লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত ও রাতযাপনে বাধা কাটল, স্বস্তি

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের যাতায়াতের পাশাপাশি রাতযাপনের সুযোগও থাকছে। এই পর্যটন মৌসুমের সময়সীমা ও পর্যটকের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় তাদের আগের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এনেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত সংশোধিত নির্দেশনা জারি করা হয়।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করতে পারবেন এবং এই পুরো সময়কালে দ্বীপে রাতযাপনে কোনো বাধা থাকবে না। এছাড়া দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো মাথায় রেখে এই নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনায় নভেম্বরে দিনের বেলায় গিয়ে একই দিনে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, যা এবার সংশোধন করা হলো। নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপনের গ, ঘ, ঙ ও চ অনুচ্ছেদ আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের আলোকে সংশোধিত হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে নভেম্বরে রাতযাপন নিষিদ্ধ থাকার পুরোনো বিধানটি আর কার্যকর থাকছে না।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর সেন্টমার্টিনে নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে। পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে টিকিট কিনতে হবে, যেখানে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকা বাধ্যতামূলক।

দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কিছু বিধিনিষেধও কঠোরভাবে বহাল রাখা হয়েছে। সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানো নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না। এছাড়া পলিথিন বহন নিষিদ্ধ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে; পর্যটকদের পানির ফ্লাস্ক সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, পুলিশ সুপার ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটিতে ঝুঁকিতে দেশের পাঁচ শতাধিক ওয়েবসাইট

সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত ও রাতযাপনে বাধা কাটল, স্বস্তি

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০১:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের যাতায়াতের পাশাপাশি রাতযাপনের সুযোগও থাকছে। এই পর্যটন মৌসুমের সময়সীমা ও পর্যটকের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় তাদের আগের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এনেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত সংশোধিত নির্দেশনা জারি করা হয়।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করতে পারবেন এবং এই পুরো সময়কালে দ্বীপে রাতযাপনে কোনো বাধা থাকবে না। এছাড়া দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো মাথায় রেখে এই নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনায় নভেম্বরে দিনের বেলায় গিয়ে একই দিনে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, যা এবার সংশোধন করা হলো। নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপনের গ, ঘ, ঙ ও চ অনুচ্ছেদ আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের আলোকে সংশোধিত হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে নভেম্বরে রাতযাপন নিষিদ্ধ থাকার পুরোনো বিধানটি আর কার্যকর থাকছে না।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর সেন্টমার্টিনে নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে। পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে টিকিট কিনতে হবে, যেখানে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকা বাধ্যতামূলক।

দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কিছু বিধিনিষেধও কঠোরভাবে বহাল রাখা হয়েছে। সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানো নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না। এছাড়া পলিথিন বহন নিষিদ্ধ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে; পর্যটকদের পানির ফ্লাস্ক সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, পুলিশ সুপার ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।