লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলের নির্বাচনে অচলাবস্থা: সরকার গঠনের চারটি সম্ভাব্য পথ

ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি লিকুদ পার্টির জোট কিংবা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টির জোট, কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়নি। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে দেশটিতে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর্যন্ত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করতে পারে। যদি দলগুলোর নেতারা আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে না পারেন, তবে ইসরাইলিদের আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে।

সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি পথ হলো বিরোধী দলগুলোর ইহুদি-আরব সহযোগিতায় সরকার গঠন। তবে নাফতালি বেনেট এবং আভিগদর লিবারম্যানের মতো বিরোধী জোটের ডানপন্থি নেতারা আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের ঘোর বিরোধী। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে তাদের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। অতীতে ২০২১ সালে রা’আম দল আট দলের জোট সরকারের অংশ হয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল, কিন্তু সেই সরকার এক বছরের বেশি টেকেনি।

দ্বিতীয়ত, দুই জোট ভেঙে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে নেতানিয়াহু তার বর্তমান জোটের উগ্র ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে বাদ দিতে রাজি হতে পারেন, তবে অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা তার জন্য কঠিন। অন্যদিকে আইজেনকোট নেতানিয়াহুর সঙ্গে জোট গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তৃতীয় সম্ভাবনাটি হলো, বিরোধী শিবির থেকে সদস্য ভাঙিয়ে নিজের জোটের আসনসংখ্যা বাড়ানো। তবে বিরোধী দলের নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠন করবেন না। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে নেতানিয়াহুর জোটের আরও আটটি আসনের প্রয়োজন, যা তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

চতুর্থত, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের মধ্যস্থতায় সরকার গঠন। প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর একজনকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরব দলগুলো আইজেনকোটকে সমর্থন দিলে তিনি প্রথম দায়িত্ব পেতে পারেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর ২৮ দিন সময় পাবেন ওই নেতা এবং প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে তিন ধাপের প্রক্রিয়ায় সমাধান না হলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপাতত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন, তবে আগামী বসন্তের আগে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। যদি অচলাবস্থা কাটাতে ব্যর্থ হয়, তবে আট বছরের মধ্যে ইসরাইলে সপ্তমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রকে ফাঁকি দিয়ে ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনল ইরান

ইসরাইলের নির্বাচনে অচলাবস্থা: সরকার গঠনের চারটি সম্ভাব্য পথ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি লিকুদ পার্টির জোট কিংবা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টির জোট, কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়নি। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে দেশটিতে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর্যন্ত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করতে পারে। যদি দলগুলোর নেতারা আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে না পারেন, তবে ইসরাইলিদের আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে।

সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি পথ হলো বিরোধী দলগুলোর ইহুদি-আরব সহযোগিতায় সরকার গঠন। তবে নাফতালি বেনেট এবং আভিগদর লিবারম্যানের মতো বিরোধী জোটের ডানপন্থি নেতারা আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের ঘোর বিরোধী। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে তাদের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। অতীতে ২০২১ সালে রা’আম দল আট দলের জোট সরকারের অংশ হয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল, কিন্তু সেই সরকার এক বছরের বেশি টেকেনি।

দ্বিতীয়ত, দুই জোট ভেঙে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে নেতানিয়াহু তার বর্তমান জোটের উগ্র ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে বাদ দিতে রাজি হতে পারেন, তবে অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা তার জন্য কঠিন। অন্যদিকে আইজেনকোট নেতানিয়াহুর সঙ্গে জোট গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তৃতীয় সম্ভাবনাটি হলো, বিরোধী শিবির থেকে সদস্য ভাঙিয়ে নিজের জোটের আসনসংখ্যা বাড়ানো। তবে বিরোধী দলের নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠন করবেন না। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে নেতানিয়াহুর জোটের আরও আটটি আসনের প্রয়োজন, যা তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

চতুর্থত, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের মধ্যস্থতায় সরকার গঠন। প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর একজনকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরব দলগুলো আইজেনকোটকে সমর্থন দিলে তিনি প্রথম দায়িত্ব পেতে পারেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর ২৮ দিন সময় পাবেন ওই নেতা এবং প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে তিন ধাপের প্রক্রিয়ায় সমাধান না হলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপাতত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন, তবে আগামী বসন্তের আগে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। যদি অচলাবস্থা কাটাতে ব্যর্থ হয়, তবে আট বছরের মধ্যে ইসরাইলে সপ্তমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন হতে পারে।