লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাইজের সাবির পাহাড়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ, চাপে ইয়েমেন সরকার

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ শহরের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাবির পাহাড়ের একটি অংশ হুথিরা দখল করে নিয়েছে বলে জানা গেছে। পাহাড়টির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখান থেকে পুরো তাইজ শহরের ওপর নজরদারি চালানো সম্ভব হয়। ফলে হুথিদের এই নতুন অবস্থান শহরটির নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সামরিক অবস্থানের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদক ইউসেফ মাওরি সানা থেকে জানিয়েছেন যে, তাইজের আশপাশে হুথিদের এই অগ্রযাত্রা রুখতে সৌদি আরবের বিমান হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে। শহরটির কাছাকাছি পৌঁছানোর লক্ষ্যে হুথিরা তাদের সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে। এছাড়া হুথিরা এরই মধ্যে মোচা শহর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী ধুবাব জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যদিও ওই এলাকাগুলোতে এখনো সংঘর্ষ চলছে।

সৌদি আরবের বিমান সহায়তায় সরকারি বাহিনীও ধুবাব ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের কিছু এলাকায় অগ্রগতি অর্জন করেছে। কৌশলগত এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান সংঘাত ইয়েমেন যুদ্ধের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে মোচা শহরের পূর্বদিকে এবং তাইজের দিকে অবস্থিত সাবির পাহাড়ের গুরুত্ব অপরিসীম। পাহাড়টির উচ্চতা থেকে তাইজ শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা যায়, যা হুথিদের শহরটির দিকে অগ্রসর হওয়া কিংবা সরকারি বাহিনীর অবস্থানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সহজ করে তুলবে। বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ি এলাকার সব কটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা যদি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে তাইজ শহর দখলের পথ অনেকটাই প্রশস্ত হয়ে যেতে পারে। শহরটির পতন ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে সাবির পাহাড়ের পুরো এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিংবা তাইজ শহর দখলের পরিস্থিতি আসন্ন—এমন কোনো চূড়ান্ত তথ্য এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি মূলত চলমান সংঘর্ষ এবং উভয় পক্ষের সামরিক অবস্থানের পরিবর্তনের ওপরই নির্ভর করবে।

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ৫৭আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ০৪

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, লক্ষ্য সাড়ে ৪ কোটি পরিবার

তাইজের সাবির পাহাড়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ, চাপে ইয়েমেন সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ শহরের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাবির পাহাড়ের একটি অংশ হুথিরা দখল করে নিয়েছে বলে জানা গেছে। পাহাড়টির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখান থেকে পুরো তাইজ শহরের ওপর নজরদারি চালানো সম্ভব হয়। ফলে হুথিদের এই নতুন অবস্থান শহরটির নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সামরিক অবস্থানের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদক ইউসেফ মাওরি সানা থেকে জানিয়েছেন যে, তাইজের আশপাশে হুথিদের এই অগ্রযাত্রা রুখতে সৌদি আরবের বিমান হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে। শহরটির কাছাকাছি পৌঁছানোর লক্ষ্যে হুথিরা তাদের সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে। এছাড়া হুথিরা এরই মধ্যে মোচা শহর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী ধুবাব জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যদিও ওই এলাকাগুলোতে এখনো সংঘর্ষ চলছে।

সৌদি আরবের বিমান সহায়তায় সরকারি বাহিনীও ধুবাব ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের কিছু এলাকায় অগ্রগতি অর্জন করেছে। কৌশলগত এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান সংঘাত ইয়েমেন যুদ্ধের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে মোচা শহরের পূর্বদিকে এবং তাইজের দিকে অবস্থিত সাবির পাহাড়ের গুরুত্ব অপরিসীম। পাহাড়টির উচ্চতা থেকে তাইজ শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা যায়, যা হুথিদের শহরটির দিকে অগ্রসর হওয়া কিংবা সরকারি বাহিনীর অবস্থানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সহজ করে তুলবে। বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ি এলাকার সব কটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা যদি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে তাইজ শহর দখলের পথ অনেকটাই প্রশস্ত হয়ে যেতে পারে। শহরটির পতন ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে সাবির পাহাড়ের পুরো এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিংবা তাইজ শহর দখলের পরিস্থিতি আসন্ন—এমন কোনো চূড়ান্ত তথ্য এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি মূলত চলমান সংঘর্ষ এবং উভয় পক্ষের সামরিক অবস্থানের পরিবর্তনের ওপরই নির্ভর করবে।

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ৫৭আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ০৪