লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউজিসির সিদ্ধান্তে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৮ কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২৬৮ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক (ডে লেবার) ও থোক বরাদ্দের কর্মচারীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনার আলোকেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। গত ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৬তম সিন্ডিকেট সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসির অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকা সত্ত্বেও বিশেষ বিবেচনায় বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক ও থোক বরাদ্দে এসব কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের একটি অংশ পোষ্য কোটায় চাকরি পান। নিরাপত্তা প্রহরী, মালী, অফিস সহকারী, ক্লিনার, সুইপার, পিয়ন এবং অডিটোরিয়ামসহ বিভিন্ন স্থাপনার পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে তিন শতাধিক কর্মী দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা হাজিরা ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এদের অনেকে স্থায়ী নিয়োগের আশায় ১০ থেকে ২০ বছর ধরে কাজ করছেন। তবে ইউজিসি থেকে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল না থাকায় তাঁদের ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নেয় প্রশাসন।

এসব কর্মচারীদের নিয়োগের বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা ও আর্থিক প্রভাব খতিয়ে দেখতে গত ২০ জুন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এবং উপ-উপাচার্য ড. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কোনো লিখিত নোটিশ না দিয়ে সরাসরি ভাইভা গ্রহণের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় ছাঁটাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা। ছাঁটাইয়ের শিকার ইমতিয়াজ আহমেদ অন্তু বলেন, ‘‘আমাদের সাথে ইবি প্রসাশন গাদ্দারী করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রম দিয়েছি। আমাদেরকে মানবিক দিক দিয়ে বিবেচনা করলেও করত। তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই আমাদেরকে সরাসরি ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা হাইকোর্ট পর্যন্ত রিট করেছি। তবে রিট চলমান অবস্থায় কিভাবে ছাটাই করে জানি না। আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো। চূড়ান্ত রায় হাতে পেলে আমাদেরকে আর কারো ক্ষমতা নেই ছাঁটাই করার।’’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান জানান, এটি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ইউজিসির চিঠির ভিত্তিতে সিন্ডিকেটে গৃহীত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। সরকার কিংবা ইউজিসি থেকেও এসব কর্মচারীর ব্যয় বহনের জন্য অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আপাতত তাদের বেতন-ভাতা বহন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’’ তবে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মচারীদের বিগত তিন মাসের বকেয়া বেতন কষ্ট করে হলেও পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

ভবিষ্যৎ নিয়োগ ও জনবল সংকট নিয়ে উপাচার্য স্পষ্ট করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের প্রয়োজনে জনবল সংকট থাকলে চাহিদাপত্র ইউজিসিতে পাঠানো হবে। কমিশন তা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিলে সেই অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। প্রশাসন এখন সেই প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে এবং এতে বর্তমানে বাদ পড়া কর্মচারীদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার চেষ্টা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউজিসির সিদ্ধান্তে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৮ কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত

ইউজিসির সিদ্ধান্তে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৮ কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২৬৮ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক (ডে লেবার) ও থোক বরাদ্দের কর্মচারীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনার আলোকেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। গত ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৬তম সিন্ডিকেট সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসির অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকা সত্ত্বেও বিশেষ বিবেচনায় বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক ও থোক বরাদ্দে এসব কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের একটি অংশ পোষ্য কোটায় চাকরি পান। নিরাপত্তা প্রহরী, মালী, অফিস সহকারী, ক্লিনার, সুইপার, পিয়ন এবং অডিটোরিয়ামসহ বিভিন্ন স্থাপনার পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে তিন শতাধিক কর্মী দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা হাজিরা ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এদের অনেকে স্থায়ী নিয়োগের আশায় ১০ থেকে ২০ বছর ধরে কাজ করছেন। তবে ইউজিসি থেকে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল না থাকায় তাঁদের ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নেয় প্রশাসন।

এসব কর্মচারীদের নিয়োগের বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা ও আর্থিক প্রভাব খতিয়ে দেখতে গত ২০ জুন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এবং উপ-উপাচার্য ড. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কোনো লিখিত নোটিশ না দিয়ে সরাসরি ভাইভা গ্রহণের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় ছাঁটাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা। ছাঁটাইয়ের শিকার ইমতিয়াজ আহমেদ অন্তু বলেন, ‘‘আমাদের সাথে ইবি প্রসাশন গাদ্দারী করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রম দিয়েছি। আমাদেরকে মানবিক দিক দিয়ে বিবেচনা করলেও করত। তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই আমাদেরকে সরাসরি ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা হাইকোর্ট পর্যন্ত রিট করেছি। তবে রিট চলমান অবস্থায় কিভাবে ছাটাই করে জানি না। আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো। চূড়ান্ত রায় হাতে পেলে আমাদেরকে আর কারো ক্ষমতা নেই ছাঁটাই করার।’’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান জানান, এটি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ইউজিসির চিঠির ভিত্তিতে সিন্ডিকেটে গৃহীত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। সরকার কিংবা ইউজিসি থেকেও এসব কর্মচারীর ব্যয় বহনের জন্য অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আপাতত তাদের বেতন-ভাতা বহন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’’ তবে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মচারীদের বিগত তিন মাসের বকেয়া বেতন কষ্ট করে হলেও পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

ভবিষ্যৎ নিয়োগ ও জনবল সংকট নিয়ে উপাচার্য স্পষ্ট করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের প্রয়োজনে জনবল সংকট থাকলে চাহিদাপত্র ইউজিসিতে পাঠানো হবে। কমিশন তা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিলে সেই অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। প্রশাসন এখন সেই প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে এবং এতে বর্তমানে বাদ পড়া কর্মচারীদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার চেষ্টা করা হবে।