লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক-মোদির বৈঠকের পর গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন হতে পারে

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে চলায় এটি নবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এই ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের প্রতিবেদন পেশ করার পরই চুক্তি নবায়নের মূল প্রক্রিয়া শুরু হবে।

১৯৯৬ সালের ১২ই ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি বণ্টনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। এখন চুক্তিটি কীভাবে নবায়ন হবে, তা নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকালে এটি আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হবে এবং তখনই দুই দেশের মধ্যে এ ব্যাপারে সমঝোতার পথ প্রশস্ত হতে পারে।

চুক্তিটির অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হলো ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গার পানি বণ্টনের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। ১৯৭৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর ওপর এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। দুই দেশের মধ্যে থাকা ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীর মধ্যে গঙ্গার পানি প্রবাহ ঋতুভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। যদিও চুক্তিটির মেয়াদ ৩০ বছর, তবুও প্রতি পাঁচ বছর পর পর এটি পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। এছাড়া যেকোনো পক্ষ চাইলে দুই বছর পর পরই এর প্রভাব মূল্যায়নের জন্য পর্যালোচনার দাবি জানাতে পারে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত প্রতি দশদিন অন্তর পানি বণ্টন করা হয়। যদি ফারাক্কায় পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে যায়, তবে বাংলাদেশ ও ভারত সমান অনুপাতে পানি পাবে। পানির প্রবাহ ৭০ থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে এবং অবশিষ্ট পানি ভারতের থাকবে। প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পানি রাখবে এবং বাকি পানি বাংলাদেশ পাবে। এছাড়া পানির প্রবাহ ৫০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে গেলে দুই দেশের মধ্যে জরুরি বৈঠকের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফারাক্কা ফিডার ক্যানেল এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নেভিগেশন লকে পানির প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে একটি যৌথ কমিটি, যারা উভয় দেশের সরকারের কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিয়ে থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কোন খাবার হজম হতে কত সময় লাগে? জেনে নিন সঠিক নিয়ম

তারেক-মোদির বৈঠকের পর গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন হতে পারে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে চলায় এটি নবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এই ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের প্রতিবেদন পেশ করার পরই চুক্তি নবায়নের মূল প্রক্রিয়া শুরু হবে।

১৯৯৬ সালের ১২ই ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি বণ্টনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। এখন চুক্তিটি কীভাবে নবায়ন হবে, তা নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকালে এটি আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হবে এবং তখনই দুই দেশের মধ্যে এ ব্যাপারে সমঝোতার পথ প্রশস্ত হতে পারে।

চুক্তিটির অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হলো ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গার পানি বণ্টনের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। ১৯৭৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর ওপর এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। দুই দেশের মধ্যে থাকা ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীর মধ্যে গঙ্গার পানি প্রবাহ ঋতুভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। যদিও চুক্তিটির মেয়াদ ৩০ বছর, তবুও প্রতি পাঁচ বছর পর পর এটি পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। এছাড়া যেকোনো পক্ষ চাইলে দুই বছর পর পরই এর প্রভাব মূল্যায়নের জন্য পর্যালোচনার দাবি জানাতে পারে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত প্রতি দশদিন অন্তর পানি বণ্টন করা হয়। যদি ফারাক্কায় পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে যায়, তবে বাংলাদেশ ও ভারত সমান অনুপাতে পানি পাবে। পানির প্রবাহ ৭০ থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে এবং অবশিষ্ট পানি ভারতের থাকবে। প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পানি রাখবে এবং বাকি পানি বাংলাদেশ পাবে। এছাড়া পানির প্রবাহ ৫০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে গেলে দুই দেশের মধ্যে জরুরি বৈঠকের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফারাক্কা ফিডার ক্যানেল এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নেভিগেশন লকে পানির প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে একটি যৌথ কমিটি, যারা উভয় দেশের সরকারের কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিয়ে থাকে।