জীবনদর্শনে পরিপূর্ণ। তিনি শুরুতেই লিখেছিলেন, মাইকেল ডি সিমোন দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে তিনি আর জীবিত নেই। নিজের মৃত্যু নিয়ে রসিকতা করে তিনি লিখেছিলেন, এটি তার পরিকল্পনা ছিল না। তিনি আরও কিছু সময় বেঁচে থাকার আশা করেছিলেন, কিন্তু শরীর ও মনের মতবিরোধে শেষ পর্যন্ত শরীরের যুক্তিই জয়ী হয়েছে। এমনকি শেষ মুহূর্ত নিয়েও তিনি মজা করে লিখেছেন, পৃথিবীতে যেভাবে খাবার খেতে খেতে এসেছিলেন, ঠিক সেভাবেই পিজ্জা খেতে খেতে পৃথিবী ছেড়েছেন।

নিজের বয়স নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ডি সিমোন লিখেছেন, ৫১ বছর বয়স মানুষের জন্য কম মনে হলেও কুকুরের জন্য এটি বেশ ভালো বয়স। অনেক কুকুরকে তিনি টিকে গেছেন—এমন তুলনা টেনে তিনি কিছুটা শান্তি বোধ করেছেন। এছাড়া নিজের ভ্রমণপিপাসু জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অ্যান্টার্কটিকা বাদে বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশ তিনি ঘুরে দেখেছেন। নিজের এই ভ্রমণকে ১২ শতকের কোনো অভিজাত ব্যক্তির সাথে তুলনা করে রসিকতা করেছেন তিনি।

শোকবার্তার সবচেয়ে আবেগপূর্ণ অংশে তিনি তার স্ত্রী ডেইজি এবং দুই মেয়ে জোহানা ও ডানির প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। হাইস্কুল থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীতে থাকা এবং পরে নানু-নানি হওয়ার দীর্ঘ পথচলায় স্ত্রীকে তিনি ‘প্রিয়তমা’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। তিনি লিখেছেন, তারা কখনো একে অপরের প্রতি সেই ভালোবাসা হারাননি। দুই মেয়ের জন্য তার ভালোবাসা সৃষ্টির চেয়েও বড় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে প্রিয়জনদের ছেড়ে চলে যাওয়ার বেদনাও তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

নিজের মৃত্যুসংবাদ নিজেকেই দিতে হওয়া নিয়ে শেষদিকে কিছুটা রসিকতা করে তিনি জানান, এই খবর পাওয়া বা দেওয়া কোনোটিই সুখকর নয়। দ্য সেন্ট্রালিয়া ক্রনিকল শোকবার্তাটি প্রকাশের পর এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই এটিকে জীবনের অন্যতম সেরা ও ব্যতিক্রমী শোকবার্তা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, তাঁকে কখনো না চিনলেও এই লেখা পড়ে মনে হয়েছে যেন মানুষটি সম্পর্কে অনেকটাই জানা হয়ে গেছে। শুক্রবার ওয়াশিংটনের সেন্ট্রালিয়ায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। মাইকেল ডি সিমোনের এই শেষ বার্তাটি এখন তার জীবন, রসবোধ এবং ভালোবাসার অনন্য স্মারক হয়ে উঠেছে।