লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চবির হীরক জয়ন্তী সর্বজনীন করতে ছাত্রশিবিরের ১২ দফা দাবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আসন্ন হীরক জয়ন্তী উদযাপনকে শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক, সুশৃঙ্খল ও সর্বজনীন করার লক্ষ্যে ১২ দফা দাবি পেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চবি শাখা। আগামী ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এ উদযাপনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এসব প্রস্তাবনা লিখিত আকারে তুলে ধরা হয়।

গত ৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সেক্রেটারি হাবিব উল্লাহ খালেদ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং হীরক জয়ন্তী আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বরাবর পেশ করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে ক্যাম্পাস ও উৎসবের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও যাতায়াত সুবিধার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে পেশ করা উল্লেখযোগ্য দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে—পুরো ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা, জরুরি পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ও সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা এবং বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকানো। একইসঙ্গে আমন্ত্রিত অ্যালামনাই, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত শাটল ট্রেন ও বাসের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সুশৃঙ্খল পরিবহন ও পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশুদ্ধ পানীয় জল, পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা সচল রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

ইতিহাস সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ছাত্রশিবির দাবি করেছে, জুলাই বিপ্লবে শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন ও হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং আত্মত্যাগের স্মৃতির পাশাপাশি আন্দোলনে চবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদানের ইতিহাস যেন প্রকাশের স্মারক গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একই স্মারক গ্রন্থে চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ইতিহাস এবং চাকসুর সপ্তম ক্যাবিনেটের পরিচিতি রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়াও চাকসুর সাবেক ভিপি, জিএস ও সর্বশেষ ক্যাবিনেটের প্রতিনিধি এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মানজনক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ১৮ নভেম্বরের আগেই প্রস্তাবিত 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ' দৃশ্যমান করার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে সাংস্কৃতিক অংশে দেশাত্মবোধক ও ইসলামী সংগীতের ব্যবস্থা রাখা এবং চট্টগ্রাম জেলার সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিতের দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বিগত দিনে ক্যাম্পাসে হল দখল, খুন, অস্ত্রবাজি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত চিহ্নিত ব্যক্তি এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা যাতে এ অনুষ্ঠানে কোনোভাবে অংশ নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে হীরক জয়ন্তীর আয়োজন আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়েমেনে সৌদি হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত

চবির হীরক জয়ন্তী সর্বজনীন করতে ছাত্রশিবিরের ১২ দফা দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আসন্ন হীরক জয়ন্তী উদযাপনকে শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক, সুশৃঙ্খল ও সর্বজনীন করার লক্ষ্যে ১২ দফা দাবি পেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চবি শাখা। আগামী ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এ উদযাপনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এসব প্রস্তাবনা লিখিত আকারে তুলে ধরা হয়।

গত ৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সেক্রেটারি হাবিব উল্লাহ খালেদ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং হীরক জয়ন্তী আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বরাবর পেশ করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে ক্যাম্পাস ও উৎসবের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও যাতায়াত সুবিধার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে পেশ করা উল্লেখযোগ্য দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে—পুরো ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা, জরুরি পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ও সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা এবং বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকানো। একইসঙ্গে আমন্ত্রিত অ্যালামনাই, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত শাটল ট্রেন ও বাসের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সুশৃঙ্খল পরিবহন ও পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশুদ্ধ পানীয় জল, পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা সচল রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

ইতিহাস সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ছাত্রশিবির দাবি করেছে, জুলাই বিপ্লবে শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন ও হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং আত্মত্যাগের স্মৃতির পাশাপাশি আন্দোলনে চবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদানের ইতিহাস যেন প্রকাশের স্মারক গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একই স্মারক গ্রন্থে চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ইতিহাস এবং চাকসুর সপ্তম ক্যাবিনেটের পরিচিতি রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়াও চাকসুর সাবেক ভিপি, জিএস ও সর্বশেষ ক্যাবিনেটের প্রতিনিধি এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মানজনক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ১৮ নভেম্বরের আগেই প্রস্তাবিত 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ' দৃশ্যমান করার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে সাংস্কৃতিক অংশে দেশাত্মবোধক ও ইসলামী সংগীতের ব্যবস্থা রাখা এবং চট্টগ্রাম জেলার সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিতের দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বিগত দিনে ক্যাম্পাসে হল দখল, খুন, অস্ত্রবাজি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত চিহ্নিত ব্যক্তি এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা যাতে এ অনুষ্ঠানে কোনোভাবে অংশ নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে হীরক জয়ন্তীর আয়োজন আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।