লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দারিদ্র্য বিমোচনে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী বেশ চাপে রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এই সংস্থাগুলোর মতে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষকে আবার দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা এবং নতুন করে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এর আগে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।

ড. তিতুমীর জানান, মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকার তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে অতীতে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এই সংকট মোকাবিলায় ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচিগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বড় দুর্বলতা ছিল উপকারভোগী বাছাইয়ে ত্রুটি। ড. তিতুমীর বলেন, প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল জনপরিকাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়নে দারিদ্র্য প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এই কর্মসূচিগুলো প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার ও পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতির পাশাপাশি রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কারের ওপর জোর দেন ড. তিতুমীর। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। বিশেষ করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফিরেছে এবং ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমা আর্থিক খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এই বার্ষিক সভা বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন অর্থায়ন নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা কাজের ফলাফলের মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনার ফরিদপুরে মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৫

দারিদ্র্য বিমোচনে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী বেশ চাপে রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এই সংস্থাগুলোর মতে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষকে আবার দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা এবং নতুন করে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এর আগে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।

ড. তিতুমীর জানান, মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকার তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে অতীতে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এই সংকট মোকাবিলায় ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচিগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বড় দুর্বলতা ছিল উপকারভোগী বাছাইয়ে ত্রুটি। ড. তিতুমীর বলেন, প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল জনপরিকাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়নে দারিদ্র্য প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এই কর্মসূচিগুলো প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার ও পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতির পাশাপাশি রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কারের ওপর জোর দেন ড. তিতুমীর। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। বিশেষ করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফিরেছে এবং ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমা আর্থিক খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এই বার্ষিক সভা বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন অর্থায়ন নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা কাজের ফলাফলের মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।