লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে এ বছর ৫৯ বিদেশিসহ ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উচ্চ হার অব্যাহত রয়েছে। বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইউরোপীয় সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস’ (ইএসওএইচআর)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে অন্তত ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ জনই বিদেশি নাগরিক, যা মোট সাজার প্রায় ৫৪ শতাংশ। এই তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশের নাগরিক রয়েছেন। তবে মক্কা নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার অভিযোগে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশি এই হিসাবের বাইরে রয়েছেন।

বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে চলতি বছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা ২ হাজারে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী যেকোনো শাসনামলের তুলনায় একটি রেকর্ড। মানবাধিকার সংস্থাটির তথ্যমতে, বৈশ্বিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তালিকায় সৌদি আরব শীর্ষস্থানে রয়েছে। কার্যকর হওয়া ১০৮টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৭১টি মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য দেওয়া হয়েছে, যা মোট সাজার ৬৬ শতাংশ। হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২৫টি, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় ৯টি এবং অন্যান্য মামলায় ৩টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

সাজার প্রকৃতির দিক থেকে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ বা ৮৪টি মৃত্যুদণ্ড বিচারকদের একক বিবেচনামূলক ক্ষমতা বা ‘তাজির’ শাস্তির ভিত্তিতে কার্যকর হয়েছে। এছাড়া ৮৩টি মৃত্যুদণ্ড এমন অপরাধের জন্য দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। মানবাধিকার সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, তাদের নথিবদ্ধ ১০৮টি মামলার মধ্যে ৯১টি ক্ষেত্র সম্পর্কে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা দেশটিতে স্বচ্ছতার অভাবকে নির্দেশ করে।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে জুনে সৌদ আল-ফারাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর অন্যতম আলোচিত ঘটনা। এছাড়া ৯ এপ্রিল আলী আল-সুবাইতি নামের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। বর্তমানে আরও অন্তত ৪৯ জন শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশের অভিযোগে এবং পাঁচজন শৈশবে করা কথিত অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

সৌদি আরবের কারাগারগুলোতে মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে এখনো অনেকে বন্দী আছেন, যাদের মধ্যে ৫৮ জন ইথিওপীয়, পাঁচজন সোমালীয় ও আটজন মিসরীয় নাগরিক রয়েছেন। ২০১৮ সাল থেকে সরকারি কৌঁসুলিরা তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে এলেও আজ পর্যন্ত তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ইউরোপীয় সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস আরও নথিবদ্ধ করেছে, সৌদি আরবের কারাগারগুলোয় এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে বন্দী আছেন। ইএসওএইচআর-এর মতে, এসব বন্দীদের ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা না পাওয়া, দোভাষীর অনুপস্থিতি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া বুঝতে না পারার মতো ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বন্দীরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুদণ্ডের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে আকস্মিকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। সৌদি আরব নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন ও শিশু অধিকার সনদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর অব্যাহত রেখেছে বলে সংস্থাটি সমালোচনা করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদিতে এ বছর ৫৯ বিদেশিসহ ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সৌদিতে এ বছর ৫৯ বিদেশিসহ ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উচ্চ হার অব্যাহত রয়েছে। বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইউরোপীয় সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস’ (ইএসওএইচআর)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে অন্তত ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ জনই বিদেশি নাগরিক, যা মোট সাজার প্রায় ৫৪ শতাংশ। এই তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশের নাগরিক রয়েছেন। তবে মক্কা নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার অভিযোগে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশি এই হিসাবের বাইরে রয়েছেন।

বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে চলতি বছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা ২ হাজারে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী যেকোনো শাসনামলের তুলনায় একটি রেকর্ড। মানবাধিকার সংস্থাটির তথ্যমতে, বৈশ্বিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তালিকায় সৌদি আরব শীর্ষস্থানে রয়েছে। কার্যকর হওয়া ১০৮টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৭১টি মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য দেওয়া হয়েছে, যা মোট সাজার ৬৬ শতাংশ। হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২৫টি, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় ৯টি এবং অন্যান্য মামলায় ৩টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

সাজার প্রকৃতির দিক থেকে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ বা ৮৪টি মৃত্যুদণ্ড বিচারকদের একক বিবেচনামূলক ক্ষমতা বা ‘তাজির’ শাস্তির ভিত্তিতে কার্যকর হয়েছে। এছাড়া ৮৩টি মৃত্যুদণ্ড এমন অপরাধের জন্য দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। মানবাধিকার সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, তাদের নথিবদ্ধ ১০৮টি মামলার মধ্যে ৯১টি ক্ষেত্র সম্পর্কে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা দেশটিতে স্বচ্ছতার অভাবকে নির্দেশ করে।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে জুনে সৌদ আল-ফারাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর অন্যতম আলোচিত ঘটনা। এছাড়া ৯ এপ্রিল আলী আল-সুবাইতি নামের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। বর্তমানে আরও অন্তত ৪৯ জন শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশের অভিযোগে এবং পাঁচজন শৈশবে করা কথিত অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

সৌদি আরবের কারাগারগুলোতে মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে এখনো অনেকে বন্দী আছেন, যাদের মধ্যে ৫৮ জন ইথিওপীয়, পাঁচজন সোমালীয় ও আটজন মিসরীয় নাগরিক রয়েছেন। ২০১৮ সাল থেকে সরকারি কৌঁসুলিরা তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে এলেও আজ পর্যন্ত তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ইউরোপীয় সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস আরও নথিবদ্ধ করেছে, সৌদি আরবের কারাগারগুলোয় এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে বন্দী আছেন। ইএসওএইচআর-এর মতে, এসব বন্দীদের ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা না পাওয়া, দোভাষীর অনুপস্থিতি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া বুঝতে না পারার মতো ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বন্দীরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুদণ্ডের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে আকস্মিকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। সৌদি আরব নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন ও শিশু অধিকার সনদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর অব্যাহত রেখেছে বলে সংস্থাটি সমালোচনা করেছে।