লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র: জাতীয় গ্রিডে ৬ কোটি ৩৭ লক্ষ ইউনিট বিদ্যুৎ

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে সাত বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লক্ষ ইউনিট সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। উৎপাদিত এই বিদ্যুতের বাণিজ্যিক বাজার মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ১৯৬২ সালে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে এই পরিত্যক্ত জমির ১৯ একর জায়গার ওপর প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭.৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকল্পটির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অত্যন্ত কম এবং এর পরিচালনা পদ্ধতিও বেশ লাভজনক। কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সৌর প্যানেলগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা ছাড়া বাড়তি কোনো খরচের প্রয়োজন হয় না। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয় না।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রচলিত জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস বা কয়লার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। এতে জ্বালানি আমদানির ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমান কেন্দ্রের সঙ্গে নতুন ১ মেগাওয়াট এবং ৭.৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি প্রকল্পের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এছাড়া ব্রিকফিল্ড এলাকায় আরও একটি ৭.৬ মেগাওয়াট সম্পন্ন পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের এই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যান্য অনাবাদি ও পরিত্যক্ত জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ করা সম্ভব। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি সহায়তার মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সোলার, কৃষিভিত্তিক সোলার ও সোলার পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বাড়ানো গেলে তা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা

কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র: জাতীয় গ্রিডে ৬ কোটি ৩৭ লক্ষ ইউনিট বিদ্যুৎ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে সাত বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লক্ষ ইউনিট সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। উৎপাদিত এই বিদ্যুতের বাণিজ্যিক বাজার মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ১৯৬২ সালে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে এই পরিত্যক্ত জমির ১৯ একর জায়গার ওপর প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭.৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকল্পটির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অত্যন্ত কম এবং এর পরিচালনা পদ্ধতিও বেশ লাভজনক। কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সৌর প্যানেলগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা ছাড়া বাড়তি কোনো খরচের প্রয়োজন হয় না। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয় না।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রচলিত জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস বা কয়লার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। এতে জ্বালানি আমদানির ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমান কেন্দ্রের সঙ্গে নতুন ১ মেগাওয়াট এবং ৭.৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি প্রকল্পের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এছাড়া ব্রিকফিল্ড এলাকায় আরও একটি ৭.৬ মেগাওয়াট সম্পন্ন পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের এই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যান্য অনাবাদি ও পরিত্যক্ত জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ করা সম্ভব। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি সহায়তার মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সোলার, কৃষিভিত্তিক সোলার ও সোলার পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বাড়ানো গেলে তা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।