লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন, যিনি সালমান শাহ নামেই বেশি পরিচিত, তার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। রোববার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এই নতুন দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম।

মামলাটির প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ মারা যান। শুরুতে তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি ছেলেকে হত্যার অভিযোগ এনে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। সিআইডি দীর্ঘ তদন্তের পর ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় এবং সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। তবে বাদীপক্ষ সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রিভিশন মঞ্জুর করে এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২০ মে তদন্ত কর্মকর্তা প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২৪ মে লাশ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি প্রদান করা হয়। যদিও বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন, পরে তা নথিভুক্ত হয়। এছাড়া গত ২২ জুন এই প্রক্রিয়ার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেছিলেন যে, ঘটনার দিন সালমানের বাবা-মা এবং ভাই তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাকে নিথর অবস্থায় পেয়েছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণ করলেন সহশিল্পী মৌসুমী

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন, যিনি সালমান শাহ নামেই বেশি পরিচিত, তার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। রোববার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এই নতুন দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম।

মামলাটির প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ মারা যান। শুরুতে তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি ছেলেকে হত্যার অভিযোগ এনে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। সিআইডি দীর্ঘ তদন্তের পর ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় এবং সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। তবে বাদীপক্ষ সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রিভিশন মঞ্জুর করে এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২০ মে তদন্ত কর্মকর্তা প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২৪ মে লাশ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি প্রদান করা হয়। যদিও বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন, পরে তা নথিভুক্ত হয়। এছাড়া গত ২২ জুন এই প্রক্রিয়ার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেছিলেন যে, ঘটনার দিন সালমানের বাবা-মা এবং ভাই তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাকে নিথর অবস্থায় পেয়েছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।