লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধের শঙ্কা বাড়লেও ইউরেনিয়াম মজুত ছাড়তে নারাজ ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। তবে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্তগুলোর বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। তেহরানের স্পষ্ট দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের শর্ত মেনে নিতে হবে, অন্যথায় যুদ্ধের অবসান হবে না এবং হরমুজ প্রণালিও উন্মুক্ত করা হবে না।

নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কার মধ্যে তেহরানে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সফর বেড়েছে। গত বুধবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করেন, যেখানে তিনি ইয়েমেনের উত্তেজনা ও যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এর আগে সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ তেহরানে যান এবং তার আগের দিন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সপ্তাহে আরও কয়েকজন আরব কর্মকর্তা তেহরান সফরের ইঙ্গিত রয়েছে।

কূটনৈতিক এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও ইরানের অবস্থানে পরিবর্তনের কোনো আভাস নেই। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরান থেকে এক গ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও সরানো হবে না। তবে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তদারকিতে ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি।

ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরান-বিরোধী যুদ্ধ শুরু করে। ট্রাম্প প্রশাসন বারবার এই কর্মসূচি ধ্বংসের কথা বললেও, চলতি মাসের শুরুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দেন যে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো গেলে ওয়াশিংটনের দাবি পূরণ হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা একে জাতীয় সম্পদ ও সার্বভৌম অধিকার হিসেবে দেখেন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার আগে ধারণা করেছিল, তেহরানের কাছে ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, একটি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ইউরেনিয়াম ৯০ শতাংশের বেশি সমৃদ্ধ হতে হয়। ২০২৫ সালের হামলার পর ২০২৬ সালেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আরো হামলা চালায়। এতে দেশটির পারমাণবিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আইএইএ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে না পারায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান পরিমাণ, অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশ্লেষক এলি গেরানমায়েহ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ছাড়া ইরান ইউরেনিয়াম ছাড়ার আলোচনায় রাজি হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাজেকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি

যুদ্ধের শঙ্কা বাড়লেও ইউরেনিয়াম মজুত ছাড়তে নারাজ ইরান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৮:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। তবে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্তগুলোর বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। তেহরানের স্পষ্ট দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের শর্ত মেনে নিতে হবে, অন্যথায় যুদ্ধের অবসান হবে না এবং হরমুজ প্রণালিও উন্মুক্ত করা হবে না।

নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কার মধ্যে তেহরানে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সফর বেড়েছে। গত বুধবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করেন, যেখানে তিনি ইয়েমেনের উত্তেজনা ও যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এর আগে সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ তেহরানে যান এবং তার আগের দিন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সপ্তাহে আরও কয়েকজন আরব কর্মকর্তা তেহরান সফরের ইঙ্গিত রয়েছে।

কূটনৈতিক এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও ইরানের অবস্থানে পরিবর্তনের কোনো আভাস নেই। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরান থেকে এক গ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও সরানো হবে না। তবে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তদারকিতে ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি।

ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরান-বিরোধী যুদ্ধ শুরু করে। ট্রাম্প প্রশাসন বারবার এই কর্মসূচি ধ্বংসের কথা বললেও, চলতি মাসের শুরুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দেন যে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো গেলে ওয়াশিংটনের দাবি পূরণ হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা একে জাতীয় সম্পদ ও সার্বভৌম অধিকার হিসেবে দেখেন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার আগে ধারণা করেছিল, তেহরানের কাছে ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, একটি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ইউরেনিয়াম ৯০ শতাংশের বেশি সমৃদ্ধ হতে হয়। ২০২৫ সালের হামলার পর ২০২৬ সালেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আরো হামলা চালায়। এতে দেশটির পারমাণবিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আইএইএ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে না পারায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান পরিমাণ, অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশ্লেষক এলি গেরানমায়েহ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ছাড়া ইরান ইউরেনিয়াম ছাড়ার আলোচনায় রাজি হবে না।