লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আটক নারীদের মুখ দেখাতে পুলিশের বাধ্য করা: মানবাধিকার লঙ্ঘন

রাজধানীর আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার নিউ রংধনু আবাসিক হোটেলে গত ১২ আগস্ট ডিবির একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে বেশ কয়েকজন নারীকে আটক করা হয় এবং তাদের একটি কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের দুজন নারী সদস্য আটক নারীদের জোর করে ধরে মুখ দেখাতে বাধ্য করছেন। এ সময় একজন নারী কাঁদছিলেন, কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, ‘সব খোল, সব খোল, এই মাস্ক খোল, ঢাকবি না, ঢাকলে কিন্তু মাইর হবে।’

অভিযানের সময় ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আটক নারীদের মুখ ঢাকতে বাধা দেওয়ার নির্দেশ তিনিই দিয়েছিলেন। ভিডিওতে তাঁকে মাস্ক পরা অবস্থায় এমন কথা বলতে শোনা গেছে। তবে ইলিয়াস কবির অভিযোগ অস্বীকার করে ২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোকে বলেন, অনেক সময় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য আটক ব্যক্তিদের মাস্ক সরাতে বলা হতে পারে, কিন্তু কাউকে মুখ দেখাতে বাধ্য করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভালো কাজের চেষ্টা করি। এটা করতে গিয়ে টুকটাক ভুল হতে পারে। কারণ, আমরা তো মানুষ, ফেরেশতা না।’

এই ঘটনাটি ইউটিউবার এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রচারের পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান বলেন, কোনো নারী অপরাধ করলে বিচার হবে, কিন্তু পুলিশ বিচারের আগেই একধরনের শাস্তির আয়োজন করছে, যা বেআইনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, পুলিশের অভিযানে ইউটিউবার বা সাংবাদিকদের নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ‘ভিউর’ জন্য অনৈতিক কাজে কিছু সাংবাদিকের অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের।

আইনজীবীরা বলছেন, পুলিশের এ ধরনের আচরণ বেআইনি। সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কাউকে যন্ত্রণা দেওয়া বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া নিষিদ্ধ। এছাড়া ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গণমাধ্যমের সামনে হাজির না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, উদ্দেশ্য যা-ই হোক, পুলিশের এই বেআইনি চর্চা বন্ধ করতে হবে। বর্তমানে অনেক বাহিনী আটক ব্যক্তির মুখ অস্পষ্ট (ব্লার) করে দিলেও, এই ঘটনায় তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণ করলেন সহশিল্পী মৌসুমী

আটক নারীদের মুখ দেখাতে পুলিশের বাধ্য করা: মানবাধিকার লঙ্ঘন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার নিউ রংধনু আবাসিক হোটেলে গত ১২ আগস্ট ডিবির একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে বেশ কয়েকজন নারীকে আটক করা হয় এবং তাদের একটি কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের দুজন নারী সদস্য আটক নারীদের জোর করে ধরে মুখ দেখাতে বাধ্য করছেন। এ সময় একজন নারী কাঁদছিলেন, কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, ‘সব খোল, সব খোল, এই মাস্ক খোল, ঢাকবি না, ঢাকলে কিন্তু মাইর হবে।’

অভিযানের সময় ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আটক নারীদের মুখ ঢাকতে বাধা দেওয়ার নির্দেশ তিনিই দিয়েছিলেন। ভিডিওতে তাঁকে মাস্ক পরা অবস্থায় এমন কথা বলতে শোনা গেছে। তবে ইলিয়াস কবির অভিযোগ অস্বীকার করে ২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোকে বলেন, অনেক সময় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য আটক ব্যক্তিদের মাস্ক সরাতে বলা হতে পারে, কিন্তু কাউকে মুখ দেখাতে বাধ্য করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভালো কাজের চেষ্টা করি। এটা করতে গিয়ে টুকটাক ভুল হতে পারে। কারণ, আমরা তো মানুষ, ফেরেশতা না।’

এই ঘটনাটি ইউটিউবার এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রচারের পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান বলেন, কোনো নারী অপরাধ করলে বিচার হবে, কিন্তু পুলিশ বিচারের আগেই একধরনের শাস্তির আয়োজন করছে, যা বেআইনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, পুলিশের অভিযানে ইউটিউবার বা সাংবাদিকদের নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ‘ভিউর’ জন্য অনৈতিক কাজে কিছু সাংবাদিকের অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের।

আইনজীবীরা বলছেন, পুলিশের এ ধরনের আচরণ বেআইনি। সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কাউকে যন্ত্রণা দেওয়া বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া নিষিদ্ধ। এছাড়া ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গণমাধ্যমের সামনে হাজির না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, উদ্দেশ্য যা-ই হোক, পুলিশের এই বেআইনি চর্চা বন্ধ করতে হবে। বর্তমানে অনেক বাহিনী আটক ব্যক্তির মুখ অস্পষ্ট (ব্লার) করে দিলেও, এই ঘটনায় তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে।