লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুকে সরাতে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে হাত মেলানোর ইঙ্গিত আরব জোটের

ইসরায়েলের উগ্র ইহুদিবাদী ও যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে দেশটির বিরোধী জোট ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর সঙ্গে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন আরব ইসরায়েলি নেতা আহমাদ তিবি। তিনি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের সদস্য এবং আরব সদস্যদের নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট পার্লামেন্টারি ব্লকের প্রধান। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া শুরু হবে নেসেটের স্পিকার আমির ওহানাকে সরানোর মাধ্যমে।

আনাদোলু এজেন্সির কাছে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে আহমাদ তিবি বলেন, ‘আরব নাগরিকদের বিপুল অংশগ্রহণ জয়েন্ট লিস্টের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। জনসাধারণের ঐক্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জয়েন্ট লিস্ট প্রমাণ করেছে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তাদের ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহু ও বেন-গভির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আমরা চেঞ্জ ব্লকের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি।’

তিবির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বুধবার ভোরে তাইব শহরে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন। তিনি বলেন, ‘উগ্র ইহুদিবাদী ও সন্ত্রাসী বেন-গভির আর পুলিশমন্ত্রী থাকবেন না। তাঁর সময় শেষ হয়ে এসেছে।’ এ সময় তিবি অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা এবং ভোটদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও আরব ভোটারদের কণ্ঠস্বর ছিল সবচেয়ে জোরালো।

নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর জোট ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে পারে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে ৭টি কম। টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেতে পারে। এর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রা’আম) সাতটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের একটি বড় অংশ ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের সময় থেকে সেখানে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের বংশধর। তারা দীর্ঘদিন ধরে আবাসনসংক্রান্ত বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হয়ে আসছেন। নির্বাচন প্রচারের সময় নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে আরববিদ্বেষী মনোভাব প্রদর্শন করায় এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি বর্তমান সরকারের নীতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে এবার রেকর্ডসংখ্যক আরব ভোটার ভোট দিয়েছেন। আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট, যিনি মিজরাহি-মরোক্কান বংশোদ্ভূত। ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ইহুদিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে আইজেনকটের বেড়ে ওঠা রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রের বাইরে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর তিনি নেতানিয়াহুর জরুরি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেও, যুদ্ধ-পরবর্তী কৌশল না থাকায় ২০২৪ সালের জুনে পদত্যাগ করেন। গাজা যুদ্ধে নিজের ২৫ বছর বয়সী ছেলে গাল এবং দুই ভাতিজাকে হারানোর পর আইজেনকট রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ইদিয়োথ আহরোনথ পত্রিকায় তিনি লিখেছিলেন, ‘গালের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি শপথ করেছিলাম, সে ও তার বন্ধুরা যে মূল্য দিয়েছে, তা বৃথা যেতে দেব না।’

জনপ্রিয় সংবাদ

তাহসিফ সৌরিকে হত্যা করা হয়েছে, দাবি বাবার

নেতানিয়াহুকে সরাতে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে হাত মেলানোর ইঙ্গিত আরব জোটের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের উগ্র ইহুদিবাদী ও যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে দেশটির বিরোধী জোট ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর সঙ্গে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন আরব ইসরায়েলি নেতা আহমাদ তিবি। তিনি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের সদস্য এবং আরব সদস্যদের নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট পার্লামেন্টারি ব্লকের প্রধান। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া শুরু হবে নেসেটের স্পিকার আমির ওহানাকে সরানোর মাধ্যমে।

আনাদোলু এজেন্সির কাছে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে আহমাদ তিবি বলেন, ‘আরব নাগরিকদের বিপুল অংশগ্রহণ জয়েন্ট লিস্টের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। জনসাধারণের ঐক্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জয়েন্ট লিস্ট প্রমাণ করেছে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তাদের ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহু ও বেন-গভির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আমরা চেঞ্জ ব্লকের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি।’

তিবির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বুধবার ভোরে তাইব শহরে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন। তিনি বলেন, ‘উগ্র ইহুদিবাদী ও সন্ত্রাসী বেন-গভির আর পুলিশমন্ত্রী থাকবেন না। তাঁর সময় শেষ হয়ে এসেছে।’ এ সময় তিবি অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা এবং ভোটদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও আরব ভোটারদের কণ্ঠস্বর ছিল সবচেয়ে জোরালো।

নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর জোট ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে পারে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে ৭টি কম। টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেতে পারে। এর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রা’আম) সাতটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের একটি বড় অংশ ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের সময় থেকে সেখানে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের বংশধর। তারা দীর্ঘদিন ধরে আবাসনসংক্রান্ত বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হয়ে আসছেন। নির্বাচন প্রচারের সময় নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে আরববিদ্বেষী মনোভাব প্রদর্শন করায় এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি বর্তমান সরকারের নীতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে এবার রেকর্ডসংখ্যক আরব ভোটার ভোট দিয়েছেন। আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট, যিনি মিজরাহি-মরোক্কান বংশোদ্ভূত। ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ইহুদিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে আইজেনকটের বেড়ে ওঠা রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রের বাইরে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর তিনি নেতানিয়াহুর জরুরি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেও, যুদ্ধ-পরবর্তী কৌশল না থাকায় ২০২৪ সালের জুনে পদত্যাগ করেন। গাজা যুদ্ধে নিজের ২৫ বছর বয়সী ছেলে গাল এবং দুই ভাতিজাকে হারানোর পর আইজেনকট রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ইদিয়োথ আহরোনথ পত্রিকায় তিনি লিখেছিলেন, ‘গালের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি শপথ করেছিলাম, সে ও তার বন্ধুরা যে মূল্য দিয়েছে, তা বৃথা যেতে দেব না।’