লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনজীর আমিরাতেই, দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক চাপ দিচ্ছে সরকার

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সেন্ট লুসিয়ায় নয়, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, সেখানে তার ওপর নজরদারি রাখতে আমিরাত সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় এই ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের (ঢাকা-১৪) উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এই ব্যাখ্যা দেন। মীর আহমদ বিন কাসেম তার প্রস্তাবে বেনজীর আহমেদকে সেন্ট লুসিয়া থেকে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে হুমায়ুন কবির বলেন, সংসদ সদস্য সুশিক্ষিত এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তথ্যে কিছুটা ঘাটতি আছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে সেন্ট লুসিয়ার কথা বলা হলেও, দূতাবাসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তারা এমন কোনো বিষয়ে অবগত নন। এর মানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের দূতাবাস সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করেছে এবং সংস্থাগুলোকে তার ওপর নজর রাখার অনুরোধ করেছে। বিচারের দীর্ঘ হাত দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রত্যেক সন্ত্রাসীকে টেনে-হিঁচড়ে ফিরিয়ে আনবে। আমিরাতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আমাদের কোনো সক্রিয় দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে প্রতিটি আলাদা ঘটনার ভিত্তিতে বিশেষ বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সক্রিয় কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম করছে যাতে বিশেষ বিবেচনায় এই হত্যাকারীকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

বেনজীর আহমেদকে ‘খুনি’ ও ‘জাতির দুশমন’ আখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষকে নিপীড়নকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি শুধু বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদেরই হত্যা করেননি, সাধারণ মানুষকেও হত্যা করেছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় তিনি যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে আরও যারা হেফাজতে আছেন, তাদের মধ্যে কর্নেল জিয়াও রয়েছেন। তিনি সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্ট সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুম করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং শুনছি তাকে হত্যা করা হয়েছে। সরকার এই বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার আওতায় সেই অপরাধীদের প্রত্যেককে ধরে আনতে সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশ লুটে ও মানুষ হত্যা করে যারা পালিয়েছে, সবাইকে ধরে আনা হবে এবং দলমত নির্বিশেষে সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঠালিয়ায় ৩৯ পোটলা গাঁ/জাসহ আটক ০১ জন।

বেনজীর আমিরাতেই, দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক চাপ দিচ্ছে সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সেন্ট লুসিয়ায় নয়, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, সেখানে তার ওপর নজরদারি রাখতে আমিরাত সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় এই ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের (ঢাকা-১৪) উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এই ব্যাখ্যা দেন। মীর আহমদ বিন কাসেম তার প্রস্তাবে বেনজীর আহমেদকে সেন্ট লুসিয়া থেকে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে হুমায়ুন কবির বলেন, সংসদ সদস্য সুশিক্ষিত এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তথ্যে কিছুটা ঘাটতি আছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে সেন্ট লুসিয়ার কথা বলা হলেও, দূতাবাসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তারা এমন কোনো বিষয়ে অবগত নন। এর মানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের দূতাবাস সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করেছে এবং সংস্থাগুলোকে তার ওপর নজর রাখার অনুরোধ করেছে। বিচারের দীর্ঘ হাত দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রত্যেক সন্ত্রাসীকে টেনে-হিঁচড়ে ফিরিয়ে আনবে। আমিরাতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আমাদের কোনো সক্রিয় দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে প্রতিটি আলাদা ঘটনার ভিত্তিতে বিশেষ বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সক্রিয় কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম করছে যাতে বিশেষ বিবেচনায় এই হত্যাকারীকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

বেনজীর আহমেদকে ‘খুনি’ ও ‘জাতির দুশমন’ আখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষকে নিপীড়নকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি শুধু বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদেরই হত্যা করেননি, সাধারণ মানুষকেও হত্যা করেছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় তিনি যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে আরও যারা হেফাজতে আছেন, তাদের মধ্যে কর্নেল জিয়াও রয়েছেন। তিনি সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্ট সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুম করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং শুনছি তাকে হত্যা করা হয়েছে। সরকার এই বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার আওতায় সেই অপরাধীদের প্রত্যেককে ধরে আনতে সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশ লুটে ও মানুষ হত্যা করে যারা পালিয়েছে, সবাইকে ধরে আনা হবে এবং দলমত নির্বিশেষে সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকতে হবে।