লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনুতাপ প্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মন্তব্য করেন, যারা বছরের পর বছর মানুষ হত্যা, গুম, জুলুম ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের এ দেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী ও আলেম-ওলামাবিরোধী শাসনের মাধ্যমে দেশকে বিপর্যস্ত করে পরিশেষে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই সময়ে আলেম সমাজের ওপর ন্যক্কারজনক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং শাপলা চত্বরে অসংখ্য আলেম-ওলামাকে হত্যা করে পবিত্র মসজিদ রঞ্জিত করা হয়েছে। শাপলা চত্বরের সেই হামলায় শহীদ হওয়া বহু আলেমের নাম ও কবরের ঠিকানা আজ পর্যন্ত জানা যায়নি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে যেখানে ২৩ বছর সময় লেগেছিল, সেখানে বহু মানুষের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে প্রায় ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি মিলেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতামত বা মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরাগমন প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট ও সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর পাশাপাশি গত ১৬-১৭ বছরে অন্তত ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে তিনি নিজেও একজন ভুক্তভোগী ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৭ হাজার মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হন এবং লাখ লাখ সাধারণ মানুষকে মিথ্যা হামলা-মামলার মাধ্যমে হয়রানি করা হয়েছে। সম্প্রতি পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টার নেপথ্যেও পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির ইন্ধন রয়েছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বক্তব্যে ইসলামী রাজনীতির দাবিদার একটি রাজনৈতিক দলের দ্বিমুখী অবস্থানের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা মুখে ইসলামের কথা বললেও দলটির রাজনৈতিক ইশতেহার ও দলিলে শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা বা ইসলামী আইন চালুর কোনো সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নেই। এমনকি তাদের দলীয় মনোগ্রাম ও দলিল থেকে 'আকিমুদ্দীন' শব্দও বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, বিএনপি শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই রাজনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং বিএনপি দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি সর্বজনীন ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী প্রণীত 'জুলাই জাতীয় সনদ' বিএনপি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করবে বলে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সংবিধান থেকে ইসলামী মূল্যবোধের যেসব উপাদান বাদ দিয়েছিল, বিএনপি সেগুলো পুনঃসংযোজন করবে। সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস এবং 'বিসমিল্লাহ' যথাস্থানে পুনঃস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, অহেতুক বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে এবং দেশবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হয়ে ইতিবাচক সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। দেশের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলেমদের মানোন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির এবং বাবুনগর মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। পরবর্তীতে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহাসম্মেলনের মূল অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ও জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাগণ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাহসিফ হত্যা মামলা: রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন বান্ধবী দিশা

আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

অনুতাপ প্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মন্তব্য করেন, যারা বছরের পর বছর মানুষ হত্যা, গুম, জুলুম ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের এ দেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী ও আলেম-ওলামাবিরোধী শাসনের মাধ্যমে দেশকে বিপর্যস্ত করে পরিশেষে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই সময়ে আলেম সমাজের ওপর ন্যক্কারজনক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং শাপলা চত্বরে অসংখ্য আলেম-ওলামাকে হত্যা করে পবিত্র মসজিদ রঞ্জিত করা হয়েছে। শাপলা চত্বরের সেই হামলায় শহীদ হওয়া বহু আলেমের নাম ও কবরের ঠিকানা আজ পর্যন্ত জানা যায়নি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে যেখানে ২৩ বছর সময় লেগেছিল, সেখানে বহু মানুষের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে প্রায় ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি মিলেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতামত বা মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরাগমন প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট ও সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর পাশাপাশি গত ১৬-১৭ বছরে অন্তত ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে তিনি নিজেও একজন ভুক্তভোগী ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৭ হাজার মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হন এবং লাখ লাখ সাধারণ মানুষকে মিথ্যা হামলা-মামলার মাধ্যমে হয়রানি করা হয়েছে। সম্প্রতি পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টার নেপথ্যেও পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির ইন্ধন রয়েছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বক্তব্যে ইসলামী রাজনীতির দাবিদার একটি রাজনৈতিক দলের দ্বিমুখী অবস্থানের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা মুখে ইসলামের কথা বললেও দলটির রাজনৈতিক ইশতেহার ও দলিলে শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা বা ইসলামী আইন চালুর কোনো সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নেই। এমনকি তাদের দলীয় মনোগ্রাম ও দলিল থেকে 'আকিমুদ্দীন' শব্দও বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, বিএনপি শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই রাজনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং বিএনপি দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি সর্বজনীন ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী প্রণীত 'জুলাই জাতীয় সনদ' বিএনপি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করবে বলে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সংবিধান থেকে ইসলামী মূল্যবোধের যেসব উপাদান বাদ দিয়েছিল, বিএনপি সেগুলো পুনঃসংযোজন করবে। সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস এবং 'বিসমিল্লাহ' যথাস্থানে পুনঃস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, অহেতুক বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে এবং দেশবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হয়ে ইতিবাচক সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। দেশের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলেমদের মানোন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির এবং বাবুনগর মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। পরবর্তীতে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহাসম্মেলনের মূল অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ও জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাগণ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন।