লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও সম্ভাবনা

বাংলাদেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধি অর্জনে কৃষি, মানবসম্পদ এবং গার্মেন্টস শিল্পের পাশাপাশি চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পর্যটন শিল্প অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা বাগান ও ঝরনা এবং উত্তরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে। বর্তমানে জিডিপিতে এই খাতের অবদান মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ, যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের তুলনায় নগণ্য। অথচ সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করলে এই খাত থেকে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।

পর্যটন শিল্পের বিকাশে বর্তমান প্রধান অন্তরায়গুলোর মধ্যে রয়েছে: ১. অবকাঠামোগত দুর্বলতা, ২. নিরাপত্তাহীনতা, ৩. আবাসন ও যাতায়াত খরচ, ৪. ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণার অভাব এবং ৫. বিনোদন ও নাগরিক সুবিধার স্বল্পতা। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানোর যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।

এই খাতকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট কিছু দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার এলাকা এবং সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য 'স্পেশাল ট্যুরিস্ট জোন' বা 'ইকো-ট্যুরিজম জোন' গঠন। প্রতিটি জোনে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে লাক্সারি ট্যুরিস্ট ট্রেন এবং নৌ-পর্যটনের জন্য বিলাসবহুল ক্রুজ শিপ চালু করা জরুরি। অভ্যন্তরীণ বিমান করিডোর শক্তিশালী করার পাশাপাশি টিকেট মূল্যে ভর্তুকি বা কর ছাড়ের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে একটি কেন্দ্রীয় 'স্মার্ট ট্যুরিজম অ্যাপ' চালু করা প্রয়োজন, যেখানে ঐতিহাসিক তথ্য, মানচিত্র, ভেরিফাইড হোটেল বুকিং এবং রিয়েল-টাইম যাতায়াত সূচি থাকবে। এছাড়া বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে 'ভিসা অন অ্যারাইভাল' সুবিধা ১০০টিরও বেশি দেশের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে এবং ই-ভিসা প্রক্রিয়াকে সহজীকরণ ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা জরুরি। পর্যটন এলাকায় বিনোদনের জন্য থিম পার্ক, ওয়াটার স্পোর্টস এবং কালচারাল ভিলেজ গড়ে তুলে দেশি কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা সম্ভব। সবশেষে, সুন্দরবন ও সেন্টমার্টিনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষায় পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জিরো ওয়েস্ট পলিসি বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাইওয়ানে সামরিক আগ্রাসন কি শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার অবসান ঘটাবে?

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও সম্ভাবনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধি অর্জনে কৃষি, মানবসম্পদ এবং গার্মেন্টস শিল্পের পাশাপাশি চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পর্যটন শিল্প অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা বাগান ও ঝরনা এবং উত্তরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে। বর্তমানে জিডিপিতে এই খাতের অবদান মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ, যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের তুলনায় নগণ্য। অথচ সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করলে এই খাত থেকে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।

পর্যটন শিল্পের বিকাশে বর্তমান প্রধান অন্তরায়গুলোর মধ্যে রয়েছে: ১. অবকাঠামোগত দুর্বলতা, ২. নিরাপত্তাহীনতা, ৩. আবাসন ও যাতায়াত খরচ, ৪. ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণার অভাব এবং ৫. বিনোদন ও নাগরিক সুবিধার স্বল্পতা। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানোর যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।

এই খাতকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট কিছু দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার এলাকা এবং সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য 'স্পেশাল ট্যুরিস্ট জোন' বা 'ইকো-ট্যুরিজম জোন' গঠন। প্রতিটি জোনে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে লাক্সারি ট্যুরিস্ট ট্রেন এবং নৌ-পর্যটনের জন্য বিলাসবহুল ক্রুজ শিপ চালু করা জরুরি। অভ্যন্তরীণ বিমান করিডোর শক্তিশালী করার পাশাপাশি টিকেট মূল্যে ভর্তুকি বা কর ছাড়ের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে একটি কেন্দ্রীয় 'স্মার্ট ট্যুরিজম অ্যাপ' চালু করা প্রয়োজন, যেখানে ঐতিহাসিক তথ্য, মানচিত্র, ভেরিফাইড হোটেল বুকিং এবং রিয়েল-টাইম যাতায়াত সূচি থাকবে। এছাড়া বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে 'ভিসা অন অ্যারাইভাল' সুবিধা ১০০টিরও বেশি দেশের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে এবং ই-ভিসা প্রক্রিয়াকে সহজীকরণ ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা জরুরি। পর্যটন এলাকায় বিনোদনের জন্য থিম পার্ক, ওয়াটার স্পোর্টস এবং কালচারাল ভিলেজ গড়ে তুলে দেশি কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা সম্ভব। সবশেষে, সুন্দরবন ও সেন্টমার্টিনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষায় পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জিরো ওয়েস্ট পলিসি বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতে হবে।