লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজস্ব শর্তে আন্তর্জাতিক ঋণ ও অর্থনৈতিক সংস্কারে এগোচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে এবার আর চাপিয়ে দেওয়া শর্ত নয়, বরং নিজস্ব সংস্কার কৌশল ও জাতীয় অগ্রাধিকারকে সামনে রাখছে বাংলাদেশ সরকার। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সার্বিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার এসব বিস্তারিত দিক তুলে ধরেন। ব্যাংককে ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর চলা এই বৈশ্বিক সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের এ নিজস্ব অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এর ফলে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে অগ্রাধিকারভিত্তিক সহযোগিতার আলোচনা শুরু হয়েছে। উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত সংস্কার বিষয়গুলো দেশের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা দেশের অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হলেও ঋণের মোট পরিমাণ, শর্তাবলী এবং বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চলমান এই প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত পৌঁছাতে আগামী কয়েক মাস আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আইএমএফ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে জানিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন যে, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হলেও আন্তর্জাতিক সংস্থা দুটি সরকারের সংস্কার কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেনি। ঋণের শর্তের বিষয়ে ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরন করেই দ্রুত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে।

অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আইএমএফ ও সরকারের মধ্যে হিসাবের ব্যবধান বজায় রয়েছে। চলতি বাজেটে সরকার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করলেও আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ড. তিতুমীর এ বিষয়ে মন্তব্য করেন যে, আইএমএফের পূর্বাভাস সাধারণত বেশি সংরক্ষণশীল হয়ে থাকে। তবে সংস্কার বাস্তবায়িত না হলে অর্থনীতিতে কী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তা বোঝাতেও আইএমএফের এই প্রক্ষেপণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সংস্কার কর্মসূচির বাস্তব কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করবে।

জীবনযাত্রার চাপ ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সরকার সাধারণ মানুষ ও সামাজিক সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং অতীতের দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি বর্তমানে মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে বলে ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন। পূর্ববর্তী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিভিন্ন ত্রুটি—যেমন ভুল সুবিধাভোগী নির্বাচন ও বিচ্ছিন্ন কাঠামোর কারণে দারিদ্র্য বৃদ্ধির কথা বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। তা সংশোধনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপকারভোগী নির্বাচন করে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড চালুর পাশাপাশি ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারের এই সামাজিক খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধি উন্নয়ন সহযোগীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

রাজস্ব খাতকে শক্তিশালী করতে ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। করের আওতা বাড়ানো, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি প্রতিরোধের মাধ্যমে নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজের ক্ষমতা বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটাতে ব্যাংকগুলোর পুনর্মূলধনায়ন, আইনি কাঠামো সংস্কার এবং সার্বিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

ব্যাংক খাতের অতীতের অনিয়ম ও লুটপাট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. তিতুমীর বলেন, খাতটি থেকে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার লুটপাট করা হয়েছে, যার মূল্য চুকাতে হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আত্মসাৎকারী ও তাদের সহায়তাকারী প্রত্যেকে দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই থাকুক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। আন্তর্জাতিক ঋণের ইতিবাচক আলোচনার পাশাপাশি এসব ব্যাংকিং ও রাজস্ব সংস্কার কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে সুফল পৌঁছায়, তার ওপরই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক গতিপথ নির্ভর করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দারিদ্র্য বিমোচনে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

নিজস্ব শর্তে আন্তর্জাতিক ঋণ ও অর্থনৈতিক সংস্কারে এগোচ্ছে সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৮:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে এবার আর চাপিয়ে দেওয়া শর্ত নয়, বরং নিজস্ব সংস্কার কৌশল ও জাতীয় অগ্রাধিকারকে সামনে রাখছে বাংলাদেশ সরকার। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সার্বিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার এসব বিস্তারিত দিক তুলে ধরেন। ব্যাংককে ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর চলা এই বৈশ্বিক সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের এ নিজস্ব অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এর ফলে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে অগ্রাধিকারভিত্তিক সহযোগিতার আলোচনা শুরু হয়েছে। উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত সংস্কার বিষয়গুলো দেশের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা দেশের অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হলেও ঋণের মোট পরিমাণ, শর্তাবলী এবং বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চলমান এই প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত পৌঁছাতে আগামী কয়েক মাস আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আইএমএফ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে জানিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন যে, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হলেও আন্তর্জাতিক সংস্থা দুটি সরকারের সংস্কার কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেনি। ঋণের শর্তের বিষয়ে ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরন করেই দ্রুত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে।

অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আইএমএফ ও সরকারের মধ্যে হিসাবের ব্যবধান বজায় রয়েছে। চলতি বাজেটে সরকার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করলেও আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ড. তিতুমীর এ বিষয়ে মন্তব্য করেন যে, আইএমএফের পূর্বাভাস সাধারণত বেশি সংরক্ষণশীল হয়ে থাকে। তবে সংস্কার বাস্তবায়িত না হলে অর্থনীতিতে কী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তা বোঝাতেও আইএমএফের এই প্রক্ষেপণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সংস্কার কর্মসূচির বাস্তব কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করবে।

জীবনযাত্রার চাপ ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সরকার সাধারণ মানুষ ও সামাজিক সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং অতীতের দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি বর্তমানে মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে বলে ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন। পূর্ববর্তী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিভিন্ন ত্রুটি—যেমন ভুল সুবিধাভোগী নির্বাচন ও বিচ্ছিন্ন কাঠামোর কারণে দারিদ্র্য বৃদ্ধির কথা বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। তা সংশোধনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপকারভোগী নির্বাচন করে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড চালুর পাশাপাশি ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারের এই সামাজিক খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধি উন্নয়ন সহযোগীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

রাজস্ব খাতকে শক্তিশালী করতে ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। করের আওতা বাড়ানো, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি প্রতিরোধের মাধ্যমে নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজের ক্ষমতা বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটাতে ব্যাংকগুলোর পুনর্মূলধনায়ন, আইনি কাঠামো সংস্কার এবং সার্বিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

ব্যাংক খাতের অতীতের অনিয়ম ও লুটপাট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. তিতুমীর বলেন, খাতটি থেকে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার লুটপাট করা হয়েছে, যার মূল্য চুকাতে হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আত্মসাৎকারী ও তাদের সহায়তাকারী প্রত্যেকে দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই থাকুক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। আন্তর্জাতিক ঋণের ইতিবাচক আলোচনার পাশাপাশি এসব ব্যাংকিং ও রাজস্ব সংস্কার কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে সুফল পৌঁছায়, তার ওপরই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক গতিপথ নির্ভর করবে।