লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নিটওয়্যার খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি আদেশ বিপর্যয়

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কবলে পড়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের নিটওয়্যার পোশাক শিল্প। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাতটির ৭৮ শতাংশ কারখানায় বর্তমানে উৎপাদন আংশিক বন্ধ রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, নিটিং, ডায়িং এবং গার্মেন্টস সেলাইয়ের মতো মূল উৎপাদন প্রক্রিয়াগুলোতে উৎপাদন ৩৭ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী কারখানাগুলোর তথ্যমতে, গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়েছে। বিকেএমইএ’র সক্রিয় ৮০০ সদস্যের মধ্যে প্রায় ১৬০টি কারখানার তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ৭৫ শতাংশ কারখানা গ্যাস সংকটে এবং ৯০ শতাংশ কারখানা বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলোচ্য সময়ে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৭৮ শতাংশ কম ছিল।

রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর এই সংকটের প্রভাব অত্যন্ত প্রকট। জরিপ অনুযায়ী, ৫৫ শতাংশ কারখানায় রপ্তানি আদেশ হয় বাতিল হয়েছে, নয়তো উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এছাড়া ৮৭ শতাংশ রপ্তানিকারক সময়মতো শিপমেন্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরিস্থিতির চাপে পড়ে প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় দুইজন সাপ্লায়ার বিদেশি বায়ারদের ডিসকাউন্ট দিতে বাধ্য হয়েছেন। ৮৯ শতাংশ কারখানা মালিকের আশঙ্কা, তারা বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত ব্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসের বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাকে বিকল্প জ্বালানির জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে এবং সমসংখ্যক কারখানায় শ্রমঘণ্টার অপচয় ঘটেছে। আর্থিক ঝুঁকির বিষয়ে প্রতি দশজনে ছয়জন কারখানা মালিক জানিয়েছেন, তারা ঋণখেলাপির আশঙ্কায় আছেন। এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া ৭ শতাংশ মালিক জানিয়েছেন, তাদের কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুজব ছড়ানো পেজ ও অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নিটওয়্যার খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি আদেশ বিপর্যয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কবলে পড়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের নিটওয়্যার পোশাক শিল্প। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাতটির ৭৮ শতাংশ কারখানায় বর্তমানে উৎপাদন আংশিক বন্ধ রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, নিটিং, ডায়িং এবং গার্মেন্টস সেলাইয়ের মতো মূল উৎপাদন প্রক্রিয়াগুলোতে উৎপাদন ৩৭ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী কারখানাগুলোর তথ্যমতে, গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়েছে। বিকেএমইএ’র সক্রিয় ৮০০ সদস্যের মধ্যে প্রায় ১৬০টি কারখানার তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ৭৫ শতাংশ কারখানা গ্যাস সংকটে এবং ৯০ শতাংশ কারখানা বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলোচ্য সময়ে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৭৮ শতাংশ কম ছিল।

রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর এই সংকটের প্রভাব অত্যন্ত প্রকট। জরিপ অনুযায়ী, ৫৫ শতাংশ কারখানায় রপ্তানি আদেশ হয় বাতিল হয়েছে, নয়তো উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এছাড়া ৮৭ শতাংশ রপ্তানিকারক সময়মতো শিপমেন্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরিস্থিতির চাপে পড়ে প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় দুইজন সাপ্লায়ার বিদেশি বায়ারদের ডিসকাউন্ট দিতে বাধ্য হয়েছেন। ৮৯ শতাংশ কারখানা মালিকের আশঙ্কা, তারা বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত ব্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসের বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাকে বিকল্প জ্বালানির জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে এবং সমসংখ্যক কারখানায় শ্রমঘণ্টার অপচয় ঘটেছে। আর্থিক ঝুঁকির বিষয়ে প্রতি দশজনে ছয়জন কারখানা মালিক জানিয়েছেন, তারা ঋণখেলাপির আশঙ্কায় আছেন। এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া ৭ শতাংশ মালিক জানিয়েছেন, তাদের কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।