লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি, ভোগান্তিতে গ্রাহক

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও, বাস্তবে ক্রেতাদের অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য গ্রাহকদের ২ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এর ফলে প্রতিটি সিলিন্ডারে গ্রাহকদের ২৬০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে, যা সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান, জরিমানা এবং নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। এলপিজির এই উচ্চমূল্যের পেছনে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ভূমিকা, সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

জ্বালানি বিভাগের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকেরা বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গত ৮ অক্টোবর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। জ্বালানি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, প্রতিবেদনগুলোতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানিকগঞ্জে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়, বগুড়ায় ১ হাজার ৮২০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়, কুমিল্লায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় এবং খুলনায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সাতক্ষীরায় ১ হাজার ৮৪০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা, ফেনীতে ১ হাজার ৮৪০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকা এবং মাদারীপুরে ১ হাজার ৮৪০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।

তালিকায় থাকা অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে রাঙামাটিতে ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮৪০ টাকা, রাজশাহীতে ১ হাজার ৮৪০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা, বরিশালে ১ হাজার ৮২০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা, নরসিংদীতে ১ হাজার ৮৪০ টাকা এবং ঝিনাইদহে ১ হাজার ৮৫০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। এই তথ্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, একই পণ্যের দাম যেমন জেলাভেদে আলাদা, তেমনি একই জেলার মধ্যেও বিক্রেতাভেদে দামের বড় পার্থক্য রয়েছে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত মূল্য থাকলেও তা সর্বত্র কার্যকর হচ্ছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

উপাচার্যের চেয়ারে ছাত্রসংগঠনের আধিপত্য ও অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া

নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি, ভোগান্তিতে গ্রাহক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও, বাস্তবে ক্রেতাদের অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য গ্রাহকদের ২ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এর ফলে প্রতিটি সিলিন্ডারে গ্রাহকদের ২৬০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে, যা সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান, জরিমানা এবং নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। এলপিজির এই উচ্চমূল্যের পেছনে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ভূমিকা, সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

জ্বালানি বিভাগের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকেরা বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গত ৮ অক্টোবর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। জ্বালানি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, প্রতিবেদনগুলোতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানিকগঞ্জে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়, বগুড়ায় ১ হাজার ৮২০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়, কুমিল্লায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় এবং খুলনায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সাতক্ষীরায় ১ হাজার ৮৪০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা, ফেনীতে ১ হাজার ৮৪০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকা এবং মাদারীপুরে ১ হাজার ৮৪০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।

তালিকায় থাকা অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে রাঙামাটিতে ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮৪০ টাকা, রাজশাহীতে ১ হাজার ৮৪০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা, বরিশালে ১ হাজার ৮২০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা, নরসিংদীতে ১ হাজার ৮৪০ টাকা এবং ঝিনাইদহে ১ হাজার ৮৫০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। এই তথ্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, একই পণ্যের দাম যেমন জেলাভেদে আলাদা, তেমনি একই জেলার মধ্যেও বিক্রেতাভেদে দামের বড় পার্থক্য রয়েছে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত মূল্য থাকলেও তা সর্বত্র কার্যকর হচ্ছে না।