লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধের আগুনে ঘরহারা দুই ভাই, ৭ দিনে পাড়ি দিলেন ৩০০ কিলোমিটার

ইয়েমেনের হোদেইদাহ ও মোখা শহরের মধ্যবর্তী লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর আল-খোখা। গত ৯ সেপ্টেম্বর এই এলাকায় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণের মুখে পিছু হটতে শুরু করে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। সাঈদ হাসানের দুই ছেলে প্রথম এই খবর বাড়িতে নিয়ে আসেন। শুরুতে সাঈদ একে কৌশলগত কারণে সাময়িক সেনা প্রত্যাহার মনে করে ছেলেদের আশ্বস্ত করেছিলেন। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় যখন জানা যায় বিপুলসংখ্যক সেনা নিজেদের অবস্থান ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তখন সাঈদ নিজেই পরিস্থিতি দেখতে বাইরে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, সরকারি বাহিনীর সেনারা বিপুল সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে সাঈদ হাসান সেই সন্ধ্যায়ই সপরিবার ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে যাওয়ার আগে তিনি তাঁর ভাই মোহাম্মদ ও তাঁর পরিবারকে সঙ্গে নেওয়ার জন্য রাজি করান। প্রথমে বিশ্বাস না করলেও, সাঈদের ছেলেদের ধারণ করা ভিডিও দেখে মোহাম্মদের ভুল ভাঙে। ২০১৮ সালে হোদেইদা বন্দরের কাছের একটি গ্রাম থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর আল-খোখা ছিল এই দুই পরিবারের নতুন ঠিকানা। কিন্তু যুদ্ধের কারণে আবারও তাঁদের সাজানো সংসার ফেলে পথে নামতে হয়।

মোহাম্মদ ও তাঁর স্ত্রী কাপড়ের ব্যবসা করতেন। তড়িঘড়ি করে বের হওয়ার কারণে ব্যবসার বিপুল পরিমাণ কাপড় তাঁরা সঙ্গে নিতে পারেননি। শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কিছু পোশাক ও হালকা জিনিসপত্র নিয়ে তাঁরা রওনা হন। সাঈদ তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই পুত্রবধূ, এক মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে একটি ছোট পিকআপে ওঠেন। অন্যদিকে মোহাম্মদ তাঁর স্ত্রী ও এক আত্মীয়কে নিয়ে আরেকটি গাড়িতে চড়েন। পথিমধ্যে পালিয়ে আসা তিন সেনাকেও তাঁরা গাড়িতে তুলে নেন। রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তাঁরা জানতে পারেন, স্থানীয় লোকজন তাঁদের ফেলে আসা টিন ও ত্রিপলের ঘরগুলো খুলে নিয়ে গেছে এবং জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে।

তাঁদের এই যাত্রাপথ ছিল চরম বিপজ্জনক ও মানবিক সংকটে ভরা। সঙ্গে কোনো খাওয়ার পানি ছিল না। পথিমধ্যে বেশির ভাগ মুদিদোকান বন্ধ ছিল, আর যেগুলো খোলা ছিল সেগুলোতে পানি পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে মোহাম্মদের পিকআপের একটি টায়ার হঠাৎ ফেটে গেলে বড় বিপদে পড়েন তাঁরা। বিস্ফোরণের শব্দ চারদিকে তীব্র হতে থাকায় সাঈদ তাঁর ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা না করে মোখার দিকে এগিয়ে যান। মোহাম্মদ একটি পুরোনো নষ্ট টায়ার লাগিয়ে কোনোমতে গাড়ি সচল করেন।

রাত ১২টার দিকে মোখায় পৌঁছে সাঈদ দেখেন পুরো শহর ফাঁকা। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটা সেনারা সরাসরি এডেনের দিকে যাচ্ছে। সাঈদও তাঁদের পিছু নেন। রাস্তায় তিনি যুদ্ধের ভয়াবহ সব দৃশ্য দেখেন। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত সেনাদের মরদেহ এবং পরিত্যক্ত অস্ত্র চারদিকে ছড়িয়ে ছিল। এমনকি হুতিদের হাত থেকে বাঁচতে সরকারি বাহিনীর অনেক সদস্যকে সামরিক পোশাক খুলে ফেলতে এবং অস্ত্র বালুর নিচে পুঁতে রাখতে দেখেন তাঁরা।

পরদিন সকালে থুবাব এলাকা পেরিয়ে যাওয়ার সময় মোহাম্মদের গাড়ির বিকল্প টায়ারটিও নষ্ট হয়ে যায়। সারা রাত না ঘুমিয়ে ক্লান্ত মোহাম্মদ টায়ার কাঁধে নিয়ে মেরামতের দোকান খুঁজতে বের হন। কিন্তু আতঙ্কিত কোনো চালকই তাঁকে গাড়িতে তুলতে রাজি হননি। অবশেষে দীর্ঘ চেষ্টা শেষে বিকেলে তিনি পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। পানির তীব্র সংকটে মোহাম্মদের স্ত্রী ফাতিমা রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে পানি ভিক্ষা করছিলেন। অবশেষে এক ব্যক্তি গাড়ি থামিয়ে তাঁর দুই হাতের তালুতে সামান্য পানি ঢেলে দিয়ে চলে যান।

১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাঈদ এডেনে পৌঁছান এবং সমাজকর্মীদের সহায়তায় একটি অস্থায়ী স্কুলক্যাম্পে আশ্রয় নেন। সেখানে একটি ছোট কক্ষে আটটি পরিবারকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছিল। পরদিন মোহাম্মদও এডেনে পৌঁছান। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর তাঁরা এডেনের পূর্বে একটি তল্লাশিচৌকি পার হয়ে আবইয়ান প্রদেশের লাওদারে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে দুই দিন অপেক্ষার পর ১৪ সেপ্টেম্বর আবার মুকাল্লার উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর শাবওয়া প্রদেশের হুরা এলাকায় সাঈদের গাড়ি নষ্ট হলে স্থানীয় এক মিস্ত্রিকে দিয়ে তা মেরামত করানো হয়।

অবশেষে ১৬ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ বাড়ি ছাড়ার সাত দিন পর, ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দুই ভাই সপরিবার মুকাল্লার পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছান। বর্তমানে তাঁরা মুকাল্লায় ৪০০ সৌদি রিয়াল ভাড়ায় তিন কক্ষের একটি বাসা নিয়েছেন। তবে দুই সপ্তাহেও কোনো কাজ না পাওয়ায় এবং সঞ্চয় ফুরিয়ে আসায় তাঁরা এখন খাবার বাঁচানোর জন্য এক বেলা না খেয়ে থাকছেন। দিনমজুর মোহাম্মদ যেকোনো কাজ করতে রাজি হলেও কোনো কাজ মেলাতে পারছেন না। এর ওপর তাঁর স্ত্রী ফাতিমার মাথায় চেপে বসেছে কাপড় ব্যবসায়ীদের ১ কোটি ২০ লাখ ইয়েমেনি রিয়ালের ঋণের বোঝা।

ইয়েমেনে বর্তমানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বা ২৯ হাজার ৫১৯টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার বড় অংশই তাইজ প্রদেশের। এদিকে হুতিদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ইয়েমেনি সেনার সমন্বয়ে একটি বড় অভিযানের পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ সহায়তা দিচ্ছে। এরই মধ্যে তাইজে তুমুল লড়াইয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১,৫৪০ হুতি সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। মুকাল্লায় সরকারি বাস্তুচ্যুত ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ আওয়াদ জানান, অনেকেই শুধু পরনের কাপড় নিয়ে এখানে এসে পৌঁছেছেন এবং তাঁদের মৌলিক চাহিদা পূরণে একটি নতুন শিবির স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেউ ৫০০ সৌদি রিয়ালে অস্ত্র বিক্রি করছিলেন, কেউ আবার সেগুলো ফেলে দিচ্ছিলেন।দুই ভাইয়ের ভাষায়, পুরো যাত্রাই ছিল এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার।

জামানত হিসেবে দিতে হয়েছে আরও ৪০০ রিয়াল এবং দালালকে ২০০ রিয়াল।

জনপ্রিয় সংবাদ

অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ, বাড়ল এলপিজির সিলিন্ডারের দামও

যুদ্ধের আগুনে ঘরহারা দুই ভাই, ৭ দিনে পাড়ি দিলেন ৩০০ কিলোমিটার

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের হোদেইদাহ ও মোখা শহরের মধ্যবর্তী লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর আল-খোখা। গত ৯ সেপ্টেম্বর এই এলাকায় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণের মুখে পিছু হটতে শুরু করে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। সাঈদ হাসানের দুই ছেলে প্রথম এই খবর বাড়িতে নিয়ে আসেন। শুরুতে সাঈদ একে কৌশলগত কারণে সাময়িক সেনা প্রত্যাহার মনে করে ছেলেদের আশ্বস্ত করেছিলেন। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় যখন জানা যায় বিপুলসংখ্যক সেনা নিজেদের অবস্থান ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তখন সাঈদ নিজেই পরিস্থিতি দেখতে বাইরে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, সরকারি বাহিনীর সেনারা বিপুল সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে সাঈদ হাসান সেই সন্ধ্যায়ই সপরিবার ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে যাওয়ার আগে তিনি তাঁর ভাই মোহাম্মদ ও তাঁর পরিবারকে সঙ্গে নেওয়ার জন্য রাজি করান। প্রথমে বিশ্বাস না করলেও, সাঈদের ছেলেদের ধারণ করা ভিডিও দেখে মোহাম্মদের ভুল ভাঙে। ২০১৮ সালে হোদেইদা বন্দরের কাছের একটি গ্রাম থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর আল-খোখা ছিল এই দুই পরিবারের নতুন ঠিকানা। কিন্তু যুদ্ধের কারণে আবারও তাঁদের সাজানো সংসার ফেলে পথে নামতে হয়।

মোহাম্মদ ও তাঁর স্ত্রী কাপড়ের ব্যবসা করতেন। তড়িঘড়ি করে বের হওয়ার কারণে ব্যবসার বিপুল পরিমাণ কাপড় তাঁরা সঙ্গে নিতে পারেননি। শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কিছু পোশাক ও হালকা জিনিসপত্র নিয়ে তাঁরা রওনা হন। সাঈদ তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই পুত্রবধূ, এক মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে একটি ছোট পিকআপে ওঠেন। অন্যদিকে মোহাম্মদ তাঁর স্ত্রী ও এক আত্মীয়কে নিয়ে আরেকটি গাড়িতে চড়েন। পথিমধ্যে পালিয়ে আসা তিন সেনাকেও তাঁরা গাড়িতে তুলে নেন। রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তাঁরা জানতে পারেন, স্থানীয় লোকজন তাঁদের ফেলে আসা টিন ও ত্রিপলের ঘরগুলো খুলে নিয়ে গেছে এবং জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে।

তাঁদের এই যাত্রাপথ ছিল চরম বিপজ্জনক ও মানবিক সংকটে ভরা। সঙ্গে কোনো খাওয়ার পানি ছিল না। পথিমধ্যে বেশির ভাগ মুদিদোকান বন্ধ ছিল, আর যেগুলো খোলা ছিল সেগুলোতে পানি পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে মোহাম্মদের পিকআপের একটি টায়ার হঠাৎ ফেটে গেলে বড় বিপদে পড়েন তাঁরা। বিস্ফোরণের শব্দ চারদিকে তীব্র হতে থাকায় সাঈদ তাঁর ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা না করে মোখার দিকে এগিয়ে যান। মোহাম্মদ একটি পুরোনো নষ্ট টায়ার লাগিয়ে কোনোমতে গাড়ি সচল করেন।

রাত ১২টার দিকে মোখায় পৌঁছে সাঈদ দেখেন পুরো শহর ফাঁকা। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটা সেনারা সরাসরি এডেনের দিকে যাচ্ছে। সাঈদও তাঁদের পিছু নেন। রাস্তায় তিনি যুদ্ধের ভয়াবহ সব দৃশ্য দেখেন। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত সেনাদের মরদেহ এবং পরিত্যক্ত অস্ত্র চারদিকে ছড়িয়ে ছিল। এমনকি হুতিদের হাত থেকে বাঁচতে সরকারি বাহিনীর অনেক সদস্যকে সামরিক পোশাক খুলে ফেলতে এবং অস্ত্র বালুর নিচে পুঁতে রাখতে দেখেন তাঁরা।

পরদিন সকালে থুবাব এলাকা পেরিয়ে যাওয়ার সময় মোহাম্মদের গাড়ির বিকল্প টায়ারটিও নষ্ট হয়ে যায়। সারা রাত না ঘুমিয়ে ক্লান্ত মোহাম্মদ টায়ার কাঁধে নিয়ে মেরামতের দোকান খুঁজতে বের হন। কিন্তু আতঙ্কিত কোনো চালকই তাঁকে গাড়িতে তুলতে রাজি হননি। অবশেষে দীর্ঘ চেষ্টা শেষে বিকেলে তিনি পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। পানির তীব্র সংকটে মোহাম্মদের স্ত্রী ফাতিমা রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে পানি ভিক্ষা করছিলেন। অবশেষে এক ব্যক্তি গাড়ি থামিয়ে তাঁর দুই হাতের তালুতে সামান্য পানি ঢেলে দিয়ে চলে যান।

১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাঈদ এডেনে পৌঁছান এবং সমাজকর্মীদের সহায়তায় একটি অস্থায়ী স্কুলক্যাম্পে আশ্রয় নেন। সেখানে একটি ছোট কক্ষে আটটি পরিবারকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছিল। পরদিন মোহাম্মদও এডেনে পৌঁছান। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর তাঁরা এডেনের পূর্বে একটি তল্লাশিচৌকি পার হয়ে আবইয়ান প্রদেশের লাওদারে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে দুই দিন অপেক্ষার পর ১৪ সেপ্টেম্বর আবার মুকাল্লার উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর শাবওয়া প্রদেশের হুরা এলাকায় সাঈদের গাড়ি নষ্ট হলে স্থানীয় এক মিস্ত্রিকে দিয়ে তা মেরামত করানো হয়।

অবশেষে ১৬ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ বাড়ি ছাড়ার সাত দিন পর, ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দুই ভাই সপরিবার মুকাল্লার পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছান। বর্তমানে তাঁরা মুকাল্লায় ৪০০ সৌদি রিয়াল ভাড়ায় তিন কক্ষের একটি বাসা নিয়েছেন। তবে দুই সপ্তাহেও কোনো কাজ না পাওয়ায় এবং সঞ্চয় ফুরিয়ে আসায় তাঁরা এখন খাবার বাঁচানোর জন্য এক বেলা না খেয়ে থাকছেন। দিনমজুর মোহাম্মদ যেকোনো কাজ করতে রাজি হলেও কোনো কাজ মেলাতে পারছেন না। এর ওপর তাঁর স্ত্রী ফাতিমার মাথায় চেপে বসেছে কাপড় ব্যবসায়ীদের ১ কোটি ২০ লাখ ইয়েমেনি রিয়ালের ঋণের বোঝা।

ইয়েমেনে বর্তমানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বা ২৯ হাজার ৫১৯টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার বড় অংশই তাইজ প্রদেশের। এদিকে হুতিদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ইয়েমেনি সেনার সমন্বয়ে একটি বড় অভিযানের পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ সহায়তা দিচ্ছে। এরই মধ্যে তাইজে তুমুল লড়াইয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১,৫৪০ হুতি সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। মুকাল্লায় সরকারি বাস্তুচ্যুত ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ আওয়াদ জানান, অনেকেই শুধু পরনের কাপড় নিয়ে এখানে এসে পৌঁছেছেন এবং তাঁদের মৌলিক চাহিদা পূরণে একটি নতুন শিবির স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেউ ৫০০ সৌদি রিয়ালে অস্ত্র বিক্রি করছিলেন, কেউ আবার সেগুলো ফেলে দিচ্ছিলেন।দুই ভাইয়ের ভাষায়, পুরো যাত্রাই ছিল এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার।

জামানত হিসেবে দিতে হয়েছে আরও ৪০০ রিয়াল এবং দালালকে ২০০ রিয়াল।