লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৈমনসিংহ গীতিকার মলুয়া: থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানির প্রথম প্রযোজনা ও দর্শক সাড়া

মৈমনসিংহ গীতিকার পালা অবলম্বনে থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানির প্রথম প্রযোজনা 'মলুয়া' নিয়ে দর্শক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। প্রতিটি প্রদর্শনীর টিকিট হাউসফুল হওয়ার পাশাপাশি নাটকটি প্রশংসা কুড়িয়েছে নানা বয়সী দর্শকের।

সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলের সামনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছিল নাট্যপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানির প্রথম প্রযোজনা ‘মলুয়া’ দেখার জন্য কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন দর্শকরা। নাটক শুরুর আগেই টিকিট প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় লবিতে ছিল দর্শকদের সরব উপস্থিতি। দর্শকদের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে ছিল চা, বাতাসা ও খইয়ের ব্যবস্থা।

সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বন্দনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নাটকটির প্রদর্শনী। শুরুতেই গায়েন দর্শকদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন, এটি একটি ‘গেটলক সার্ভিস’ নাটক, যেখানে হলের বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো থাকে। দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত মৈমনসিংহ গীতিকার জনপ্রিয় পালা অবলম্বনে এই নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন সাইফুল জার্নাল।

নাটকের গল্পে মলুয়া ও চাঁদ বিনোদের প্রেমের পরিণয় এবং পরবর্তীতে গ্রামের ক্ষমতাবান কাজির কুদৃষ্টির শিকার হওয়ার ঘটনা উঠে আসে। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় শুরু হয় প্রতিশোধের পালা; বিনোদের ওপর বড় অঙ্কের কর চাপানো হয় এবং তাকে নিরলক্ষাইয়ের বিলে বন্দী করা হয়। দেওয়ানের হাওলিতে নিজেকে রক্ষা করার পর গ্রামে ফিরে মলুয়াকে সমাজ ও স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া অপমান ও সন্দেহের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে বিনোদের সাপের কামড়ে অসুস্থ হওয়ার পর তাকে বাঁচাতে মলুয়ার লড়াই নাটকটিকে কেবল প্রেমের গল্প নয়, বরং নারীর আত্মমর্যাদা ও দায়িত্ববোধের আখ্যানে রূপ দেয়।

প্রযোজনাটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মলুয়া চরিত্রে হুমায়রা স্নিগ্ধা, প্রেমা ও নানজীবা শৈলীর অভিনয়। একই চরিত্রে তিন শিল্পীর উপস্থিতি মলুয়াকে নির্দিষ্ট সময়ের গণ্ডি থেকে বের করে অনেক নারীর প্রতিচ্ছবি করে তুলেছে। এছাড়া হাসনাত রিপন চাঁদ বিনোদ চরিত্রে শক্তিশালী অভিনয় করেছেন। প্রিয়ম মজুমদার বিনোদ, ঘটক ও গায়েন—একাধিক চরিত্রে শরীরী অভিনয় ও কমেডির মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন। শাহরিয়ার সজীব হীরাধর ও পি কে ফজল কাজি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়া গোপী দেবনাথ, ধ্রুব, অরিন, শাহীন সাইদুর ও নুসরাত জাহান ইরা বিভিন্ন চরিত্রে সমানতালে অভিনয় করেছেন।

প্রচলিত নাট্যরীতি ভেঙে একাধিক শিল্পীর একই চরিত্রে অভিনয় এবং একজন শিল্পীর একাধিক চরিত্রে রূপান্তর প্রযোজনাটিকে স্বকীয়তা দিয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি কোরিওগ্রাফি, আলোক পরিকল্পনা, পোশাক ও মঞ্চসজ্জা নাটকটিকে উপভোগ্য করে তুলেছে। প্রদর্শনী শেষে ‘কাংখেতে গাগরী কন্যা’ গানের সঙ্গে কলাকুশলীদের মঞ্চ প্রদক্ষিণ দর্শকদের মুগ্ধ করে। বর্ষীয়ান প্রযোজক হাবিবুর রহমানসহ উপস্থিত দর্শকরা নাটকটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে দুটি এবং বনানীর যাত্রা বিরতিতে একটি প্রদর্শনীর পর পরীক্ষণ থিয়েটারেও চারটি প্রদর্শনী ছিল হাউসফুল। সাইফুল জার্নাল জানান, অপসংস্কৃতির আগ্রাসনে যখন নারীরা অবহেলার শিকার হন, তখনই মলুয়া, বেহুলা কিংবা মহুয়ারা নতুন অর্থ নিয়ে ফিরে আসেন। কয়েকটি নাট্যদল ও দুটি ব্যান্ডের শিল্পীদের যৌথ উদ্যোগে গঠিত হয়েছে ‘থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি’।”

প্রদর্শনী শেষে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় মলুয়া যতবার মঞ্চস্থ হবে, আমি ততবারই দেখতে আসব।’.বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তিনটি হল মিলিয়ে পুরো মাসে নাটকের প্রদর্শনী হয় ৬৫–৭০টি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ড্র করল বাংলাদেশ হকি দল

মৈমনসিংহ গীতিকার মলুয়া: থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানির প্রথম প্রযোজনা ও দর্শক সাড়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলের সামনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছিল নাট্যপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানির প্রথম প্রযোজনা ‘মলুয়া’ দেখার জন্য কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন দর্শকরা। নাটক শুরুর আগেই টিকিট প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় লবিতে ছিল দর্শকদের সরব উপস্থিতি। দর্শকদের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে ছিল চা, বাতাসা ও খইয়ের ব্যবস্থা।

সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বন্দনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নাটকটির প্রদর্শনী। শুরুতেই গায়েন দর্শকদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন, এটি একটি ‘গেটলক সার্ভিস’ নাটক, যেখানে হলের বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো থাকে। দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত মৈমনসিংহ গীতিকার জনপ্রিয় পালা অবলম্বনে এই নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন সাইফুল জার্নাল।

নাটকের গল্পে মলুয়া ও চাঁদ বিনোদের প্রেমের পরিণয় এবং পরবর্তীতে গ্রামের ক্ষমতাবান কাজির কুদৃষ্টির শিকার হওয়ার ঘটনা উঠে আসে। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় শুরু হয় প্রতিশোধের পালা; বিনোদের ওপর বড় অঙ্কের কর চাপানো হয় এবং তাকে নিরলক্ষাইয়ের বিলে বন্দী করা হয়। দেওয়ানের হাওলিতে নিজেকে রক্ষা করার পর গ্রামে ফিরে মলুয়াকে সমাজ ও স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া অপমান ও সন্দেহের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে বিনোদের সাপের কামড়ে অসুস্থ হওয়ার পর তাকে বাঁচাতে মলুয়ার লড়াই নাটকটিকে কেবল প্রেমের গল্প নয়, বরং নারীর আত্মমর্যাদা ও দায়িত্ববোধের আখ্যানে রূপ দেয়।

প্রযোজনাটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মলুয়া চরিত্রে হুমায়রা স্নিগ্ধা, প্রেমা ও নানজীবা শৈলীর অভিনয়। একই চরিত্রে তিন শিল্পীর উপস্থিতি মলুয়াকে নির্দিষ্ট সময়ের গণ্ডি থেকে বের করে অনেক নারীর প্রতিচ্ছবি করে তুলেছে। এছাড়া হাসনাত রিপন চাঁদ বিনোদ চরিত্রে শক্তিশালী অভিনয় করেছেন। প্রিয়ম মজুমদার বিনোদ, ঘটক ও গায়েন—একাধিক চরিত্রে শরীরী অভিনয় ও কমেডির মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন। শাহরিয়ার সজীব হীরাধর ও পি কে ফজল কাজি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়া গোপী দেবনাথ, ধ্রুব, অরিন, শাহীন সাইদুর ও নুসরাত জাহান ইরা বিভিন্ন চরিত্রে সমানতালে অভিনয় করেছেন।

প্রচলিত নাট্যরীতি ভেঙে একাধিক শিল্পীর একই চরিত্রে অভিনয় এবং একজন শিল্পীর একাধিক চরিত্রে রূপান্তর প্রযোজনাটিকে স্বকীয়তা দিয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি কোরিওগ্রাফি, আলোক পরিকল্পনা, পোশাক ও মঞ্চসজ্জা নাটকটিকে উপভোগ্য করে তুলেছে। প্রদর্শনী শেষে ‘কাংখেতে গাগরী কন্যা’ গানের সঙ্গে কলাকুশলীদের মঞ্চ প্রদক্ষিণ দর্শকদের মুগ্ধ করে। বর্ষীয়ান প্রযোজক হাবিবুর রহমানসহ উপস্থিত দর্শকরা নাটকটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে দুটি এবং বনানীর যাত্রা বিরতিতে একটি প্রদর্শনীর পর পরীক্ষণ থিয়েটারেও চারটি প্রদর্শনী ছিল হাউসফুল। সাইফুল জার্নাল জানান, অপসংস্কৃতির আগ্রাসনে যখন নারীরা অবহেলার শিকার হন, তখনই মলুয়া, বেহুলা কিংবা মহুয়ারা নতুন অর্থ নিয়ে ফিরে আসেন। কয়েকটি নাট্যদল ও দুটি ব্যান্ডের শিল্পীদের যৌথ উদ্যোগে গঠিত হয়েছে ‘থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি’।”

প্রদর্শনী শেষে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় মলুয়া যতবার মঞ্চস্থ হবে, আমি ততবারই দেখতে আসব।’.বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তিনটি হল মিলিয়ে পুরো মাসে নাটকের প্রদর্শনী হয় ৬৫–৭০টি।