লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবদুল আল-সাইয়েদের জয়: আরব বিশ্বে ‘হাবিবি’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ নিয়ে উচ্ছ্বাস

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান থেকে শুরু করে সুদূর মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত আবদুল আল-সাইয়েদের নির্বাচনি বিজয় নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। তার এই জয়ের পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতির প্রচলিত শব্দভান্ডারে ‘হাবিবি’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’র মতো আরবি শব্দগুলোর প্রবেশ এবং সেগুলোর ব্যাপক ব্যবহারকে আরব বিশ্ব বেশ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। এপি সূত্রে জানা গেছে, অনেক সমর্থক ‘হাবিবি ফর আবদুল’ লেখা টি-শার্ট পরে তার জয় উদ্‌যাপন করেছেন।

নির্বাচনি প্রচারের সময় বিভিন্ন ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের মুখে পড়লেও আল-সাইয়েদ তা উপেক্ষা করে নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও মিসরীয় ঐতিহ্যকে সাহসের সঙ্গে সামনে তুলে ধরেন। তিনি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেন এবং ডানপন্থি সমালোচকদের পাল্টা জবাব দিতে পিছপা হননি। বিজয়ী ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ‘জেডি, হাবিবি’ বলে সম্বোধন করে তিনি এক ধরনের মৃদু রসবোধের পরিচয় দেন, যা আরব বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এর আগে ভ্যান্স সতর্ক করেছিলেন যে আল-সাইয়েদ সিনেটর হলে ডেট্রয়েট শহর দাঙ্গাকারীদের কবলে পড়বে। সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আল-সাইয়েদ বলেন, এটি অত্যন্ত মজার যে সংবিধান অনুযায়ী আগামী জানুয়ারিতে আপনাকেই আমাকে শপথ পড়াতে হবে।

‘হাবিবি’ শব্দটি আরবি ভাষায় মূলত ভালোবাসা ও স্নেহ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা আরব পপসংগীতেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। অন্যদিকে, আল-সাইয়েদ তার প্রচারণার ক্ষেত্রে ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটিকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’তে রূপান্তরের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান আল-সাইয়েদের এই রসবোধ ও সাহসিকতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রভাব ফেলেছে। অনেকে মিসরের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শিরিন আবদেল ওয়াহাবের গানের ভিডিও শেয়ার করে মজা করে বলেছেন, আল-সাইয়েদ এই গানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় সংগীত বানিয়ে দেবেন।

অতীতের বিভিন্ন সংঘাত ও পশ্চিমা বিশ্বে আরব ও মুসলিমদের নিয়ে তৈরি নেতিবাচক ধারণাগুলোর বিপরীতে আল-সাইয়েদের এই সাফল্য এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। মিসরীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত প্রতিকূলতার মধ্যেও রসবোধ ধরে রাখার বিষয়টি তার এই বিজয়ের মাধ্যমে নতুন করে সামনে এসেছে, যা আরবদের মাঝে এক অভূতপূর্ব আনন্দ বয়ে এনেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে ১৩ হাজার ৮০৪ পিস ইয়াবাসহ সিএনজি চালক আটক

আবদুল আল-সাইয়েদের জয়: আরব বিশ্বে ‘হাবিবি’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ নিয়ে উচ্ছ্বাস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান থেকে শুরু করে সুদূর মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত আবদুল আল-সাইয়েদের নির্বাচনি বিজয় নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। তার এই জয়ের পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতির প্রচলিত শব্দভান্ডারে ‘হাবিবি’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’র মতো আরবি শব্দগুলোর প্রবেশ এবং সেগুলোর ব্যাপক ব্যবহারকে আরব বিশ্ব বেশ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। এপি সূত্রে জানা গেছে, অনেক সমর্থক ‘হাবিবি ফর আবদুল’ লেখা টি-শার্ট পরে তার জয় উদ্‌যাপন করেছেন।

নির্বাচনি প্রচারের সময় বিভিন্ন ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের মুখে পড়লেও আল-সাইয়েদ তা উপেক্ষা করে নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও মিসরীয় ঐতিহ্যকে সাহসের সঙ্গে সামনে তুলে ধরেন। তিনি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেন এবং ডানপন্থি সমালোচকদের পাল্টা জবাব দিতে পিছপা হননি। বিজয়ী ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ‘জেডি, হাবিবি’ বলে সম্বোধন করে তিনি এক ধরনের মৃদু রসবোধের পরিচয় দেন, যা আরব বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এর আগে ভ্যান্স সতর্ক করেছিলেন যে আল-সাইয়েদ সিনেটর হলে ডেট্রয়েট শহর দাঙ্গাকারীদের কবলে পড়বে। সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আল-সাইয়েদ বলেন, এটি অত্যন্ত মজার যে সংবিধান অনুযায়ী আগামী জানুয়ারিতে আপনাকেই আমাকে শপথ পড়াতে হবে।

‘হাবিবি’ শব্দটি আরবি ভাষায় মূলত ভালোবাসা ও স্নেহ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা আরব পপসংগীতেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। অন্যদিকে, আল-সাইয়েদ তার প্রচারণার ক্ষেত্রে ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটিকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’তে রূপান্তরের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান আল-সাইয়েদের এই রসবোধ ও সাহসিকতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রভাব ফেলেছে। অনেকে মিসরের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শিরিন আবদেল ওয়াহাবের গানের ভিডিও শেয়ার করে মজা করে বলেছেন, আল-সাইয়েদ এই গানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় সংগীত বানিয়ে দেবেন।

অতীতের বিভিন্ন সংঘাত ও পশ্চিমা বিশ্বে আরব ও মুসলিমদের নিয়ে তৈরি নেতিবাচক ধারণাগুলোর বিপরীতে আল-সাইয়েদের এই সাফল্য এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। মিসরীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত প্রতিকূলতার মধ্যেও রসবোধ ধরে রাখার বিষয়টি তার এই বিজয়ের মাধ্যমে নতুন করে সামনে এসেছে, যা আরবদের মাঝে এক অভূতপূর্ব আনন্দ বয়ে এনেছে।