লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পোশাকশিল্পের ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ

দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ জোরদার করতে যৌথভাবে কাজ করবে বিজিএমইএ এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা এ তথ্য জানান। তারা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন একটি কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।

‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক’ এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বার্ধক্যে নাগরিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এই ব্যবস্থা চালু করেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলবে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি জানান, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা এই স্কিমে অংশ নিতে পারবেন এবং ৬০ বছর পূর্ণ হলে নিয়মিত পেনশন সুবিধা পাবেন। যদি কোনো গ্রাহক পেনশন পাওয়ার বয়সের আগে মারা যান, তবে তার মনোনীত ব্যক্তি (নমিনী) জমাকৃত অর্থ ও মুনাফা পাবেন। এছাড়া আর্থিক সমস্যা দেখা দিলে চাঁদার পরিমাণ সমন্বয়ের সুযোগও রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রম আইন ২০২৬-এর সংশোধনী অনুযায়ী, ১০০ জনের বেশি শ্রমিক কর্মরত থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের পেনশনের আওতায় আনা বাধ্যতামূলক। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শ্রমিকদের জন্য পেনশন হিসাব খোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুত পেনশনের আওতায় আনা প্রয়োজন। শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তিনি প্রথম দুই বছরের জন্য সরকারি প্রণোদনার দাবি জানান। পাশাপাশি পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব দেন তিনি।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উল্লেখ করে বলেন, প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং ধারাবাহিকভাবে তা পরিচালনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সম্ভাব্য মুনাফার হার শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ লক্ষ্যে শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করতে বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।

এই আলোচনা সভায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার মালিক, কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর দেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, দেশের বৃহত্তম রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের পেনশনের আওতায় আনা সম্ভব হলে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষা আরও মজবুত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণ করলেন সহশিল্পী মৌসুমী

পোশাকশিল্পের ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ জোরদার করতে যৌথভাবে কাজ করবে বিজিএমইএ এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা এ তথ্য জানান। তারা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন একটি কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।

‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক’ এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বার্ধক্যে নাগরিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এই ব্যবস্থা চালু করেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলবে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি জানান, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা এই স্কিমে অংশ নিতে পারবেন এবং ৬০ বছর পূর্ণ হলে নিয়মিত পেনশন সুবিধা পাবেন। যদি কোনো গ্রাহক পেনশন পাওয়ার বয়সের আগে মারা যান, তবে তার মনোনীত ব্যক্তি (নমিনী) জমাকৃত অর্থ ও মুনাফা পাবেন। এছাড়া আর্থিক সমস্যা দেখা দিলে চাঁদার পরিমাণ সমন্বয়ের সুযোগও রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রম আইন ২০২৬-এর সংশোধনী অনুযায়ী, ১০০ জনের বেশি শ্রমিক কর্মরত থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের পেনশনের আওতায় আনা বাধ্যতামূলক। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শ্রমিকদের জন্য পেনশন হিসাব খোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুত পেনশনের আওতায় আনা প্রয়োজন। শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তিনি প্রথম দুই বছরের জন্য সরকারি প্রণোদনার দাবি জানান। পাশাপাশি পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব দেন তিনি।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উল্লেখ করে বলেন, প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং ধারাবাহিকভাবে তা পরিচালনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সম্ভাব্য মুনাফার হার শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ লক্ষ্যে শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করতে বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।

এই আলোচনা সভায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার মালিক, কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর দেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, দেশের বৃহত্তম রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের পেনশনের আওতায় আনা সম্ভব হলে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষা আরও মজবুত হবে।