লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেরামতের এক সপ্তাহের মধ্যেই ধসে পড়ল সড়ক, নাওডাঙ্গায় জনদুর্ভোগ চরমে; কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন

মেরামতের এক সপ্তাহের মধ্যেই ধসে পড়ল সড়ক, নাওডাঙ্গায় জনদুর্ভোগ চরমে; কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি:
মোঃ আলমগীর হোসাইন

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আদর্শ স্কুল পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি সংস্কারের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ধসে পড়েছে। এতে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কারকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সরকারি অর্থায়নে সড়কটির মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সড়কের একটি অংশ ভেঙে ধসে পড়ে। এতে এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ না করা এবং তদারকির ঘাটতির কারণেই সড়কটি এত অল্প সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে ধসে যাওয়া অংশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। একই সঙ্গে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি চোখে না পড়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যদি মেরামতের এক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মান ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং টেকসইভাবে পুনরায় সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত এবং কার্যকর তদারকি না থাকলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জনভোগান্তি বাড়তেই থাকবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কার, নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নিম্নমানের কাজের পুনরাবৃত্তি না হয়।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

দেবহাটায় ১০০ কেজি জেলি-পুশকৃত চিংড়ি জব্দ, তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মেরামতের এক সপ্তাহের মধ্যেই ধসে পড়ল সড়ক, নাওডাঙ্গায় জনদুর্ভোগ চরমে; কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

মেরামতের এক সপ্তাহের মধ্যেই ধসে পড়ল সড়ক, নাওডাঙ্গায় জনদুর্ভোগ চরমে; কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি:
মোঃ আলমগীর হোসাইন

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আদর্শ স্কুল পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি সংস্কারের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ধসে পড়েছে। এতে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কারকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সরকারি অর্থায়নে সড়কটির মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সড়কের একটি অংশ ভেঙে ধসে পড়ে। এতে এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ না করা এবং তদারকির ঘাটতির কারণেই সড়কটি এত অল্প সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে ধসে যাওয়া অংশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। একই সঙ্গে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি চোখে না পড়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যদি মেরামতের এক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মান ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং টেকসইভাবে পুনরায় সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত এবং কার্যকর তদারকি না থাকলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জনভোগান্তি বাড়তেই থাকবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কার, নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নিম্নমানের কাজের পুনরাবৃত্তি না হয়।