লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মদিন আজ

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাদের জনপ্রিয়তার দীপ্তি সময়ের সীমানা পেরিয়ে আজও অমলিন। সেই নক্ষত্রলোকের শীর্ষেই জ্বলজ্বল করছে মহানায়ক উত্তম কুমারের নাম। অতুলনীয় অভিনয়, ব্যক্তিত্বের মোহনীয় জাদু আর রাজকীয় পর্দার উপস্থিতিতে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন বাংলা সিনেমার এক একক ও অনন্য অধ্যায়ে। কালজয়ী এই মহানায়কের জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা।

১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার ভবানীপুরে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন উত্তম কুমার। তাঁর জন্মনাম ছিল অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। বাবা সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় ও মা চপলা দেবীর সন্তান অরুণের বেড়ে ওঠা উত্তর কলকাতার এক যৌথ পরিবারে, যেখানে ছোটবেলা থেকেই নাট্যচর্চার পরিবেশ ছিল। পরিবারের সদস্যদের নাটকের দল থাকায় অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।

পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে একসময় কলকাতা পোর্ট কমিশনার্সের দপ্তরে কেরানির চাকরি নেন উত্তম কুমার। তবে জীবিকার জন্য চাকরি করলেও তাঁর স্বপ্ন ছিল সিনেমার পর্দায় অভিনয়ের। ১৯৪৭ সালে মুক্তি না পাওয়া হিন্দি ছবি ‘মায়াডোর’-এ একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর পথচলা শুরু। এরপর নীতিন বসু পরিচালিত ‘দৃষ্টিদান’ (১৯৪৮) ছবির মাধ্যমে তিনি প্রথমবার বড় পর্দায় আসেন, তখনো তিনি অরুণ কুমার নামেই পরিচিত ছিলেন। পরের বছর ‘কামনা’ ছবিতে প্রথমবার নায়ক হওয়ার সুযোগ পান, তবে ছবিটি ব্যবসায়িক সাফল্য পায়নি।

শুরুর দিকে ‘মর্যাদা’, ‘সহযাত্রী’, ‘নষ্টনীড়’ ও ‘সঞ্জীবনী’-এর মতো ছবিগুলো দর্শক টানতে ব্যর্থ হওয়ায় চলচ্চিত্রপাড়ায় তাঁকে ‘ফ্লপ মাস্টার’ তকমা দেওয়া হয়েছিল। হতাশায় অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি টিকে ছিলেন। এই কঠিন সময়েই অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় থেকে তিনি হয়ে ওঠেন উত্তম কুমার।

প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে উত্তম কুমার ২০১টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তাঁর বিপরীতে ৩৫ জন অভিনেত্রী কাজ করলেও সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল সবচেয়ে আলোচিত। এই জুটি একসঙ্গে ২৯টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যা আজও বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা রসায়ন হিসেবে স্বীকৃত।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি পাঁচটি সিনেমা পরিচালনা করেছেন, সাতটি প্রযোজনা করেছেন এবং দুটি ছবিতে সুরারোপ করেছেন। চলচ্চিত্র ছাড়াও মঞ্চ ও যাত্রায় ছিল তাঁর পদচারণা। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন। তাঁর শারীরিক প্রস্থান ঘটলেও চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে আজও বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর প্রভাব অমলিন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ড্র করল বাংলাদেশ হকি দল

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মদিন আজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০০:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাদের জনপ্রিয়তার দীপ্তি সময়ের সীমানা পেরিয়ে আজও অমলিন। সেই নক্ষত্রলোকের শীর্ষেই জ্বলজ্বল করছে মহানায়ক উত্তম কুমারের নাম। অতুলনীয় অভিনয়, ব্যক্তিত্বের মোহনীয় জাদু আর রাজকীয় পর্দার উপস্থিতিতে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন বাংলা সিনেমার এক একক ও অনন্য অধ্যায়ে। কালজয়ী এই মহানায়কের জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা।

১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার ভবানীপুরে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন উত্তম কুমার। তাঁর জন্মনাম ছিল অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। বাবা সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় ও মা চপলা দেবীর সন্তান অরুণের বেড়ে ওঠা উত্তর কলকাতার এক যৌথ পরিবারে, যেখানে ছোটবেলা থেকেই নাট্যচর্চার পরিবেশ ছিল। পরিবারের সদস্যদের নাটকের দল থাকায় অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।

পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে একসময় কলকাতা পোর্ট কমিশনার্সের দপ্তরে কেরানির চাকরি নেন উত্তম কুমার। তবে জীবিকার জন্য চাকরি করলেও তাঁর স্বপ্ন ছিল সিনেমার পর্দায় অভিনয়ের। ১৯৪৭ সালে মুক্তি না পাওয়া হিন্দি ছবি ‘মায়াডোর’-এ একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর পথচলা শুরু। এরপর নীতিন বসু পরিচালিত ‘দৃষ্টিদান’ (১৯৪৮) ছবির মাধ্যমে তিনি প্রথমবার বড় পর্দায় আসেন, তখনো তিনি অরুণ কুমার নামেই পরিচিত ছিলেন। পরের বছর ‘কামনা’ ছবিতে প্রথমবার নায়ক হওয়ার সুযোগ পান, তবে ছবিটি ব্যবসায়িক সাফল্য পায়নি।

শুরুর দিকে ‘মর্যাদা’, ‘সহযাত্রী’, ‘নষ্টনীড়’ ও ‘সঞ্জীবনী’-এর মতো ছবিগুলো দর্শক টানতে ব্যর্থ হওয়ায় চলচ্চিত্রপাড়ায় তাঁকে ‘ফ্লপ মাস্টার’ তকমা দেওয়া হয়েছিল। হতাশায় অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি টিকে ছিলেন। এই কঠিন সময়েই অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় থেকে তিনি হয়ে ওঠেন উত্তম কুমার।

প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে উত্তম কুমার ২০১টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তাঁর বিপরীতে ৩৫ জন অভিনেত্রী কাজ করলেও সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল সবচেয়ে আলোচিত। এই জুটি একসঙ্গে ২৯টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যা আজও বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা রসায়ন হিসেবে স্বীকৃত।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি পাঁচটি সিনেমা পরিচালনা করেছেন, সাতটি প্রযোজনা করেছেন এবং দুটি ছবিতে সুরারোপ করেছেন। চলচ্চিত্র ছাড়াও মঞ্চ ও যাত্রায় ছিল তাঁর পদচারণা। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন। তাঁর শারীরিক প্রস্থান ঘটলেও চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে আজও বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর প্রভাব অমলিন।