লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢিল ছুড়ে মশার ওষুধ বাছাই, আজ নকডাউন পরীক্ষা

উড়ন্ত মশা নিধনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ম্যালাথিয়ন ব্যবহার করে। ঠিকাদারের সরবরাহ করা এই ওষুধ গ্রহণ ও ব্যবহারের আগে বুধবার গাবতলীতে মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে ডিএনসিসি। শত শত ড্রামভর্তি মশার ওষুধের মধ্য থেকে ইটের টুকরা ছুড়ে একটি ড্রাম বেছে নেওয়া হয়। যে ড্রামে ইটের টুকরা পড়ল, সেটি খুলে নেওয়া হলো ওষুধের নমুনা। সেই ওষুধ ভরা হলো ফগার মেশিনে। এরপর জালের বাক্সে আটকে রাখা মশার ওপর দেওয়া হলো ধোঁয়া।

ধোঁয়া দেওয়ার পর অপেক্ষা করা হয় ২০ মিনিট। এরপর করা হয় নকডাউন পরীক্ষা। জালের বাক্সে থাকা প্রায় সব মশাই নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে দেখা যায়। শুধু একটি বাক্সে দুটি মশাকে তখনো ওড়াউড়ি করতে দেখা যায়। তবে ২০ মিনিট পরের এই পরীক্ষাই চূড়ান্ত নয়। ওষুধের প্রভাবে কত মশা মারা যায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২৪ ঘণ্টা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই পরীক্ষা করা হবে।

এ ছাড়া দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাছাই করা ওষুধের নমুনা আরও দুই জায়গায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। একটি নমুনা যাবে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর)। সেখানে পরীক্ষাগারে ওষুধটির কার্যকারিতা বা বায়ো-ইফিক্যাসি পরীক্ষা করা হবে। অন্য নমুনা যাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ে। সেখানে কীটনাশকের সক্রিয় উপাদান ও রাসায়নিক গঠন নির্ধারিত মান অনুযায়ী আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। উল্লেখ্য, এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে কিউলেক্স মশার ওপর।

বুধবার বিকেলে গাবতলীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাঁচাবাজারের নির্ধারিত জায়গায় গিয়ে দেখা যায়, উত্তর পাশের ভবনের সামনে সারি সারি ড্রাম সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ঠিকাদারকে ছয় লাখ লিটার মশার ওষুধ ম্যালাথিয়ন সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে দুই লাখ লিটার সরবরাহ করা হয়েছে। ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার এক হাজার ড্রামে রাখা হয়েছে ওই ওষুধ।

সারি করে রাখা ড্রামগুলোর মধ্য থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রথমে ইটের টুকরা ছোড়েন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক কে এম কাওছার হোসেন। ইটের টুকরাটি যে ড্রামে গিয়ে পড়ে, সেটি খুলে সেখান থেকে ওষুধের নমুনা নেওয়া হয়। একইভাবে আরও দুটি ড্রাম বাছাই করেন আইইডিসিআরের মেডিক্যাল অফিসার মাইনুল হাসান ও ঢাকা উত্তর সিটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আশরাফুল আলম। এভাবে তিনটি ভিন্ন ড্রাম থেকে ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে তিনটি নমুনা আলাদা তিনটি ফগার মেশিনে ভরা হয়।

এর আগে জাল দিয়ে মোড়ানো চতুর্ভুজ আকৃতির বাক্সে আটকে রাখা হয়েছিল মশা। তিনটি ভিন্ন ড্রাম থেকে নেওয়া প্রতিটি নমুনার জন্য রাখা হয় তিনটি করে বাক্স। সব মিলিয়ে ছিল ৯টি বাক্স। প্রতিটি বাক্সে ছিল ৫০টি করে মশা। বাক্সগুলো আলাদা জায়গায় রাখা হয়। এরপর একে একে তিনটি নমুনা দিয়ে ফগার মেশিনের সাহায্যে বাক্সগুলোর চারপাশে ধোঁয়া দেওয়া হয়। ফগার মেশিন থেকে বাক্সের দূরত্ব ছিল চার ফুট। মশককর্মীরা স্বাভাবিক সময়ে যেভাবে হেঁটে হেঁটে ফগিং করেন, একইভাবে নির্ধারিত দূরত্ব থেকে প্রতিটি বাক্সে একবার করে ধোঁয়া দেওয়া হয়।

ধোঁয়া দেওয়ার পর অপেক্ষা করা হয় ২০ মিনিট। এরপর করা হয় নকডাউন পরীক্ষা। অর্থাৎ কীটনাশক প্রয়োগের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কতগুলো মশা নিস্তেজ হয়েছে, এই পরীক্ষায় তা দেখা হয়। ২০ মিনিট পর প্রথম নমুনা প্রয়োগ করা তিনটি বাক্স পরীক্ষা করে দেখা যায়, দুটিতে থাকা সব মশাই নিস্তেজ হয়ে নিচে পড়ে আছে। কয়েকটি মশা সামান্য নড়াচড়া করছিল। অন্য বাক্সটিতে দুটি মশাকে তখনো উড়তে দেখা যায়। পরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় নমুনা প্রয়োগ করা ছয়টি বাক্সও পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, ছয়টি বাক্সের সব কটিতেই মশাগুলো নিস্তেজ হয়ে নিচে পড়ে আছে।

কীটনাশকের প্রভাবে ঠিক কত মশা মারা যায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২৪ ঘণ্টা। আগামীকাল বিকেলে মশার মৃত্যুর হার পরীক্ষা বা মর্টালিটি টেস্ট করা হবে। এ জন্য নমুনা প্রয়োগ করা বাক্সগুলো আলাদা কক্ষে রাখা হবে। এর আগে বাক্সগুলোর ভেতরে বাটিতে গ্লুকোজ মিশ্রিত খাবার দেওয়া হবে। এর উদ্দেশ্য, কোনো মশা যদি কীটনাশকের প্রভাবে না মরে, তাহলে যেন খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে।

পরীক্ষার ফল তুলনা করার জন্য রাখা হয়েছে আরও তিনটি নিয়ন্ত্রণ খাঁচা। এসব খাঁচায় কোনো কীটনাশক প্রয়োগ করা হবে না। স্বাভাবিক পরিবেশে মশাগুলোকে খাবার দিয়ে রাখা হবে। এতে কীটনাশকের সংস্পর্শ ছাড়া মশার স্বাভাবিক মৃত্যুর হার কত, তা বোঝা যাবে। ওষুধের নমুনা প্রয়োগের আগেই নিয়ন্ত্রণ খাঁচা তিনটি আলাদা একটি কক্ষে রাখা হয়। সেখানেও মশাগুলোকে খাবার দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ঠিকাদার যে ওষুধ সরবরাহ করেছে, সেটির মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। এই পরীক্ষার তিনটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে মাঠপর্যায়ে ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। এরপর আইইডিসিআরে পরীক্ষাগারে ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। আর ওষুধে সক্রিয় উপাদান কত শতাংশ রয়েছে, তা পরীক্ষা করা হবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ে। এই তিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই ওষুধটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। দৈবচয়নের ভিত্তিতে যেকোনো একটি ড্রাম থেকে ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। একই সঙ্গে ড্রামের ভেতরে নির্ধারিত পরিমাণে ওষুধ আছে কি না, সেটিও দেখা হয়। এরপর ওই নমুনা খাঁচায় আটকে রাখা মশার ওপর প্রয়োগ করা হয়।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পরীক্ষার জন্য মশাগুলো লার্ভা অবস্থায় ঢাকা শহরের বাইরে থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারণ, ঢাকা শহর থেকে মশা সংগ্রহ করলে সেগুলো আগে থেকেই কীটনাশকের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থাকে। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল ওষুধটির প্রকৃত কার্যকারিতা যথাযথভাবে তুলে না-ও ধরতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে আগস্টে রেকর্ড ২৫.৬৫% প্রবৃদ্ধি

ঢিল ছুড়ে মশার ওষুধ বাছাই, আজ নকডাউন পরীক্ষা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উড়ন্ত মশা নিধনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ম্যালাথিয়ন ব্যবহার করে। ঠিকাদারের সরবরাহ করা এই ওষুধ গ্রহণ ও ব্যবহারের আগে বুধবার গাবতলীতে মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে ডিএনসিসি। শত শত ড্রামভর্তি মশার ওষুধের মধ্য থেকে ইটের টুকরা ছুড়ে একটি ড্রাম বেছে নেওয়া হয়। যে ড্রামে ইটের টুকরা পড়ল, সেটি খুলে নেওয়া হলো ওষুধের নমুনা। সেই ওষুধ ভরা হলো ফগার মেশিনে। এরপর জালের বাক্সে আটকে রাখা মশার ওপর দেওয়া হলো ধোঁয়া।

ধোঁয়া দেওয়ার পর অপেক্ষা করা হয় ২০ মিনিট। এরপর করা হয় নকডাউন পরীক্ষা। জালের বাক্সে থাকা প্রায় সব মশাই নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে দেখা যায়। শুধু একটি বাক্সে দুটি মশাকে তখনো ওড়াউড়ি করতে দেখা যায়। তবে ২০ মিনিট পরের এই পরীক্ষাই চূড়ান্ত নয়। ওষুধের প্রভাবে কত মশা মারা যায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২৪ ঘণ্টা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই পরীক্ষা করা হবে।

এ ছাড়া দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাছাই করা ওষুধের নমুনা আরও দুই জায়গায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। একটি নমুনা যাবে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর)। সেখানে পরীক্ষাগারে ওষুধটির কার্যকারিতা বা বায়ো-ইফিক্যাসি পরীক্ষা করা হবে। অন্য নমুনা যাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ে। সেখানে কীটনাশকের সক্রিয় উপাদান ও রাসায়নিক গঠন নির্ধারিত মান অনুযায়ী আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। উল্লেখ্য, এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে কিউলেক্স মশার ওপর।

বুধবার বিকেলে গাবতলীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাঁচাবাজারের নির্ধারিত জায়গায় গিয়ে দেখা যায়, উত্তর পাশের ভবনের সামনে সারি সারি ড্রাম সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ঠিকাদারকে ছয় লাখ লিটার মশার ওষুধ ম্যালাথিয়ন সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে দুই লাখ লিটার সরবরাহ করা হয়েছে। ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার এক হাজার ড্রামে রাখা হয়েছে ওই ওষুধ।

সারি করে রাখা ড্রামগুলোর মধ্য থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রথমে ইটের টুকরা ছোড়েন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক কে এম কাওছার হোসেন। ইটের টুকরাটি যে ড্রামে গিয়ে পড়ে, সেটি খুলে সেখান থেকে ওষুধের নমুনা নেওয়া হয়। একইভাবে আরও দুটি ড্রাম বাছাই করেন আইইডিসিআরের মেডিক্যাল অফিসার মাইনুল হাসান ও ঢাকা উত্তর সিটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আশরাফুল আলম। এভাবে তিনটি ভিন্ন ড্রাম থেকে ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে তিনটি নমুনা আলাদা তিনটি ফগার মেশিনে ভরা হয়।

এর আগে জাল দিয়ে মোড়ানো চতুর্ভুজ আকৃতির বাক্সে আটকে রাখা হয়েছিল মশা। তিনটি ভিন্ন ড্রাম থেকে নেওয়া প্রতিটি নমুনার জন্য রাখা হয় তিনটি করে বাক্স। সব মিলিয়ে ছিল ৯টি বাক্স। প্রতিটি বাক্সে ছিল ৫০টি করে মশা। বাক্সগুলো আলাদা জায়গায় রাখা হয়। এরপর একে একে তিনটি নমুনা দিয়ে ফগার মেশিনের সাহায্যে বাক্সগুলোর চারপাশে ধোঁয়া দেওয়া হয়। ফগার মেশিন থেকে বাক্সের দূরত্ব ছিল চার ফুট। মশককর্মীরা স্বাভাবিক সময়ে যেভাবে হেঁটে হেঁটে ফগিং করেন, একইভাবে নির্ধারিত দূরত্ব থেকে প্রতিটি বাক্সে একবার করে ধোঁয়া দেওয়া হয়।

ধোঁয়া দেওয়ার পর অপেক্ষা করা হয় ২০ মিনিট। এরপর করা হয় নকডাউন পরীক্ষা। অর্থাৎ কীটনাশক প্রয়োগের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কতগুলো মশা নিস্তেজ হয়েছে, এই পরীক্ষায় তা দেখা হয়। ২০ মিনিট পর প্রথম নমুনা প্রয়োগ করা তিনটি বাক্স পরীক্ষা করে দেখা যায়, দুটিতে থাকা সব মশাই নিস্তেজ হয়ে নিচে পড়ে আছে। কয়েকটি মশা সামান্য নড়াচড়া করছিল। অন্য বাক্সটিতে দুটি মশাকে তখনো উড়তে দেখা যায়। পরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় নমুনা প্রয়োগ করা ছয়টি বাক্সও পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, ছয়টি বাক্সের সব কটিতেই মশাগুলো নিস্তেজ হয়ে নিচে পড়ে আছে।

কীটনাশকের প্রভাবে ঠিক কত মশা মারা যায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২৪ ঘণ্টা। আগামীকাল বিকেলে মশার মৃত্যুর হার পরীক্ষা বা মর্টালিটি টেস্ট করা হবে। এ জন্য নমুনা প্রয়োগ করা বাক্সগুলো আলাদা কক্ষে রাখা হবে। এর আগে বাক্সগুলোর ভেতরে বাটিতে গ্লুকোজ মিশ্রিত খাবার দেওয়া হবে। এর উদ্দেশ্য, কোনো মশা যদি কীটনাশকের প্রভাবে না মরে, তাহলে যেন খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে।

পরীক্ষার ফল তুলনা করার জন্য রাখা হয়েছে আরও তিনটি নিয়ন্ত্রণ খাঁচা। এসব খাঁচায় কোনো কীটনাশক প্রয়োগ করা হবে না। স্বাভাবিক পরিবেশে মশাগুলোকে খাবার দিয়ে রাখা হবে। এতে কীটনাশকের সংস্পর্শ ছাড়া মশার স্বাভাবিক মৃত্যুর হার কত, তা বোঝা যাবে। ওষুধের নমুনা প্রয়োগের আগেই নিয়ন্ত্রণ খাঁচা তিনটি আলাদা একটি কক্ষে রাখা হয়। সেখানেও মশাগুলোকে খাবার দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ঠিকাদার যে ওষুধ সরবরাহ করেছে, সেটির মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। এই পরীক্ষার তিনটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে মাঠপর্যায়ে ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। এরপর আইইডিসিআরে পরীক্ষাগারে ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। আর ওষুধে সক্রিয় উপাদান কত শতাংশ রয়েছে, তা পরীক্ষা করা হবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ে। এই তিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই ওষুধটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। দৈবচয়নের ভিত্তিতে যেকোনো একটি ড্রাম থেকে ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। একই সঙ্গে ড্রামের ভেতরে নির্ধারিত পরিমাণে ওষুধ আছে কি না, সেটিও দেখা হয়। এরপর ওই নমুনা খাঁচায় আটকে রাখা মশার ওপর প্রয়োগ করা হয়।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পরীক্ষার জন্য মশাগুলো লার্ভা অবস্থায় ঢাকা শহরের বাইরে থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারণ, ঢাকা শহর থেকে মশা সংগ্রহ করলে সেগুলো আগে থেকেই কীটনাশকের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থাকে। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল ওষুধটির প্রকৃত কার্যকারিতা যথাযথভাবে তুলে না-ও ধরতে পারে।