লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্যে হট্টগোল ও উত্তেজনা

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব এবং বিলের সাধারণ নীতির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের প্রতিবাদের মুখে অধিবেশন কক্ষ কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজনার মধ্যেই নিজের বক্তব্য চালিয়ে যান রুমিন ফারহানা। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সংসদে বর্তমানের চেয়েও অসহিষ্ণু পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা আওয়ামী লীগ আমলের চেয়ে খারাপ।

উক্ত বিলটির ওপর ১৫ জন সংসদ সদস্য জনমত যাচাই এবং ১৪ জন বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এর মধ্যে বিরোধী দলের বেশিরভাগ সদস্য তাদের প্রস্তাব উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নিলেও রুমিন ফারহানা ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল তা করেননি।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, সারের সংকট, কৃষকদের সার কারখানায় লুটপাট, এবং বাংলাদেশ ঋণখেলাপিতে বিশ্বের সর্বোচ্চ অবস্থানে চলে যাওয়া। তিনি ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে না। এ সময় সংসদে হৈচৈ শুরু হলে তিনি পাল্টা মন্তব্য করেন যে, এই অসহিষ্ণু সংসদ যেন আওয়ামী লীগের আমলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

আইনের ১৮-এর ক ধারা যুক্ত করার সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত বলেই এই ধারা রাখা হয়েছে। নির্বাচনের আগে হাইকোর্টে রিট করে খেলাপি তালিকা থেকে নাম কাটানোর সংস্কৃতিকে তিনি পুরোনো বলে অভিহিত করেন। এ পর্যায়ে সংসদে আবারও হট্টগোল শুরু হলে ডেপুটি স্পিকার বারবার সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং অর্ডার দেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্পিকার এ সময় চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে বলেন, একজন সদস্যের বক্তব্য রাখার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে। তিনি আরও বলেন, সরকারি দলের সদস্যরা তাদের সময় এলে বক্তব্য খণ্ডন করতে পারেন, কিন্তু বাধা দেওয়া কাম্য নয়। সবশেষে স্পিকার পরবর্তী বক্তা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে ফ্লোর দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

টোটাল এনার্জিস থেকে ১৮ কার্গো এলএনজি আমদানিতে নীতিগত অনুমোদন

সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্যে হট্টগোল ও উত্তেজনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব এবং বিলের সাধারণ নীতির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের প্রতিবাদের মুখে অধিবেশন কক্ষ কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজনার মধ্যেই নিজের বক্তব্য চালিয়ে যান রুমিন ফারহানা। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সংসদে বর্তমানের চেয়েও অসহিষ্ণু পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা আওয়ামী লীগ আমলের চেয়ে খারাপ।

উক্ত বিলটির ওপর ১৫ জন সংসদ সদস্য জনমত যাচাই এবং ১৪ জন বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এর মধ্যে বিরোধী দলের বেশিরভাগ সদস্য তাদের প্রস্তাব উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নিলেও রুমিন ফারহানা ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল তা করেননি।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, সারের সংকট, কৃষকদের সার কারখানায় লুটপাট, এবং বাংলাদেশ ঋণখেলাপিতে বিশ্বের সর্বোচ্চ অবস্থানে চলে যাওয়া। তিনি ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে না। এ সময় সংসদে হৈচৈ শুরু হলে তিনি পাল্টা মন্তব্য করেন যে, এই অসহিষ্ণু সংসদ যেন আওয়ামী লীগের আমলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

আইনের ১৮-এর ক ধারা যুক্ত করার সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত বলেই এই ধারা রাখা হয়েছে। নির্বাচনের আগে হাইকোর্টে রিট করে খেলাপি তালিকা থেকে নাম কাটানোর সংস্কৃতিকে তিনি পুরোনো বলে অভিহিত করেন। এ পর্যায়ে সংসদে আবারও হট্টগোল শুরু হলে ডেপুটি স্পিকার বারবার সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং অর্ডার দেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্পিকার এ সময় চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে বলেন, একজন সদস্যের বক্তব্য রাখার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে। তিনি আরও বলেন, সরকারি দলের সদস্যরা তাদের সময় এলে বক্তব্য খণ্ডন করতে পারেন, কিন্তু বাধা দেওয়া কাম্য নয়। সবশেষে স্পিকার পরবর্তী বক্তা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে ফ্লোর দেন।