লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডার সঙ্গেই থাকছে আলবার্টা, ধাক্কা খেলেন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা

কানাডা থেকে তেলসমৃদ্ধ আলবার্টা প্রদেশের পৃথক হওয়া সংক্রান্ত গণভোটের প্রাথমিক ফলাফলে অধিকাংশ বাসিন্দা কানাডার সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম। তেলসমৃদ্ধ আলবার্টা প্রদেশের কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সংক্রান্ত গণভোটের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি এবং বেসরকারি নেটওয়ার্ক সিটিভির হিসাব অনুযায়ী, প্রদেশটির অধিকাংশ বাসিন্দা কানাডার সঙ্গেই থাকার পক্ষে রায় দিয়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদের সমর্থনপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন।

ভোট গণনার এক-তৃতীয়াংশ শেষে প্রাপ্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যায়, ৭৬ শতাংশেরও বেশি মানুষ ফেডারেলিস্ট বা জাতীয় ঐক্যের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। এডমন্টনে ফেডারেলিস্টদের নির্বাচনি অনুষ্ঠানে ইতিবাচক ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা লোকজনকে উজ্জীবিত করতে ব্যান্ড দল গান-বাজনার আয়োজন করেছিল। 'ফরেভার কানাডিয়ান' সংগঠনের প্রধান থমাস লুকাসজুক কানাডীয়দের এই দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করেছেন।

আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছেন, তিনি স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফেডারেলিস্টদের এই জয় প্রদেশটিকে বিভক্ত করে রাখা ইস্যুটির স্থায়ী সমাধান করবে এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রশ্নটি চিরতরে বন্ধ করে দেবে। স্মিথ বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব উসকে দেওয়ার জন্য জাস্টিন ট্রুডোকে দায়ী করে অভিযোগ করেন যে, ট্রুডো জলবায়ু-বান্ধব এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলবার্টার তেল উৎপাদন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলেন।

অন্যদিকে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন 'আলবার্টা প্রসপারিটি প্রজেক্ট'র শীর্ষ নেতা জেফরি র্যাথ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, স্বাধীন আলবার্টা গড়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। জুর ডেইন নামক এক বিচ্ছিন্নতাবাদী সমর্থক ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, তিনি কানাডার অংশ হিসেবে থাকার ধারা অব্যাহত থাকলে প্রদেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যেতে পারেন।

আলবার্টায় বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেলের মজুত রয়েছে এবং অনেক বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন তেল শিল্প পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ থেকে গড়ে উঠেছে। এই বিচ্ছিন্নতাবাদী দাবির প্রতি ট্রাম্পের মিত্রদের দীর্ঘস্থায়ী আগ্রহ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আলবার্টাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি 'স্বাভাবিক অংশীদার' বলেছেন এবং ইলন মাস্ক এক্সে আলবার্টার 'আলাদা হয়ে যাওয়া উচিত' বলে মন্তব্য করেছিলেন। এছাড়া বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে বৈঠক করেছেন এবং রিপাবলিকান রাজনৈতিক কর্মীদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছেন।

কার্নি গত বছর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আলবার্টা ও অটোয়ার সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। তিনি ও স্মিথ বিদেশে বিটুমিন রপ্তানির জন্য একটি নতুন পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে আলবার্টা প্রসপারিটি প্রজেক্ট নেতা মিচ সিলভেস্ট্রে অভিযোগ করেন, কার্নি প্রচারণার শেষ দিকে প্রদেশটিকে 'হুমকি' দিয়ে বলেছিলেন কানাডার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বিপজ্জনক। এডমন্টনে ভোট দেওয়া ৪৪ বছর বয়সী হেইলি এরডেগার্ড কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদীর প্রচার করা একটি ধারণার বিষয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ওই ধারণায় বলা হয়, আলবার্টা তাদের তেল থেকে অর্জিত আয়ের একটি বড় অংশ কানাডার অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে বাধ্য হচ্ছে। হেইলি এরডেগার্ড বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, আলাদা দেশ গড়ার হঠকারী সিদ্ধান্তের চেয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র জোরদার করা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কানাডার সঙ্গেই থাকছে আলবার্টা, ধাক্কা খেলেন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম। তেলসমৃদ্ধ আলবার্টা প্রদেশের কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সংক্রান্ত গণভোটের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি এবং বেসরকারি নেটওয়ার্ক সিটিভির হিসাব অনুযায়ী, প্রদেশটির অধিকাংশ বাসিন্দা কানাডার সঙ্গেই থাকার পক্ষে রায় দিয়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদের সমর্থনপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন।

ভোট গণনার এক-তৃতীয়াংশ শেষে প্রাপ্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যায়, ৭৬ শতাংশেরও বেশি মানুষ ফেডারেলিস্ট বা জাতীয় ঐক্যের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। এডমন্টনে ফেডারেলিস্টদের নির্বাচনি অনুষ্ঠানে ইতিবাচক ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা লোকজনকে উজ্জীবিত করতে ব্যান্ড দল গান-বাজনার আয়োজন করেছিল। 'ফরেভার কানাডিয়ান' সংগঠনের প্রধান থমাস লুকাসজুক কানাডীয়দের এই দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করেছেন।

আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছেন, তিনি স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফেডারেলিস্টদের এই জয় প্রদেশটিকে বিভক্ত করে রাখা ইস্যুটির স্থায়ী সমাধান করবে এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রশ্নটি চিরতরে বন্ধ করে দেবে। স্মিথ বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব উসকে দেওয়ার জন্য জাস্টিন ট্রুডোকে দায়ী করে অভিযোগ করেন যে, ট্রুডো জলবায়ু-বান্ধব এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলবার্টার তেল উৎপাদন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলেন।

অন্যদিকে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন 'আলবার্টা প্রসপারিটি প্রজেক্ট'র শীর্ষ নেতা জেফরি র্যাথ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, স্বাধীন আলবার্টা গড়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। জুর ডেইন নামক এক বিচ্ছিন্নতাবাদী সমর্থক ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, তিনি কানাডার অংশ হিসেবে থাকার ধারা অব্যাহত থাকলে প্রদেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যেতে পারেন।

আলবার্টায় বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেলের মজুত রয়েছে এবং অনেক বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন তেল শিল্প পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ থেকে গড়ে উঠেছে। এই বিচ্ছিন্নতাবাদী দাবির প্রতি ট্রাম্পের মিত্রদের দীর্ঘস্থায়ী আগ্রহ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আলবার্টাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি 'স্বাভাবিক অংশীদার' বলেছেন এবং ইলন মাস্ক এক্সে আলবার্টার 'আলাদা হয়ে যাওয়া উচিত' বলে মন্তব্য করেছিলেন। এছাড়া বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে বৈঠক করেছেন এবং রিপাবলিকান রাজনৈতিক কর্মীদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছেন।

কার্নি গত বছর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আলবার্টা ও অটোয়ার সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। তিনি ও স্মিথ বিদেশে বিটুমিন রপ্তানির জন্য একটি নতুন পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে আলবার্টা প্রসপারিটি প্রজেক্ট নেতা মিচ সিলভেস্ট্রে অভিযোগ করেন, কার্নি প্রচারণার শেষ দিকে প্রদেশটিকে 'হুমকি' দিয়ে বলেছিলেন কানাডার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বিপজ্জনক। এডমন্টনে ভোট দেওয়া ৪৪ বছর বয়সী হেইলি এরডেগার্ড কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদীর প্রচার করা একটি ধারণার বিষয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ওই ধারণায় বলা হয়, আলবার্টা তাদের তেল থেকে অর্জিত আয়ের একটি বড় অংশ কানাডার অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে বাধ্য হচ্ছে। হেইলি এরডেগার্ড বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, আলাদা দেশ গড়ার হঠকারী সিদ্ধান্তের চেয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র জোরদার করা প্রয়োজন।