লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবন ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত দেশ দখলদার ইসরায়েল। রাজনৈতিক চুক্তি, উপনিবেশবাদী হস্তক্ষেপ এবং সংঘাতময় ইতিহাসের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া এই রাষ্ট্রটি মূলত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের ভেতরেই গড়ে উঠেছে। ভৌগোলিকভাবে ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব তীরে এবং লোহিত সাগরের উত্তর তীরে অবস্থিত এই দেশটির উত্তরে লেবানন, উত্তর-পূর্বে সিরিয়া, পূর্বে জর্দান ও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর, পশ্চিমে গাজা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে মিসর অবস্থিত। তেল আবিব দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক নগরী হলেও, সমগ্র জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে দাবি করা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক রয়েছে।

২০২৩ সালের শেষ নাগাদ ইসরায়েলে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক ১৭.৮২ মিলিয়ন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১৮.১ শতাংশ। এদের বেশিরভাগই আরব সুন্নি। জেরুজালেম শহরে বসবাসকারী ৩ লাখ ৮০ হাজার মুসলিম ইসরায়েলের মোট মুসলিম জনসংখ্যার ২১.৩ শতাংশ এবং জেরুজালেম শহরের মোট জনসংখ্যার ৩৮.১ শতাংশ। নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকলেও, মূলধারার রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত। মুসলিম নাগরিকরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, তারা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোতে নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হন। কর্মসংস্থান, শিল্প ও ব্যবসায় তাদের অংশগ্রহণ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি ভূমি ও নির্মাণ অনুমতির ক্ষেত্রেও তারা জটিলতার সম্মুখীন হন।

তবে আমেরিকান লেখিকা ও অ্যাক্টিভিস্ট আইজা মেরক তার এক ভিডিও কনটেন্টে হাইফা শহরকে 'নো নিউজ সিটি' হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করেন। তিনি দেখান যে, সেখানকার হাসপাতালগুলোতে মুসলিম ও ইহুদি চিকিৎসকরা সমানতালে জীবন রক্ষায় নিয়োজিত। তবে ইসরায়েলের অন্যান্য এলাকার চিত্র ভিন্ন। সেখানে ধর্মীয় উৎসব পালন বা নামাজ পড়ার সুযোগ থাকলেও, আল-আকসা মসজিদে প্রবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অজুহাতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত সেখানকার মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবনে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলিদের উগ্র আচরণ ও বর্ণবাদী স্লোগান তাদের জন্য চরম বাস্তবতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে মিছিলের সময় 'আরবদের মৃত্যু হোক' বা 'তোমাদের গ্রাম জ্বলে যাক' বলে স্লোগান দেওয়া হয়। এছাড়া পবিত্র আল-আকসা মসজিদপ্রাঙ্গণ ও জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) কার্যালয়ে আগ্রাসী অনুপ্রবেশ, ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা এবং তাদের দোকান বা ঘরে অনধিকার প্রবেশের মতো ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা

ইসরায়েলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবন ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত দেশ দখলদার ইসরায়েল। রাজনৈতিক চুক্তি, উপনিবেশবাদী হস্তক্ষেপ এবং সংঘাতময় ইতিহাসের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া এই রাষ্ট্রটি মূলত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের ভেতরেই গড়ে উঠেছে। ভৌগোলিকভাবে ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব তীরে এবং লোহিত সাগরের উত্তর তীরে অবস্থিত এই দেশটির উত্তরে লেবানন, উত্তর-পূর্বে সিরিয়া, পূর্বে জর্দান ও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর, পশ্চিমে গাজা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে মিসর অবস্থিত। তেল আবিব দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক নগরী হলেও, সমগ্র জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে দাবি করা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক রয়েছে।

২০২৩ সালের শেষ নাগাদ ইসরায়েলে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক ১৭.৮২ মিলিয়ন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১৮.১ শতাংশ। এদের বেশিরভাগই আরব সুন্নি। জেরুজালেম শহরে বসবাসকারী ৩ লাখ ৮০ হাজার মুসলিম ইসরায়েলের মোট মুসলিম জনসংখ্যার ২১.৩ শতাংশ এবং জেরুজালেম শহরের মোট জনসংখ্যার ৩৮.১ শতাংশ। নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকলেও, মূলধারার রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত। মুসলিম নাগরিকরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, তারা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোতে নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হন। কর্মসংস্থান, শিল্প ও ব্যবসায় তাদের অংশগ্রহণ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি ভূমি ও নির্মাণ অনুমতির ক্ষেত্রেও তারা জটিলতার সম্মুখীন হন।

তবে আমেরিকান লেখিকা ও অ্যাক্টিভিস্ট আইজা মেরক তার এক ভিডিও কনটেন্টে হাইফা শহরকে 'নো নিউজ সিটি' হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করেন। তিনি দেখান যে, সেখানকার হাসপাতালগুলোতে মুসলিম ও ইহুদি চিকিৎসকরা সমানতালে জীবন রক্ষায় নিয়োজিত। তবে ইসরায়েলের অন্যান্য এলাকার চিত্র ভিন্ন। সেখানে ধর্মীয় উৎসব পালন বা নামাজ পড়ার সুযোগ থাকলেও, আল-আকসা মসজিদে প্রবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অজুহাতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত সেখানকার মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবনে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলিদের উগ্র আচরণ ও বর্ণবাদী স্লোগান তাদের জন্য চরম বাস্তবতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে মিছিলের সময় 'আরবদের মৃত্যু হোক' বা 'তোমাদের গ্রাম জ্বলে যাক' বলে স্লোগান দেওয়া হয়। এছাড়া পবিত্র আল-আকসা মসজিদপ্রাঙ্গণ ও জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) কার্যালয়ে আগ্রাসী অনুপ্রবেশ, ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা এবং তাদের দোকান বা ঘরে অনধিকার প্রবেশের মতো ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে।