লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রকে ফাঁকি দিয়ে ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনল ইরান

মার্কিন নৌ অবরোধ এবং কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা সত্ত্বেও ইরান তার সামরিক শক্তি সংগ্রহের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে ফাঁকি দিয়ে দেশটি গত ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। এই আমদানির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি ছদ্মবেশী সংস্থা।

এই সংস্থাগুলো বিশ্বজুড়ে একটি অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক-আর্থিক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। ২০১৬ সাল থেকেই শিপিং নথিপত্রে তাদের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এছাড়া ইরানের প্রভাবশালী ব্যবসায়িক কনগ্লোমারেট ‘বনিয়াদ’ও এই প্রক্রিয়ায় জড়িত। মূলত এই গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই আইআরজিসি হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের পরও তাদের মজুত অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছে।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১৮ মাসে ‘এমওডি ৩৪৬৪২৮’ নামক একটি সংস্থা বিপুল পরিমাণ রকেটের জ্বালানি, বিস্ফোরক, অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম ভারী ট্রাক আমদানি করেছে। এই সরঞ্জামগুলো চীন, রাশিয়া এবং জার্মানি থেকে স্থল, নৌ ও আকাশপথে ইরানে আনা হয়েছে। হাজার হাজার ব্যাংক নথি ও কোম্পানির তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে যে, এই গোপন সংস্থাগুলোর বেশিরভাগই ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও কাগজে-কলমে তাদের প্রতিষ্ঠার তারিখ ১৯৭৯ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এই নেটওয়ার্কটি একদল ফ্রন্টম্যান এবং বিদেশি শেল কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যাদের ‘ট্রাস্টি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। অবৈধ তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহার করে তারা এই সামরিক সরঞ্জামগুলো ক্রয় করছে। মার্কিন অর্থ বিভাগের এক সাবেক কর্মকর্তার মতে, এটি ইরানের সামরিক বাণিজ্যের একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম। এই অস্ত্র আমদানি নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করছে, যা তাদের মার্কিন সামরিক হামলা মোকাবিলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় সুনির্দিষ্ট আক্রমণ চালাতে সাহায্য করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলের সরকার গঠনে চাবিকাঠি এখন আরব দলগুলোর হাতে

যুক্তরাষ্ট্রকে ফাঁকি দিয়ে ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনল ইরান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন নৌ অবরোধ এবং কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা সত্ত্বেও ইরান তার সামরিক শক্তি সংগ্রহের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে ফাঁকি দিয়ে দেশটি গত ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। এই আমদানির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি ছদ্মবেশী সংস্থা।

এই সংস্থাগুলো বিশ্বজুড়ে একটি অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক-আর্থিক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। ২০১৬ সাল থেকেই শিপিং নথিপত্রে তাদের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এছাড়া ইরানের প্রভাবশালী ব্যবসায়িক কনগ্লোমারেট ‘বনিয়াদ’ও এই প্রক্রিয়ায় জড়িত। মূলত এই গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই আইআরজিসি হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের পরও তাদের মজুত অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছে।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১৮ মাসে ‘এমওডি ৩৪৬৪২৮’ নামক একটি সংস্থা বিপুল পরিমাণ রকেটের জ্বালানি, বিস্ফোরক, অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম ভারী ট্রাক আমদানি করেছে। এই সরঞ্জামগুলো চীন, রাশিয়া এবং জার্মানি থেকে স্থল, নৌ ও আকাশপথে ইরানে আনা হয়েছে। হাজার হাজার ব্যাংক নথি ও কোম্পানির তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে যে, এই গোপন সংস্থাগুলোর বেশিরভাগই ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও কাগজে-কলমে তাদের প্রতিষ্ঠার তারিখ ১৯৭৯ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এই নেটওয়ার্কটি একদল ফ্রন্টম্যান এবং বিদেশি শেল কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যাদের ‘ট্রাস্টি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। অবৈধ তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহার করে তারা এই সামরিক সরঞ্জামগুলো ক্রয় করছে। মার্কিন অর্থ বিভাগের এক সাবেক কর্মকর্তার মতে, এটি ইরানের সামরিক বাণিজ্যের একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম। এই অস্ত্র আমদানি নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করছে, যা তাদের মার্কিন সামরিক হামলা মোকাবিলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় সুনির্দিষ্ট আক্রমণ চালাতে সাহায্য করছে।