লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বিদেশযাত্রা নিরাপদ ও দালালমুক্ত করা কেন জরুরি

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা সত্ত্বেও প্রবাসী শ্রমিকদের বিদেশযাত্রার পথ এখনো নিরাপদ, সহজলভ্য ও দালালমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় বিশাল ভূমিকা রাখে। অথচ মাঠপর্যায়ে দালাল বা আদম ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত শোষণ ও প্রতারণার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই ক্ষতি শুধু একজন শ্রমিকের নয়; এটি তার পরিবার ও একটি গ্রামীণ অর্থনীতিরও ক্ষত।১। এই দূরত্ব ঘোচাতে না পারলে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমবে না।

সরকারিভাবে বিএমইটি, বোয়েসেল, ডেমো অফিস, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থাকলেও মাঠের বাস্তবতায় সাধারণ মানুষ দালালদের ওপরই বেশি ভরসা করে। কারণ, দালালরা সরাসরি গ্রামের মানুষের দরজায় সেবা পৌঁছে দেয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বিএমইটির ডেটাবেজগুলো পরস্পর সংযুক্ত নয় এবং সিপিডির ২০২৪ সালের গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৩ সালে ১১ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গেলেও সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে গেছেন মাত্র ১৫ হাজার ২৯৪ জন, অর্থাৎ মোটের মাত্র ১.৩ শতাংশ। এই ব্যবধানই দালালদের সুযোগ করে দেয়, যার ফলে গড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ যেতে হয় শ্রমিকদের, যার বড় অংশই যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।

এই সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কোন দেশে কোন খাতে শ্রমিকের চাহিদা, কোন কোম্পানি সরাসরি কর্মী নিতে আগ্রহী—এসব তথ্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সংগ্রহ করতে হবে।২। লক্ষ্য হবে—নির্বাচিত কর্মী যেন চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদেশে যেতে পারেন।৩। ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট দিনে ভ্রাম্যমাণ সেবা ক্যাম্প করা যেতে পারে।৫। বিদেশযাত্রার আগেই শ্রমিকের পরিবার, নিয়োগকর্তা, কাজের ধরন, বেতন ও দূতাবাস-সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল রেকর্ডে রাখতে হবে, যাতে বিপদে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।৭। সবশেষে, বোয়েসেলকে জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারিত করা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে প্রকৃত শ্রমচাহিদার সাথে যুক্ত করে আধুনিক স্কিল সেন্টারে রূপান্তর করা প্রয়োজন। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণ সরাসরি এই সহায়তা কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। রেমিট্যান্স-যোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি বড় বিনিয়োগ ও নৈতিক কর্তব্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

হেবা ইস্যুতে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর, দাবি ওলামা অ্যালায়েন্সের

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বিদেশযাত্রা নিরাপদ ও দালালমুক্ত করা কেন জরুরি

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৪৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা সত্ত্বেও প্রবাসী শ্রমিকদের বিদেশযাত্রার পথ এখনো নিরাপদ, সহজলভ্য ও দালালমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় বিশাল ভূমিকা রাখে। অথচ মাঠপর্যায়ে দালাল বা আদম ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত শোষণ ও প্রতারণার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই ক্ষতি শুধু একজন শ্রমিকের নয়; এটি তার পরিবার ও একটি গ্রামীণ অর্থনীতিরও ক্ষত।১। এই দূরত্ব ঘোচাতে না পারলে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমবে না।

সরকারিভাবে বিএমইটি, বোয়েসেল, ডেমো অফিস, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থাকলেও মাঠের বাস্তবতায় সাধারণ মানুষ দালালদের ওপরই বেশি ভরসা করে। কারণ, দালালরা সরাসরি গ্রামের মানুষের দরজায় সেবা পৌঁছে দেয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বিএমইটির ডেটাবেজগুলো পরস্পর সংযুক্ত নয় এবং সিপিডির ২০২৪ সালের গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৩ সালে ১১ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গেলেও সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে গেছেন মাত্র ১৫ হাজার ২৯৪ জন, অর্থাৎ মোটের মাত্র ১.৩ শতাংশ। এই ব্যবধানই দালালদের সুযোগ করে দেয়, যার ফলে গড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ যেতে হয় শ্রমিকদের, যার বড় অংশই যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।

এই সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কোন দেশে কোন খাতে শ্রমিকের চাহিদা, কোন কোম্পানি সরাসরি কর্মী নিতে আগ্রহী—এসব তথ্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সংগ্রহ করতে হবে।২। লক্ষ্য হবে—নির্বাচিত কর্মী যেন চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদেশে যেতে পারেন।৩। ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট দিনে ভ্রাম্যমাণ সেবা ক্যাম্প করা যেতে পারে।৫। বিদেশযাত্রার আগেই শ্রমিকের পরিবার, নিয়োগকর্তা, কাজের ধরন, বেতন ও দূতাবাস-সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল রেকর্ডে রাখতে হবে, যাতে বিপদে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।৭। সবশেষে, বোয়েসেলকে জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারিত করা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে প্রকৃত শ্রমচাহিদার সাথে যুক্ত করে আধুনিক স্কিল সেন্টারে রূপান্তর করা প্রয়োজন। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণ সরাসরি এই সহায়তা কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। রেমিট্যান্স-যোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি বড় বিনিয়োগ ও নৈতিক কর্তব্য।