লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানিতে নতুন বিধি, বিভক্ত ব্যবসায়ীরা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশীয় বস্ত্রকলগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে বন্ড সুবিধায় ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির সুবিধা বাতিল করেছে। গত সোমবার এনবিআর এই সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে। তবে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে সুতা আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন নিয়মে, রপ্তানিকারকদের সুতা আমদানির সময় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ বা বিটিএমএ-এর প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে এবং আমদানিকৃত কাঁচামাল দিয়ে প্রস্তুত পোশাক রপ্তানি হওয়ার পর সেই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হবে। এনবিআরের আদেশ জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ আজ মঙ্গলবার তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম যৌথভাবে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের মালিকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এর ফলে স্থানীয় সুতার চাহিদা বাড়বে, বন্ধ ও আংশিক বন্ধ থাকা বস্ত্রকলগুলো পুনরায় সচল হবে এবং দেশীয় পণ্যের মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি পাবে। বিটিএমএ জানায়, বর্তমানে দেশে ৫২৭টি স্পিনিং মিলসহ মোট ১ হাজার ৮ শতাধিক বস্ত্রকল রয়েছে, যেখানে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। উল্লেখ্য, স্থানীয় বস্ত্রকলগুলো নিট পোশাকশিল্পের ৮০ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের প্রায় ৪০ শতাংশ সুতা সরবরাহ করে।

অন্যদিকে, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম যৌথভাবে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, গত ২০ আগস্টের আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় ১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানি বন্ধের বিষয়ে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁদের দাবি, সভার কার্যবিবরণীতে এমন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা নিয়ে আলোচনা হয়নি।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানি করতে ৪০ শতাংশে কর লাগে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের জন্য বড় বোঝা। এছাড়া, ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, এই নতুন বিধিনিষেধ বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেবে এবং দেশের পোশাক রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের এপ্রিলে ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধের পর থেকে দেশীয় বস্ত্র খাতকে সুরক্ষা দিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে সুতা ব্যবহারে নগদ সহায়তা দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে, যার জন্য সরকারের প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজিএমইএ সভাপতি জানিয়েছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন এবং তিনি দেশে ফিরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমোহনে র্যালি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত

বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানিতে নতুন বিধি, বিভক্ত ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশীয় বস্ত্রকলগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে বন্ড সুবিধায় ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির সুবিধা বাতিল করেছে। গত সোমবার এনবিআর এই সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে। তবে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে সুতা আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন নিয়মে, রপ্তানিকারকদের সুতা আমদানির সময় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ বা বিটিএমএ-এর প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে এবং আমদানিকৃত কাঁচামাল দিয়ে প্রস্তুত পোশাক রপ্তানি হওয়ার পর সেই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হবে। এনবিআরের আদেশ জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ আজ মঙ্গলবার তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম যৌথভাবে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের মালিকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এর ফলে স্থানীয় সুতার চাহিদা বাড়বে, বন্ধ ও আংশিক বন্ধ থাকা বস্ত্রকলগুলো পুনরায় সচল হবে এবং দেশীয় পণ্যের মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি পাবে। বিটিএমএ জানায়, বর্তমানে দেশে ৫২৭টি স্পিনিং মিলসহ মোট ১ হাজার ৮ শতাধিক বস্ত্রকল রয়েছে, যেখানে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। উল্লেখ্য, স্থানীয় বস্ত্রকলগুলো নিট পোশাকশিল্পের ৮০ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের প্রায় ৪০ শতাংশ সুতা সরবরাহ করে।

অন্যদিকে, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম যৌথভাবে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, গত ২০ আগস্টের আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় ১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানি বন্ধের বিষয়ে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁদের দাবি, সভার কার্যবিবরণীতে এমন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা নিয়ে আলোচনা হয়নি।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানি করতে ৪০ শতাংশে কর লাগে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের জন্য বড় বোঝা। এছাড়া, ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, এই নতুন বিধিনিষেধ বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেবে এবং দেশের পোশাক রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের এপ্রিলে ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধের পর থেকে দেশীয় বস্ত্র খাতকে সুরক্ষা দিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে সুতা ব্যবহারে নগদ সহায়তা দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে, যার জন্য সরকারের প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজিএমইএ সভাপতি জানিয়েছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন এবং তিনি দেশে ফিরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন।